আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ সংক্রান্ত গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক হিসেবে এই নির্বাচনে অংশ নিতে নয়াদিল্লিকে এই আহ্বান জানানো হলেও এখন পর্যন্ত ভারতের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন সাধারণ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ভারত ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাকে পর্যবেক্ষক হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে ভারত তাদের প্রতিনিধিদল পাঠাবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্যমতে, এবারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১৬টি দেশ ও ৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের ৩২ জন ব্যক্তিসহ মোট ৩৩০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আরও কয়েকটি প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির বিতর্কিত সাধারণ নির্বাচনের তুলনায় আসন্ন নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি। নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিতে অন্তর্বর্তী সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে।
আমন্ত্রিত দেশগুলোর তালিকায় ভারতের পাশাপাশি রয়েছে নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, মিশর, ফ্রান্স, কুয়েত, মরক্কো, নাইজেরিয়া ও রোমানিয়া। এসব দেশের বেশ কয়েকটি ইতিমধ্যে তাদের প্রতিনিধিদল চূড়ান্ত করার কাজ শুরু করেছে।
নির্বাচন কমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলগুলোর মধ্যে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (এএনএফআরইএল) থেকে ২৮ জন, কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট থেকে ২৫ জন এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) ও ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই)-এর প্রতিনিধিরা থাকবেন।
এছাড়া ভয়েস ফর জাস্টিস, ডেমোক্র্যাসি ইন্টারন্যাশনাল, এসএনএএস আফ্রিকা, সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন এবং পোলিশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের ৩২ জন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিগত সক্ষমতায় এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই অংশগ্রহণকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টারের নাম 




















