ঢাকা ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

সংস্কার বনাম ফ্যাসিবাদ: জামায়াত আমিরের স্পষ্ট অবস্থান দাবি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৫১:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশবাসীর প্রতি একটি স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ এবং ফ্যাসিবাদের বিপক্ষে ‘না’—এই দুইয়ের মধ্যে কোনটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে কিছু রাজনৈতিক দল জনসম্মুখে নীরবতা পালন করছে। আমরা বিনীতভাবে তাদের কাছে জানতে চাই, আপনারা কি সংস্কারের পক্ষে, নাকি ফ্যাসিবাদের পক্ষে? জনগণের সামনে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করুন। গোপন আলোচনার পরিবর্তে সাহসিকতার সাথে প্রকাশ্যে আপনাদের মত প্রকাশ করুন।”

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) জামালপুর শহরের সিংহজানী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় নারী কর্মীদের বাধা ও লাঞ্ছনার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আমাদের মায়েরা যখন ভোট চাইতে যাচ্ছেন, তখন কিছু দুষ্কৃতকারী তাদের অপমান করছে। যারা মায়ের প্রতি হাত তোলে, তারা কোন ধরনের জীব—মানুষ না অন্য কিছু, তা আমার বোধগম্য নয়। গত কয়েকদিন ধরে যে অরাজকতা চলছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা চাই প্রতিটি দল তাদের নিজস্ব কর্মসূচি নিয়ে জনগণের কাছে যাক। মা-বোনদের অপমান আমরা সহ্য করব না।”

নারী কর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “যদি কোনো দুষ্কৃতকারী আপনাদের কটু কথা বলে, তবে তাদের চোখে চোখ রেখে বলুন—আমি মা, আমি তোমাদের ভয় করি না; আমি কেবল আল্লাহকে ভয় করি।”

আগামী নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, “২০২৬ সালের এই নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়, এটি একটি বাঁক পরিবর্তনের নির্বাচন। এই নির্বাচনটি ২০১৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের ১৪০০ শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা নির্বাচন। এটি সেই আন্দোলনের হাজার হাজার আহতের এবং শহীদ পরিবারগুলোর হাহাকারের নির্বাচন। বিগত ৫৪ বছরে দেশে যে পচা ও নোংরা রাজনীতি ফ্যাসিবাদ তৈরি করেছে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে সেই রাজনীতির অবসান ঘটবে।”

দলের স্বার্থের ঊর্ধ্বে জনস্বার্থকে স্থান দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমি শুধু জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না; আমি চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। এ দেশের মানুষের বিজয় হলেই ইনশাল্লাহ জামায়াতের বিজয় নিশ্চিত হবে। ২০১৪ সালের ছাত্র-জনতা যে স্বপ্ন নিয়ে লড়াই করেছিল, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নই আমাদের মূল অঙ্গীকার।”

তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান নিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের দলের ৬২ শতাংশই যুবক। আমরা যুবকদের বেকার ভাতা দিয়ে অপমানিত করতে চাই না। আমরা তাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দিতে চাই, যাতে তারা সম্মানের সাথে দেশ গড়তে পারে।”

১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “জামালপুরের পাঁচটি আসনেই ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’র পক্ষে জোটের কর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করবেন। দেশের যেখানে যে প্রতীক জোটের প্রার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, সেটি নিয়েই মাঠে থাকতে হবে। আমাদের প্রার্থীরা নেতা হওয়ার জন্য নয়, জনগণের সেবক হওয়ার জন্য লড়াই করবেন।”

অনুষ্ঠান শেষে তিনি জামালপুর জেলার পাঁচটি আসনের প্রার্থীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক তুলে দেন।

জেলা জামায়াতের আমির ও জামালপুর সদর-৫ আসনের প্রার্থী মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল আউয়ালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ড. ছামিউল হক ফারুকী, ডাকসুর সাবেক জিএস এস এম ফরহাদসহ জেলা ও কেন্দ্রীয় জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপে তারকাদের স্বপ্নভঙ্গ: বেঞ্চেই কাটলো অনেকের টুর্নামেন্ট

সংস্কার বনাম ফ্যাসিবাদ: জামায়াত আমিরের স্পষ্ট অবস্থান দাবি

আপডেট সময় : ০৫:৫১:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশবাসীর প্রতি একটি স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ এবং ফ্যাসিবাদের বিপক্ষে ‘না’—এই দুইয়ের মধ্যে কোনটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে কিছু রাজনৈতিক দল জনসম্মুখে নীরবতা পালন করছে। আমরা বিনীতভাবে তাদের কাছে জানতে চাই, আপনারা কি সংস্কারের পক্ষে, নাকি ফ্যাসিবাদের পক্ষে? জনগণের সামনে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করুন। গোপন আলোচনার পরিবর্তে সাহসিকতার সাথে প্রকাশ্যে আপনাদের মত প্রকাশ করুন।”

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) জামালপুর শহরের সিংহজানী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় নারী কর্মীদের বাধা ও লাঞ্ছনার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আমাদের মায়েরা যখন ভোট চাইতে যাচ্ছেন, তখন কিছু দুষ্কৃতকারী তাদের অপমান করছে। যারা মায়ের প্রতি হাত তোলে, তারা কোন ধরনের জীব—মানুষ না অন্য কিছু, তা আমার বোধগম্য নয়। গত কয়েকদিন ধরে যে অরাজকতা চলছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা চাই প্রতিটি দল তাদের নিজস্ব কর্মসূচি নিয়ে জনগণের কাছে যাক। মা-বোনদের অপমান আমরা সহ্য করব না।”

নারী কর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “যদি কোনো দুষ্কৃতকারী আপনাদের কটু কথা বলে, তবে তাদের চোখে চোখ রেখে বলুন—আমি মা, আমি তোমাদের ভয় করি না; আমি কেবল আল্লাহকে ভয় করি।”

আগামী নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, “২০২৬ সালের এই নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়, এটি একটি বাঁক পরিবর্তনের নির্বাচন। এই নির্বাচনটি ২০১৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের ১৪০০ শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা নির্বাচন। এটি সেই আন্দোলনের হাজার হাজার আহতের এবং শহীদ পরিবারগুলোর হাহাকারের নির্বাচন। বিগত ৫৪ বছরে দেশে যে পচা ও নোংরা রাজনীতি ফ্যাসিবাদ তৈরি করেছে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে সেই রাজনীতির অবসান ঘটবে।”

দলের স্বার্থের ঊর্ধ্বে জনস্বার্থকে স্থান দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমি শুধু জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না; আমি চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। এ দেশের মানুষের বিজয় হলেই ইনশাল্লাহ জামায়াতের বিজয় নিশ্চিত হবে। ২০১৪ সালের ছাত্র-জনতা যে স্বপ্ন নিয়ে লড়াই করেছিল, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নই আমাদের মূল অঙ্গীকার।”

তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান নিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের দলের ৬২ শতাংশই যুবক। আমরা যুবকদের বেকার ভাতা দিয়ে অপমানিত করতে চাই না। আমরা তাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দিতে চাই, যাতে তারা সম্মানের সাথে দেশ গড়তে পারে।”

১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “জামালপুরের পাঁচটি আসনেই ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’র পক্ষে জোটের কর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করবেন। দেশের যেখানে যে প্রতীক জোটের প্রার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, সেটি নিয়েই মাঠে থাকতে হবে। আমাদের প্রার্থীরা নেতা হওয়ার জন্য নয়, জনগণের সেবক হওয়ার জন্য লড়াই করবেন।”

অনুষ্ঠান শেষে তিনি জামালপুর জেলার পাঁচটি আসনের প্রার্থীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক তুলে দেন।

জেলা জামায়াতের আমির ও জামালপুর সদর-৫ আসনের প্রার্থী মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল আউয়ালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ড. ছামিউল হক ফারুকী, ডাকসুর সাবেক জিএস এস এম ফরহাদসহ জেলা ও কেন্দ্রীয় জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।