মাদারীপুর পৌর এলাকার বটতলা ও জেলা পরিষদ এলাকায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ব্যাপক ককটেল বিস্ফোরণ ও দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাতে সংঘটিত এই ঘটনায় অন্তত ৩০টি ককটেল ফাটানো হয়, যা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় দুই মাস আগে মাদারীপুর পৌর ঈদগাহ মাঠে শহরের সবুজবাগ ও বটতলা এলাকার কিশোরদের মধ্যে একটি ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে প্রথম সংঘাতের সূত্রপাত হয়। সেই ঘটনার রেশ ধরে শুক্রবার বিকেলে সবুজবাগ এলাকার ফাহিম জমাদ্দারকে বটতলা এলাকার কয়েকজন কিশোর মারধর করে আহত করে।
এই হামলার প্রতিবাদে রাত ৮টার দিকে সবুজবাগ ও বটতলা এলাকার দুই পক্ষ মুখোমুখি হয়। প্রথমে তাদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়, যা দ্রুতই দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও ককটেল নিয়ে এক ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষ একের পর এক ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় এবং আশপাশের বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর করে। ককটেলের শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মাদারীপুর সদর থানা পুলিশ, র্যাব-৮ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আসে এবং এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা হয়।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ এই বিষয়ে জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষই বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
রিপোর্টারের নাম 























