ঢাকা ০৩:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

চৌদ্দগ্রামে জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষ: আহত অন্তত ৮, থমথমে পরিস্থিতি

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর একটি সমাবেশ থেকে ফেরার পথে বাকবিতণ্ডার জেরে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের হাটবাইর গ্রামে সংঘটিত এই ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সোলেমান চৌধুরী, উপজেলা দক্ষিণ শিবির সভাপতি রিফাত সানি, জামায়াত নেতা রবিউল হোসেন রকি, জাকারিয়া রাসেল ও কাজী রাসেল। তাৎক্ষণিকভাবে আহত অন্যদের পরিচয় জানা যায়নি। তাদের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চৌদ্দগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জামায়াতের সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের হাটবাইর গ্রামে পৌঁছালে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের দেখে উসকানিমূলক মন্তব্য করতে শুরু করেন। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় দলের অন্তত আটজন কর্মী আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের নেতাকর্মীরা আমিরে জামায়াতের সমাবেশ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিএনপির অস্ত্রধারী চিহ্নিত সন্ত্রাসী মিজান খান, গাজী ইয়াছিন ও মোবারক চৌধুরীর নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালায়। এই হামলায় আমাদের অন্তত ৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আমরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

তবে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে মিজান খান ও মোবারক চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সোলেমান চৌধুরী জানান, শনিবার দুপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মিজানের বাড়িতে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা সমাবেশ শেষে ফেরার পথে আক্রমণ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির নেতারা এগিয়ে আসলে জামায়াত-শিবির পুনরায় তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তিনি (সোলেমান চৌধুরী) ও তার গাড়িচালক আহত হন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত থানা পুলিশের একটি টিম ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রমাণ করেছে বিএনপি সরকার: অর্থমন্ত্রী

চৌদ্দগ্রামে জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষ: আহত অন্তত ৮, থমথমে পরিস্থিতি

আপডেট সময় : ০৬:৪৮:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর একটি সমাবেশ থেকে ফেরার পথে বাকবিতণ্ডার জেরে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের হাটবাইর গ্রামে সংঘটিত এই ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সোলেমান চৌধুরী, উপজেলা দক্ষিণ শিবির সভাপতি রিফাত সানি, জামায়াত নেতা রবিউল হোসেন রকি, জাকারিয়া রাসেল ও কাজী রাসেল। তাৎক্ষণিকভাবে আহত অন্যদের পরিচয় জানা যায়নি। তাদের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চৌদ্দগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জামায়াতের সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের হাটবাইর গ্রামে পৌঁছালে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের দেখে উসকানিমূলক মন্তব্য করতে শুরু করেন। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় দলের অন্তত আটজন কর্মী আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের নেতাকর্মীরা আমিরে জামায়াতের সমাবেশ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিএনপির অস্ত্রধারী চিহ্নিত সন্ত্রাসী মিজান খান, গাজী ইয়াছিন ও মোবারক চৌধুরীর নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালায়। এই হামলায় আমাদের অন্তত ৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আমরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

তবে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে মিজান খান ও মোবারক চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সোলেমান চৌধুরী জানান, শনিবার দুপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মিজানের বাড়িতে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা সমাবেশ শেষে ফেরার পথে আক্রমণ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির নেতারা এগিয়ে আসলে জামায়াত-শিবির পুনরায় তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তিনি (সোলেমান চৌধুরী) ও তার গাড়িচালক আহত হন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত থানা পুলিশের একটি টিম ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।