ঢাকা ১১:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

বিশিষ্ট কওমি আলেম মুফতি আব্দুর রহমান রাহমানী জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান

দেশের একজন প্রখ্যাত কওমি আলেম মুফতি আব্দুর রহমান রাহমানী আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। শনিবার দুপুরে ঢাকার জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ কার্যালয়ে তিনি সহযোগী সদস্য হিসেবে দলের ফরম পূরণ করেন। এ সময় তাকে দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির বরণ করে নেন।

জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই যোগদান অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, মহানগরী দক্ষিণের ওলামা বিভাগের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা মোশাররফ হোসেন, মুফতি নুরুজ্জামান নোমানীসহ ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের পর মুফতি আব্দুর রহমান রাহমানী বলেন, তিনি পূর্বে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না। তবে দীর্ঘকাল ধরে তিনি দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো একটি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করছিলেন। নিজের ভাবনা ও বাস্তবতার আলোকে তিনি জামায়াতে ইসলামীকে এমন একটি সংগঠন হিসেবে খুঁজে পেয়েছেন, যেখানে হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী একে অপরের প্রতি সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ বিদ্যমান।

তিনি আরও বলেন, কওমি মাদ্রাসা অঙ্গনে বর্তমানে যে সকল সংগঠন সক্রিয় রয়েছে, সেগুলোকে তিনি কিছুটা অসংগঠিত ও ভিত্তিহীন বলে মনে করেন। তার মতে, এসব সংগঠন নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে আন্দোলন করলেও তাদের মধ্যে সামগ্রিক সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল। তিনি অভিযোগ করেন, কওমি মাদ্রাসা ভিত্তিক সংগঠনগুলো অসুস্থ বা ক্ষতিগ্রস্ত কোনো সদস্যের খোঁজখবর রাখে না এবং সেখানে কাজ করার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। এর বিপরীতে, জামায়াতে ইসলামীতে কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি মনে করেন, জামায়াতে ইসলামী তাকে দ্বীন প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর পরিসরে কাজ করার সুযোগ করে দেবে।

মুফতি আব্দুর রহমান রাহমানী জানান, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে কওমি মাদ্রাসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তার অর্ধশতাধিক ছাত্র বর্তমানে বিভিন্ন মাদ্রাসার অধ্যক্ষসহ শিক্ষা সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি তার ছাত্র ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তার এই সিদ্ধান্তে যেন কেউ দুঃখ না পান। তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং দ্বীন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। তিনি তার অনুসারীদেরও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের আহ্বান জানান।

এদিকে, জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির বলেন, জামায়াতে ইসলামী প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর মতো কেবল গতানুগতিক রাজনীতি করে না, বরং এটি একটি মানবিক সংগঠন যা মানুষের কল্যাণে নিবেদিত। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী চারটি মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে কার্যক্রম পরিচালনা করে, যার মধ্যে সমাজ সংস্কার ও সমাজসেবা অন্যতম। দল, মত, ধর্ম, বর্ণ, জাতি-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সমাজের প্রয়োজনে জামায়াত সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে, কারণ তারা বিশ্বাস করে মানুষ হিসেবে আমরা সকলেই এক ও অভিন্ন।

তিনি আরও বলেন, ইসলামের শত্রুরা জামায়াত সম্পর্কে নানা অপপ্রচার চালিয়েছে এবং এখনো চেষ্টা করছে। তবে জামায়াতে ইসলামী তার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে যে এসব অপপ্রচার ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামীর কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট হয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও আজ দলটির দিকে ঝুঁকছে এবং দেশ, জাতি, মানুষ ও ইসলামের জন্য জামায়াতে ইসলামীকে একটি নিরাপদ ও বিশ্বস্ত ঠিকানা হিসেবে বিশ্বাস করছে।

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আরেক নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে যত অপপ্রচার চালানো হোক না কেন, তা দলটির অগ্রযাত্রা থামাতে পারেনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামীতে জামায়াতের নেতৃত্বে এদেশের আলেম-সমাজ জাতির প্রত্যাশিত নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্রদলের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের লাগাম টেনে ধরুন, অন্যথায় পরিণতি ভয়াবহ হবে: জামায়াত

বিশিষ্ট কওমি আলেম মুফতি আব্দুর রহমান রাহমানী জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান

আপডেট সময় : ০৪:৩৯:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের একজন প্রখ্যাত কওমি আলেম মুফতি আব্দুর রহমান রাহমানী আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। শনিবার দুপুরে ঢাকার জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ কার্যালয়ে তিনি সহযোগী সদস্য হিসেবে দলের ফরম পূরণ করেন। এ সময় তাকে দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির বরণ করে নেন।

জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই যোগদান অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, মহানগরী দক্ষিণের ওলামা বিভাগের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা মোশাররফ হোসেন, মুফতি নুরুজ্জামান নোমানীসহ ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের পর মুফতি আব্দুর রহমান রাহমানী বলেন, তিনি পূর্বে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না। তবে দীর্ঘকাল ধরে তিনি দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো একটি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করছিলেন। নিজের ভাবনা ও বাস্তবতার আলোকে তিনি জামায়াতে ইসলামীকে এমন একটি সংগঠন হিসেবে খুঁজে পেয়েছেন, যেখানে হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী একে অপরের প্রতি সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ বিদ্যমান।

তিনি আরও বলেন, কওমি মাদ্রাসা অঙ্গনে বর্তমানে যে সকল সংগঠন সক্রিয় রয়েছে, সেগুলোকে তিনি কিছুটা অসংগঠিত ও ভিত্তিহীন বলে মনে করেন। তার মতে, এসব সংগঠন নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে আন্দোলন করলেও তাদের মধ্যে সামগ্রিক সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল। তিনি অভিযোগ করেন, কওমি মাদ্রাসা ভিত্তিক সংগঠনগুলো অসুস্থ বা ক্ষতিগ্রস্ত কোনো সদস্যের খোঁজখবর রাখে না এবং সেখানে কাজ করার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। এর বিপরীতে, জামায়াতে ইসলামীতে কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি মনে করেন, জামায়াতে ইসলামী তাকে দ্বীন প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর পরিসরে কাজ করার সুযোগ করে দেবে।

মুফতি আব্দুর রহমান রাহমানী জানান, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে কওমি মাদ্রাসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তার অর্ধশতাধিক ছাত্র বর্তমানে বিভিন্ন মাদ্রাসার অধ্যক্ষসহ শিক্ষা সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি তার ছাত্র ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তার এই সিদ্ধান্তে যেন কেউ দুঃখ না পান। তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং দ্বীন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। তিনি তার অনুসারীদেরও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের আহ্বান জানান।

এদিকে, জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির বলেন, জামায়াতে ইসলামী প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর মতো কেবল গতানুগতিক রাজনীতি করে না, বরং এটি একটি মানবিক সংগঠন যা মানুষের কল্যাণে নিবেদিত। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী চারটি মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে কার্যক্রম পরিচালনা করে, যার মধ্যে সমাজ সংস্কার ও সমাজসেবা অন্যতম। দল, মত, ধর্ম, বর্ণ, জাতি-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সমাজের প্রয়োজনে জামায়াত সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে, কারণ তারা বিশ্বাস করে মানুষ হিসেবে আমরা সকলেই এক ও অভিন্ন।

তিনি আরও বলেন, ইসলামের শত্রুরা জামায়াত সম্পর্কে নানা অপপ্রচার চালিয়েছে এবং এখনো চেষ্টা করছে। তবে জামায়াতে ইসলামী তার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে যে এসব অপপ্রচার ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামীর কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট হয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও আজ দলটির দিকে ঝুঁকছে এবং দেশ, জাতি, মানুষ ও ইসলামের জন্য জামায়াতে ইসলামীকে একটি নিরাপদ ও বিশ্বস্ত ঠিকানা হিসেবে বিশ্বাস করছে।

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আরেক নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে যত অপপ্রচার চালানো হোক না কেন, তা দলটির অগ্রযাত্রা থামাতে পারেনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামীতে জামায়াতের নেতৃত্বে এদেশের আলেম-সমাজ জাতির প্রত্যাশিত নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।