ঢাকা ১১:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা ও সহিংসতার অভিযোগ, সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ জামায়াতে ইসলামীর

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় নানামুখী বাধা, নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। শনিবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ উত্থাপন করে সংগঠনটি। একইসঙ্গে, শেরপুরের ঝিনাইগাতিতে দলটির এক নেতাকে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে তারা।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের অভিযোগ করেন যে, দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী প্রচারণার সময় তাদের নেতাকর্মীদের ওপর আক্রমণ চালানো হচ্ছে। এই হামলাগুলোর উদ্দেশ্য সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করা বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “অতীতে যে ধরনের ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ড দেখা গেছে, তেমন অপচেষ্টা যেন না করা হয়। আমরা বিশ্বাস করি, এই বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসের কোনো স্থান হবে না।”

জুবায়ের আরও জানান যে, এসব ঘটনার ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট আসনের রিটার্নিং অফিসার এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হচ্ছে। এছাড়াও, আগামীকাল নির্বাচন কমিশনে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হবে এবং তারা আশা প্রকাশ করেন যে, নির্বাচন কমিশন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তিনি উল্লেখ করেন যে, আগামী ৯ তারিখ পর্যন্ত জামায়াত নেতাদের নির্বাচনি জনসভা ও পথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে, বিভিন্ন স্থানে সংগঠিত হামলা এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য উদ্বেগজনক বলে তিনি মনে করেন। জুবায়ের বলেন, গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচনী সময়সূচী ঘোষণার পর ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির উপর হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর গত ২৯ জানুয়ারি, শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি শরিফুল ইসলামকে হত্যা করা হয়। তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি, যদিও তাদের শনাক্ত করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। অবিলম্বে তাদের গ্রেপ্তার না করা হলে সুষ্ঠু নির্বাচন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার না হলে জামায়াতে ইসলামী পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয় যে, গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে শিবির নেতাকর্মীদের ওপর হামলায় পাঁচজন আহত হয়েছেন। এছাড়া, ভোলার দৌলতখানে বিএনপির হামলায় জামায়াতের ছয়জন কর্মী আহত হয়েছেন। যশোর, নোয়াখালী সহ বিভিন্ন স্থানে নারী কর্মীরা ‘হ্যাঁ ভোট’ এবং ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পক্ষে প্রচারণার সময় হামলার শিকার হচ্ছেন। কুষ্টিয়ায় গণসংযোগকালে জামায়াত প্রার্থী আমির হামজার মায়ের কাছ থেকে লিফলেট ছিনিয়ে নেওয়া ও তাকে লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি জানান।

একইসঙ্গে, চট্টগ্রামে বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে অর্থ বিতরণের অভিযোগ, ফরিদপুরে সহিংসতা ও ভাংচুর, এবং সুনামগঞ্জে জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট শিশির মনিরের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়।

জামায়াত নেতা আরও বলেন যে, গাইবান্ধার ফুলছড়িতে দেশীয় অস্ত্রসহ বিএনপির একজনকে শুক্রবার যৌথবাহিনী গ্রেপ্তার করেছে। নারায়ণগঞ্জে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে এবং ফরিদপুরে অস্ত্রসহ যুবদল নেতা আটক হওয়ার মতো ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, এসব সহিংসতায় বিএনপির লোকজন জড়িত।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য জাহিদুর রহমান এবং অলিউল্লাহ নোমান সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্রদলের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের লাগাম টেনে ধরুন, অন্যথায় পরিণতি ভয়াবহ হবে: জামায়াত

নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা ও সহিংসতার অভিযোগ, সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ জামায়াতে ইসলামীর

আপডেট সময় : ০৪:১৫:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় নানামুখী বাধা, নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। শনিবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ উত্থাপন করে সংগঠনটি। একইসঙ্গে, শেরপুরের ঝিনাইগাতিতে দলটির এক নেতাকে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে তারা।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের অভিযোগ করেন যে, দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী প্রচারণার সময় তাদের নেতাকর্মীদের ওপর আক্রমণ চালানো হচ্ছে। এই হামলাগুলোর উদ্দেশ্য সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করা বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “অতীতে যে ধরনের ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ড দেখা গেছে, তেমন অপচেষ্টা যেন না করা হয়। আমরা বিশ্বাস করি, এই বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসের কোনো স্থান হবে না।”

জুবায়ের আরও জানান যে, এসব ঘটনার ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট আসনের রিটার্নিং অফিসার এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হচ্ছে। এছাড়াও, আগামীকাল নির্বাচন কমিশনে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হবে এবং তারা আশা প্রকাশ করেন যে, নির্বাচন কমিশন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তিনি উল্লেখ করেন যে, আগামী ৯ তারিখ পর্যন্ত জামায়াত নেতাদের নির্বাচনি জনসভা ও পথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে, বিভিন্ন স্থানে সংগঠিত হামলা এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য উদ্বেগজনক বলে তিনি মনে করেন। জুবায়ের বলেন, গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচনী সময়সূচী ঘোষণার পর ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির উপর হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর গত ২৯ জানুয়ারি, শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি শরিফুল ইসলামকে হত্যা করা হয়। তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি, যদিও তাদের শনাক্ত করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। অবিলম্বে তাদের গ্রেপ্তার না করা হলে সুষ্ঠু নির্বাচন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার না হলে জামায়াতে ইসলামী পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয় যে, গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে শিবির নেতাকর্মীদের ওপর হামলায় পাঁচজন আহত হয়েছেন। এছাড়া, ভোলার দৌলতখানে বিএনপির হামলায় জামায়াতের ছয়জন কর্মী আহত হয়েছেন। যশোর, নোয়াখালী সহ বিভিন্ন স্থানে নারী কর্মীরা ‘হ্যাঁ ভোট’ এবং ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পক্ষে প্রচারণার সময় হামলার শিকার হচ্ছেন। কুষ্টিয়ায় গণসংযোগকালে জামায়াত প্রার্থী আমির হামজার মায়ের কাছ থেকে লিফলেট ছিনিয়ে নেওয়া ও তাকে লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি জানান।

একইসঙ্গে, চট্টগ্রামে বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে অর্থ বিতরণের অভিযোগ, ফরিদপুরে সহিংসতা ও ভাংচুর, এবং সুনামগঞ্জে জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট শিশির মনিরের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়।

জামায়াত নেতা আরও বলেন যে, গাইবান্ধার ফুলছড়িতে দেশীয় অস্ত্রসহ বিএনপির একজনকে শুক্রবার যৌথবাহিনী গ্রেপ্তার করেছে। নারায়ণগঞ্জে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে এবং ফরিদপুরে অস্ত্রসহ যুবদল নেতা আটক হওয়ার মতো ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, এসব সহিংসতায় বিএনপির লোকজন জড়িত।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য জাহিদুর রহমান এবং অলিউল্লাহ নোমান সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।