ঢাকা ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম-৮ আসন: ভোটের আগে আতঙ্কে নগর, সেতুর প্রত্যাশায় বোয়ালখালী

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১১:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ভোটার সংখ্যার দিক থেকে বৃহত্তম আসন চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও)। ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৯ জন ভোটারের এই আসনে নির্বাচনী আমেজ থাকলেও সাধারণ মানুষের মনে বিরাজ করছে চাপা আতঙ্ক। বিশেষ করে নগর অংশের ৫টি ওয়ার্ডে সন্ত্রাসীদের প্রভাব এবং বোয়ালখালী অংশে গেড়ে বসা চাঁদাবাজি নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা।

বোয়ালখালীর প্রধান সংকট: চাঁদাবাজি ও কালুরঘাট সেতু

কর্ণফুলী নদীর ওপারের উপজেলা বোয়ালখালীর মানুষের দীর্ঘদিনের প্রধান দাবি—একটি আধুনিক ও প্রশস্ত কালুরঘাট সেতু। ১৯৩০ সালে নির্মিত জরাজীর্ণ সেতুটি দিয়ে ট্রেন ও যানবাহন একমুখীভাবে চলাচল করায় যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিটি সরকারের আমলেই সেতুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

উপজেলার গোমদণ্ডী ও কধুরখীল এলাকার বাসিন্দাদের মতে, যাতায়াতের পাশাপাশি চাঁদাবাজি তাদের অন্যতম প্রধান সমস্যা। স্থানীয় সিএনজি স্ট্যান্ড, কাঁচাবাজার ও টোল প্লাজাগুলোতে নিয়মিত চাঁদা দিতে হয় ব্যবসায়ীদের। কৃষক জাবের হোসেনের দাবি, “কৃষকদের সেচের পানি, উন্নত সার ও বীজের সমস্যা নিয়ে প্রার্থীরা কথা বলেন না। আমরা চাই যিনিই নির্বাচিত হন, তিনি যেন কৃষকদের স্বার্থ দেখেন।”

নগর অংশে নিরাপত্তা শঙ্কা ও ‘সাজ্জাদ বাহিনী’

চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ ও মোহরা এলাকায় অপরাধীদের প্রভাব ভোটারদের মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্যমতে, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য এই এলাকায় প্রবল। গত ৫ নভেম্বর এই চান্দগাঁও এলাকাতেই নির্বাচনী জনসংযোগ চলাকালীন সরোয়ার হোসেন বাবলা নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। গত ২০২৪ সালের নির্বাচনেও এখানে সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। ফলে সাধারণ ভোটাররা বলছেন, কেন্দ্রে গিয়ে প্রাণ হারানোর চেয়ে ঘরে থাকাই শ্রেয়, যদি না প্রশাসন কড়া নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়।

নির্বাচনী লড়াই ও জোটের সমীকরণ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এই আসনে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। উল্লেখযোগ্য প্রার্থীরা হলেন:

  • এরশাদ উল্লাহ (বিএনপি)
  • মো. জুবাইরুল হাসান আরিফ (এনসিপি – ১১ দলীয় জোট মনোনীত)
  • মো. আবু নাছের (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী)

আসন সমঝোতা অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী এই আসনটি ১১ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ছেড়ে দিয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ব্যাপক তৎপরাতা ও প্রার্থীর পোস্টার দেখা যাচ্ছে। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মুহাম্মদ শাহজাহান জানিয়েছেন, সমঝোতা অনুযায়ী তারা এনসিপির প্রার্থীকেই সমর্থন দিচ্ছেন এবং এনসিপিই মূল প্রচার চালাচ্ছে।

শেষ কথা: চট্টগ্রাম-৮ আসনে ভোটারদের অংশগ্রহণ মূলত নির্ভর করছে নির্বাচনের দিন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকার ওপর। চন্দনাইশ ও পাঁচলাইশ এলাকার সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণ এবং বোয়ালখালীর সাধারণ মানুষের ‘সেতু’ ও ‘চাঁদাবাজি মুক্ত’ জীবনের স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন যে প্রার্থী, তার পাল্লাই ভারি হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনগরে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধ: ছুরিকাঘাতে হিফজ বিভাগের ছাত্র নিহত

চট্টগ্রাম-৮ আসন: ভোটের আগে আতঙ্কে নগর, সেতুর প্রত্যাশায় বোয়ালখালী

আপডেট সময় : ১০:১১:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ভোটার সংখ্যার দিক থেকে বৃহত্তম আসন চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও)। ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৯ জন ভোটারের এই আসনে নির্বাচনী আমেজ থাকলেও সাধারণ মানুষের মনে বিরাজ করছে চাপা আতঙ্ক। বিশেষ করে নগর অংশের ৫টি ওয়ার্ডে সন্ত্রাসীদের প্রভাব এবং বোয়ালখালী অংশে গেড়ে বসা চাঁদাবাজি নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা।

বোয়ালখালীর প্রধান সংকট: চাঁদাবাজি ও কালুরঘাট সেতু

কর্ণফুলী নদীর ওপারের উপজেলা বোয়ালখালীর মানুষের দীর্ঘদিনের প্রধান দাবি—একটি আধুনিক ও প্রশস্ত কালুরঘাট সেতু। ১৯৩০ সালে নির্মিত জরাজীর্ণ সেতুটি দিয়ে ট্রেন ও যানবাহন একমুখীভাবে চলাচল করায় যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিটি সরকারের আমলেই সেতুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

উপজেলার গোমদণ্ডী ও কধুরখীল এলাকার বাসিন্দাদের মতে, যাতায়াতের পাশাপাশি চাঁদাবাজি তাদের অন্যতম প্রধান সমস্যা। স্থানীয় সিএনজি স্ট্যান্ড, কাঁচাবাজার ও টোল প্লাজাগুলোতে নিয়মিত চাঁদা দিতে হয় ব্যবসায়ীদের। কৃষক জাবের হোসেনের দাবি, “কৃষকদের সেচের পানি, উন্নত সার ও বীজের সমস্যা নিয়ে প্রার্থীরা কথা বলেন না। আমরা চাই যিনিই নির্বাচিত হন, তিনি যেন কৃষকদের স্বার্থ দেখেন।”

নগর অংশে নিরাপত্তা শঙ্কা ও ‘সাজ্জাদ বাহিনী’

চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ ও মোহরা এলাকায় অপরাধীদের প্রভাব ভোটারদের মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্যমতে, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য এই এলাকায় প্রবল। গত ৫ নভেম্বর এই চান্দগাঁও এলাকাতেই নির্বাচনী জনসংযোগ চলাকালীন সরোয়ার হোসেন বাবলা নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। গত ২০২৪ সালের নির্বাচনেও এখানে সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। ফলে সাধারণ ভোটাররা বলছেন, কেন্দ্রে গিয়ে প্রাণ হারানোর চেয়ে ঘরে থাকাই শ্রেয়, যদি না প্রশাসন কড়া নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়।

নির্বাচনী লড়াই ও জোটের সমীকরণ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এই আসনে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। উল্লেখযোগ্য প্রার্থীরা হলেন:

  • এরশাদ উল্লাহ (বিএনপি)
  • মো. জুবাইরুল হাসান আরিফ (এনসিপি – ১১ দলীয় জোট মনোনীত)
  • মো. আবু নাছের (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী)

আসন সমঝোতা অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী এই আসনটি ১১ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ছেড়ে দিয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ব্যাপক তৎপরাতা ও প্রার্থীর পোস্টার দেখা যাচ্ছে। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মুহাম্মদ শাহজাহান জানিয়েছেন, সমঝোতা অনুযায়ী তারা এনসিপির প্রার্থীকেই সমর্থন দিচ্ছেন এবং এনসিপিই মূল প্রচার চালাচ্ছে।

শেষ কথা: চট্টগ্রাম-৮ আসনে ভোটারদের অংশগ্রহণ মূলত নির্ভর করছে নির্বাচনের দিন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকার ওপর। চন্দনাইশ ও পাঁচলাইশ এলাকার সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণ এবং বোয়ালখালীর সাধারণ মানুষের ‘সেতু’ ও ‘চাঁদাবাজি মুক্ত’ জীবনের স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন যে প্রার্থী, তার পাল্লাই ভারি হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।