একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাইবান্ধা-৫ আসনের নির্বাচনী প্রচার জমে উঠেছে। এই আসনে রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রভাবশালী প্রার্থীদের পাশাপাশি দুই নারী প্রার্থীর অংশগ্রহণ নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) থেকে ‘কাঁচি’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রাহেলা খাতুন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘কলস’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন ছালমা আক্তার। তাদের উপস্থিতি পুরুষ-প্রভাবিত নির্বাচনী লড়াইয়ে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
গাইবান্ধা জেলার ৫টি আসনে মোট ৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে ৩২ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত এবং ৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এই ৫ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ২১ লক্ষাধিক। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে প্রার্থীরা নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনমত আদায়ের চেষ্টা করছেন। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন—এসবই তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রধান অংশ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হেভিওয়েট প্রার্থীদের ভিড়ে নারী প্রার্থীদের এই অংশগ্রহণ ভোটারদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ ও সচেতনতা তৈরি করেছে। শুধু নারী ভোটাররাই নন, তরুণ প্রজন্মের একটি উল্লেখযোগ্য অংশও স্বচ্ছ রাজনীতি ও উন্নয়নের বার্তার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই ঘটনাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাদের মতে, গাইবান্ধার মতো একটি নির্বাচনি ক্ষেত্রে নারী প্রার্থীদের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে এক নতুন অনুপ্রেরণা যোগাবে। এই দুই নারী প্রার্থীর লড়াই কেবল ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতাই নয়, বরং এটি নারীর ক্ষমতায়নের এক বলিষ্ঠ প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। তাদের এই সাহসী পদচারণা গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত নারীদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গাইবান্ধা-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছালমা আক্তার শিল্পী, যিনি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার মধ্য শান্তিরাম গ্রামের বাসিন্দা এবিএম মিজানুর রহমানের স্ত্রী, ‘কলস’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে বিএনপি, জামায়াত এবং জাতীয় পার্টির মহাসচিবসহ মোট আটজন প্রার্থী রয়েছেন। ছালমা আক্তার নির্বাচিত হলে নারীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং তরুণদের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের ওপর জোর দেবেন। তিনি আরও জানান, এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন তার প্রধান অগ্রাধিকার।
অন্যদিকে, গাইবান্ধা-৫ আসনে বাসদ মনোনীত প্রার্থী রাহেলা খাতুন ‘কাঁচি’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন। তিনি গাইবান্ধা শহরের থানাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। এই আসনেও বিএনপি, জামায়াত এবং জাতীয় পার্টির মহাসচিবসহ মোট নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রাহেলা খাতুন বলেন, এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি থাকলেও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশিত উন্নয়ন সাধিত হয়নি। তিনি নির্বাচিত হলে নদীভাঙন রোধ, কৃষকদের তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।
রিপোর্টারের নাম 

























