ঢাকা ১১:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

সংযোগ সড়কবিহীন ‘ভূতুড়ে’ সেতু: অষ্টগ্রামে জনভোগান্তি চরমে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে জনমানবশূন্য এলাকায় নির্মিত একটি গার্ডার সেতু পাঁচ বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। প্রায় ৬৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হলেও দুপাশে কোনো সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি কোনো কাজেই আসছে না, বরং এটি সরকারি অর্থের অপচয় এবং জনভোগান্তির এক জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপজেলার কাস্তুল ইউনিয়নের ব্রহ্মপুরা খালের ওপর ২০২১-২২ অর্থবছরে নির্মিত হয় এই গার্ডার সেতু। সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর দুপাশে কোনো রাস্তা নেই। স্থানীয়রা কোনোমতে স্লাব ও ইটের সিঁড়ি বেয়ে সেতুতে উঠলেও বয়স্ক ও শিশুরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। বর্ষাকালে চারপাশ পানিতে তলিয়ে গেলে সেতুটি যেন এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর দক্ষিণ পাশে কোনো সরকারি রেকর্ডভুক্ত রাস্তা নেই। উত্তর পাশে রয়েছে একটি কাঁচা ডুবো সড়ক। এছাড়া, সেতুটির মাত্র ৩০০-৪০০ ফুট দূরে একই খালে আরেকটি সেতু রয়েছে, যা এই নতুন সেতুর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দা তাইফুর রহমান জানান, “দক্ষিণ পাশে কোনো সরকারি রাস্তা নেই। আমার জমির ওপর দিয়ে মানুষ হাঁটে। সেখানে কেন এত বড় ব্রিজ করা হলো, তা আমরা জানি না। পাঁচ বছর ধরে এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।”

অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পুরোপুরি শেষ না করেই বিল তুলে নিয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অধিদপ্তর (পিআইও) সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ৬৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৫৬ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে এই প্রকল্পের কার্যাদেশ পায় বাজিতপুরের মেসার্স মেরিন এন্টারপ্রাইজ। তবে, বাস্তবে কাজটি স্থানীয় ঠিকাদার বিশম্বর দেবনাথ সম্পন্ন করেছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, সংযোগ সড়ক ছাড়া কীভাবে এই প্রকল্পের বিল অনুমোদন হলো এবং পাঁচ বছরেও কেন এর কোনো সুরাহা হলো না।

ঠিকাদার বিশম্বর দেবনাথ মুঠোফোনে দাবি করেন, অ্যাপ্রোচ সড়ক করা হয়েছিল, কিন্তু বর্ষার পানিতে মাটি সরে গেছে। তিনি দ্রুত বাকি কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছেন।

অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ মজনু মিয়া জানান, হাওরাঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সংযোগ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জামানতের টাকা এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি। রাস্তাটি মেরামতের জন্য তিন মাস আগে ঠিকাদারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এদিকে, দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের আশা, এই ‘ভূতুড়ে’ সেতুর অবসান ঘটিয়ে জনদুর্ভোগ লাঘব করা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র চালানে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ তাইওয়ানের কাছে নেই

সংযোগ সড়কবিহীন ‘ভূতুড়ে’ সেতু: অষ্টগ্রামে জনভোগান্তি চরমে

আপডেট সময় : ০৩:২৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে জনমানবশূন্য এলাকায় নির্মিত একটি গার্ডার সেতু পাঁচ বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। প্রায় ৬৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হলেও দুপাশে কোনো সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি কোনো কাজেই আসছে না, বরং এটি সরকারি অর্থের অপচয় এবং জনভোগান্তির এক জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপজেলার কাস্তুল ইউনিয়নের ব্রহ্মপুরা খালের ওপর ২০২১-২২ অর্থবছরে নির্মিত হয় এই গার্ডার সেতু। সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর দুপাশে কোনো রাস্তা নেই। স্থানীয়রা কোনোমতে স্লাব ও ইটের সিঁড়ি বেয়ে সেতুতে উঠলেও বয়স্ক ও শিশুরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। বর্ষাকালে চারপাশ পানিতে তলিয়ে গেলে সেতুটি যেন এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর দক্ষিণ পাশে কোনো সরকারি রেকর্ডভুক্ত রাস্তা নেই। উত্তর পাশে রয়েছে একটি কাঁচা ডুবো সড়ক। এছাড়া, সেতুটির মাত্র ৩০০-৪০০ ফুট দূরে একই খালে আরেকটি সেতু রয়েছে, যা এই নতুন সেতুর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দা তাইফুর রহমান জানান, “দক্ষিণ পাশে কোনো সরকারি রাস্তা নেই। আমার জমির ওপর দিয়ে মানুষ হাঁটে। সেখানে কেন এত বড় ব্রিজ করা হলো, তা আমরা জানি না। পাঁচ বছর ধরে এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।”

অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পুরোপুরি শেষ না করেই বিল তুলে নিয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অধিদপ্তর (পিআইও) সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ৬৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৫৬ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে এই প্রকল্পের কার্যাদেশ পায় বাজিতপুরের মেসার্স মেরিন এন্টারপ্রাইজ। তবে, বাস্তবে কাজটি স্থানীয় ঠিকাদার বিশম্বর দেবনাথ সম্পন্ন করেছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, সংযোগ সড়ক ছাড়া কীভাবে এই প্রকল্পের বিল অনুমোদন হলো এবং পাঁচ বছরেও কেন এর কোনো সুরাহা হলো না।

ঠিকাদার বিশম্বর দেবনাথ মুঠোফোনে দাবি করেন, অ্যাপ্রোচ সড়ক করা হয়েছিল, কিন্তু বর্ষার পানিতে মাটি সরে গেছে। তিনি দ্রুত বাকি কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছেন।

অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ মজনু মিয়া জানান, হাওরাঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সংযোগ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জামানতের টাকা এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি। রাস্তাটি মেরামতের জন্য তিন মাস আগে ঠিকাদারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এদিকে, দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের আশা, এই ‘ভূতুড়ে’ সেতুর অবসান ঘটিয়ে জনদুর্ভোগ লাঘব করা হবে।