নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে বাজি ধরে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে আরিফ (১৯) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে উপজেলার জীরতলী ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে জীরতলী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের কুতুবপুর গ্রামে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা ও পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলেও রেশ থেকে যায়।
নিহত আরিফ কুতুবপুর গ্রামের বাঞ্ছারাম বাড়ির সিরাজ মিয়ার ছেলে। তিনি ঢাকা থেকে সাত-আট দিন আগে বাড়িতে এসেছিলেন। ঘটনার দিন বিকেলে এলাকার কয়েকজন যুবক বাজি ধরে ক্রিকেট খেলছিল। খেলাকে কেন্দ্র করে দুই দলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও বিরোধ সৃষ্টি হয়। আরিফ মীমাংসার চেষ্টা করলে একই দিন সন্ধ্যায় স্থানীয় সাজুর চায়ের দোকানে ফাহিম নামে এক তরুণ তাকে মারধর করে। স্থানীয়রা তখন বিষয়টি আবারও মিটমাট করে দেয়।
তবে, শুক্রবার রাত আটটার দিকে আরিফ তার দুই-তিনজন সঙ্গীকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী রুগুরামপুর গ্রামের দিকে যাওয়ার সময় কুতুবপুর গ্রামের বাঞ্ছারাম বাড়ির মনির জানান, ছয়ানি ইউনিয়নের জাহানাবাদ গ্রামের তোফায়েলের ছেলে ফাহিমের (১৯) নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা আরিফের বুকে বাম পাশে ছুরিকাঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই হামলায় ওমায়ের (২০) সহ আরও দুজন আহত হন। আহতদের নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহতের বড় ভাই আকিল জানান, ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধের সময় তার ভাই আরিফ বাধা দিতে গেলে ফাহিম (২১) ও সাইফুলসহ কয়েকজন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে মারধর করে। শুক্রবার সন্ধ্যায় তারা আবারও হামলা চালিয়ে আরিফ ছাড়াও তার চাচাতো ভাই উমায়ের (২১) ও ওমরকে (২২) ছুরিকাঘাত করে।
এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বেগমগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, বাজি ধরে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বর্তমানে সেখানে অবস্থান করছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রিপোর্টারের নাম 

























