ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ছুটির দিন শুক্রবার রাজধানী জুড়ে প্রার্থীদের নিবিড় প্রচার-প্রচারণা লক্ষ্য করা গেছে। অন্যান্য কর্মদিবসের চেয়ে এদিন ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে প্রার্থীরা ছিলেন অধিক তৎপর। সকাল থেকেই বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় প্রার্থীদের উপস্থিতি ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের সরব উপস্থিতি নির্বাচনী পরিবেশকে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।
নির্বাচনী কারচুপির আশঙ্কা, নতুনদের প্রতি অনাস্থা মির্জা আব্বাসের
ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেছেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠী নিজেদের পছন্দের কিছু প্রার্থীকে নির্বাচিত করার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছে। তিনি মনে করেন, কিছু প্রার্থীর আচরণ ও কর্মকাণ্ড নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কারচুপির ইঙ্গিত দিচ্ছে। শুক্রবার শান্তিনগর ইস্টার্ণ প্লাস মার্কেটে গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “নির্বাচনী ফলাফল পরিবর্তনের একটি চেষ্টা চলছে।” তিনি বলেন, এ পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ স্বাভাবিক থাকলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন। নতুন প্রার্থীদের স্বাগত জানালেও, তাদের ব্যক্তি আক্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। এরপর তিনি পুরানা পল্টনে একটি বধির অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং বিকেলে শান্তিনগর বাজার ও পীর সাহেবের গলিতে ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ করেন। রাতে চামেলীবাগ গ্রীন পিচ এ্যাপার্টমেন্টে এক মতবিনিময় সভায় তার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
ঢাকা-৯ আসনে হাবিবুর রশিদের উন্নয়ন অঙ্গীকার
ঢাকা-৯ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব রাজধানীর বাসাবো থানায় এক উঠান বৈঠকে বলেছেন, তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নন এবং আগামীতে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চান। তিনি মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত সমাজ গঠনের অঙ্গীকার করে বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকল ভোটারের কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। ঢাকাকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে এবং এলাকার উন্নয়ন ও কল্যাণে দলমত নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। এরপর তিনি বাসাবো এলাকার বিভিন্ন মহল্লায় গণসংযোগ করেন।
ঢাকা-৬ আসনে জামায়াতের প্রচার, মাল্টিমিডিয়া বাসের ব্যবহার
ঢাকা-৬ নির্বাচনী এলাকায় জামায়াতে ইসলামী ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছে। শুক্রবার বিকেলে গেন্ডারিয়ার দয়াগঞ্জ মোড়ে তাদের বিশেষ আকর্ষণ ‘মাল্টিমিডিয়া নির্বাচনি বাস’ পৌঁছালে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা দেখা দেয়। বিকেল তিনটায় দয়াগঞ্জ মোড় থেকে একটি পথসভা ও মিছিলের মাধ্যমে প্রচার শুরু হয়ে সূত্রাপুর হয়ে বাহাদুর শাহ পার্কে একটি পথসভার মাধ্যমে শেষ হয়। ঢাকা-৬ আসনের জামায়াত প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান মিছিলে নেতৃত্ব দেন। এরপর তিনি ওয়ারী ও সূত্রাপুর এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গণসংযোগ ও পথসভা করেন। দয়াগঞ্জ ও বাহাদুর শাহ পার্কে আয়োজিত পথসভায় ড. আব্দুল মান্নান ‘আজাদীর পক্ষে’ এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটে অংশ নিয়ে জামায়াতকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। মাল্টিমিডিয়া বাস থেকে ডিজিটাল স্ক্রিনে দলের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও ইশতেহার তুলে ধরা হয়, যা পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
ঢাকা-৫ আসনে কামাল হোসেনের ‘ফ্যাসিবাদের অবসান’ ও ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার আহ্বান
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শনিরআখড়া দনিয়া কলেজ মাঠে ঢাকা-৫ আসনের ১১ দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের পথ চিরতরে বন্ধ করতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। পাশাপাশি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ মুক্ত একটি দেশ গড়তে জামায়াতে ইসলামীকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। নিরাপদ, কল্যাণ ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণই জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গীকার বলে তিনি জানান। জনসভা শেষে, তিনি শনিরআখড়া, কাজলা, যাত্রাবাড়ী এলাকায় গণসংযোগ করেন।
এছাড়াও, শুক্রবার ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-১২ আসনের মনোনীত প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলন তেজগাঁও খেলাঘর মাঠে ছাত্র ও যুব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। তিনি মডেল স্কুলে নির্মাণ শ্রমিক ও ডিম ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং তেজগাঁওয়ের বিভিন্ন মহল্লায় গণসংযোগ করেন। অন্যদিকে, ঢাকা-১৪ আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত ব্যারিস্টার আরমান প্রিয়াঙ্গন জামে মসজিদ, শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ, গইদারটেক ও দারুস সালাম এলাকায় গণসংযোগ করেন।
ঢাকা-৮ আসনে এনসিপির প্রার্থীর কালো টাকা ছড়ানোর অভিযোগ
শুক্রবার ঢাকা-৮ আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী শাহবাগ, কাঁটাবন, হাতিরপুল ও পরিবাগ এলাকায় জনসংযোগ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ের পর শহীদ ওসমান হাদীর কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের তিনি অভিযোগ করেন, এবারের নির্বাচনে ভোট কিনতে কালো টাকা ছড়ানো হচ্ছে। পাটওয়ারী বলেন, আওয়ামী লীগ বিগত ষোল বছর ধরে শেয়ারবাজার, ব্যাংক এবং মানুষের পকেট লুট করেছে। সেই লুটের টাকার পাহারাদার হিসেবে একটি নতুন দল কাজ করছে এবং সেই কালো টাকা দিয়েই তারা নির্বাচন পরিচালনা করছে ও গণমাধ্যমকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।
রিপোর্টারের নাম 
























