ঢাকা ১১:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

বরিশালে বিএনপিতে বড় ধাক্কা, দুই শতাধিক নেতাকর্মী জামায়াতে যোগদান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৩২:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির দুই শতাধিক নেতাকর্মী দল পরিবর্তন করে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার বাইশারী বাজারসংলগ্ন নূরানী ক্যাডেট মাদরাসার সামনে বরিশাল-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী এবং বরিশাল জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল মান্নান মাস্টারের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে তারা আনুষ্ঠানিক যোগদান করেন।

যোগদানকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাহমুদ মাহবুব মাস্টার, বানারীপাড়া পৌর কৃষক দলের আহ্বায়ক গফ্ফার হোসেন, পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি সিদ্দিক মল্লিক, উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জাফর তালুকদার, উদয়কাঠী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি কাঞ্চন তালুকদার, ইলুহার ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. নুরুজ্জামান এবং বিশারকান্দি ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুস সালাম। তাদের সঙ্গে উপজেলা বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের আরও দুই শতাধিক নেতাকর্মীও জামায়াতে যোগ দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী এস সরফুদ্দীন আহম্মেদ সান্টুর কাছ থেকে বঞ্চনার শিকার হয়ে এসব নেতাকর্মী দলত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। মাহবুব মাস্টারসহ অন্যান্য নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদানের ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে, যা আসন্ন নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে বলেও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা ধারণা করছেন।

সূত্র আরও জানায়, মাহবুব মাস্টার স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির একজন প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় নেতা। গত বৃহস্পতিবার মাহবুব মাস্টার এবং পৌর কৃষক দলের আহ্বায়ক গফ্‌ফার হোসেন পদত্যাগপত্র জমা দেন। বরিশাল-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী এস সরফুদ্দীন আহম্মেদ সান্টুর সঙ্গে মাহবুব মাস্টারের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। গত জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের পদ না পাওয়ায় মাহবুব মাস্টারের অনুসারীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এছাড়া আসন্ন সংসদ নির্বাচনে একবারের জন্যও মাহবুব মাস্টার ও তার অনুসারীদের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে বলা হয়নি, যা তাদের দলত্যাগের অন্যতম কারণ।

পদত্যাগের কারণ হিসেবে মাহবুব মাস্টার জানান, চার দশক ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেও তিনি লাঞ্ছিত ও বঞ্চিত হয়েছেন। তার অভিযোগ, বর্তমানে দলে টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন বিক্রি হয় এবং নেতাদের কাছে কর্মীরা প্রতারিত হচ্ছেন, যার ফলে দলের ত্যাগী নেতারা বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি বলেন, দলের কাছে নিগৃহীত হয়েই তিনিসহ নেতাকর্মীরা শুক্রবার জামায়াতে ইসলামীর একটি উঠান বৈঠকে যোগ দেন।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম শাহীন জানান, নেতাদের পদত্যাগের কথা তিনি শুনেছেন। মাহবুব মাস্টারের অভিমান ভাঙিয়ে তাকে দলে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, দলের নেতাদের সঙ্গে মান-অভিমানের কারণে তিনি হয়তো দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি মাহবুব মাস্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসবেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র চালানে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ তাইওয়ানের কাছে নেই

বরিশালে বিএনপিতে বড় ধাক্কা, দুই শতাধিক নেতাকর্মী জামায়াতে যোগদান

আপডেট সময় : ০৮:৩২:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির দুই শতাধিক নেতাকর্মী দল পরিবর্তন করে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার বাইশারী বাজারসংলগ্ন নূরানী ক্যাডেট মাদরাসার সামনে বরিশাল-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী এবং বরিশাল জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল মান্নান মাস্টারের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে তারা আনুষ্ঠানিক যোগদান করেন।

যোগদানকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাহমুদ মাহবুব মাস্টার, বানারীপাড়া পৌর কৃষক দলের আহ্বায়ক গফ্ফার হোসেন, পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি সিদ্দিক মল্লিক, উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জাফর তালুকদার, উদয়কাঠী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি কাঞ্চন তালুকদার, ইলুহার ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. নুরুজ্জামান এবং বিশারকান্দি ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুস সালাম। তাদের সঙ্গে উপজেলা বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের আরও দুই শতাধিক নেতাকর্মীও জামায়াতে যোগ দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী এস সরফুদ্দীন আহম্মেদ সান্টুর কাছ থেকে বঞ্চনার শিকার হয়ে এসব নেতাকর্মী দলত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। মাহবুব মাস্টারসহ অন্যান্য নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদানের ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে, যা আসন্ন নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে বলেও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা ধারণা করছেন।

সূত্র আরও জানায়, মাহবুব মাস্টার স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির একজন প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় নেতা। গত বৃহস্পতিবার মাহবুব মাস্টার এবং পৌর কৃষক দলের আহ্বায়ক গফ্‌ফার হোসেন পদত্যাগপত্র জমা দেন। বরিশাল-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী এস সরফুদ্দীন আহম্মেদ সান্টুর সঙ্গে মাহবুব মাস্টারের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। গত জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের পদ না পাওয়ায় মাহবুব মাস্টারের অনুসারীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এছাড়া আসন্ন সংসদ নির্বাচনে একবারের জন্যও মাহবুব মাস্টার ও তার অনুসারীদের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে বলা হয়নি, যা তাদের দলত্যাগের অন্যতম কারণ।

পদত্যাগের কারণ হিসেবে মাহবুব মাস্টার জানান, চার দশক ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেও তিনি লাঞ্ছিত ও বঞ্চিত হয়েছেন। তার অভিযোগ, বর্তমানে দলে টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন বিক্রি হয় এবং নেতাদের কাছে কর্মীরা প্রতারিত হচ্ছেন, যার ফলে দলের ত্যাগী নেতারা বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি বলেন, দলের কাছে নিগৃহীত হয়েই তিনিসহ নেতাকর্মীরা শুক্রবার জামায়াতে ইসলামীর একটি উঠান বৈঠকে যোগ দেন।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম শাহীন জানান, নেতাদের পদত্যাগের কথা তিনি শুনেছেন। মাহবুব মাস্টারের অভিমান ভাঙিয়ে তাকে দলে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, দলের নেতাদের সঙ্গে মান-অভিমানের কারণে তিনি হয়তো দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি মাহবুব মাস্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসবেন।