মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার প্রকাশ্য তৎপরতা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত এই প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের এমন সক্রিয় অংশগ্রহণ সাধারণ ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিচ্ছে, পাশাপাশি নির্বাচনী পরিবেশের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিবচর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও দুইবারের পৌর মেয়র এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল লতিফ মোল্লা, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান দেলোয়ার বেপারী এবং শিবচর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন ওরফে তোতা খানসহ আরও কয়েকজন নেতা প্রকাশ্যে ‘জাহাজ’ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল জামান মোল্লার নির্বাচনী সভা-সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন। কামাল জামান মোল্লা শিবচর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় গত ২১ জানুয়ারি তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর থেকেই তার পক্ষে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্য তৎপরতা বাড়তে থাকে।
সম্প্রতি শিবচর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে আব্দুল লতিফ মোল্লার বাড়িতে অনুষ্ঠিত একটি উঠান বৈঠকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। অভিযোগ উঠেছে, এসব নেতার অনেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার অভিযোগ রয়েছে। হঠাৎ করে তাদের স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামাকে অনেক ভোটার নির্বাচনের পরিবেশের জন্য ‘অশনিসংকেত’ হিসেবে দেখছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও এসব নেতার প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রচলিত আইন ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল জামান মোল্লার পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেলা বিএনপির সদস্য হেলেন জেরিন খান এ প্রসঙ্গে বলেন, “যাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে, তারা কীভাবে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালায়, তা প্রশাসনের দেখা উচিত।”
অন্যদিকে, শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম বলেন, “কারা কার পক্ষে প্রচারণা চালাবে, তা ব্যক্তিগত বিষয়। এই মুহূর্তে বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কোনো ভাবনা নেই। আমাদের মূল লক্ষ্য নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রাখা।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা নেতাদের এমন তৎপরতা নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে স্থানীয় মহলে কৌতূহল বাড়ছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে এমন কার্যকলাপের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
রিপোর্টারের নাম 

























