ঢাকা ০৬:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ: পিরোজপুরে সাবেক আ. লীগ নেতা ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৩:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. মিরাজুল ইসলাম মিরাজ এবং তার স্ত্রী শামীমা আক্তারের বিরুদ্ধে প্রায় ২ হাজার ৮৩২ কোটি ৭৪ লাখ ৩০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার দুদক পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে কমিশনের সহকারী পরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাগুলো দায়ের করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মো. মিরাজুল ইসলাম মিরাজ ইফতি ইটিসিএল (প্রা.) লিমিটেড, ইফতি এন্টারপ্রাইজ এবং সাউথ বাংলা ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী। দুদকের তদন্তে তার নামে ৩৬ কোটি ৭৩ লাখ ৪৮ হাজার ৬৪৭ টাকা মূল্যের জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট ও দোকানসহ বিভিন্ন স্থাবর সম্পদ এবং ৫০ কোটি ৬১ লাখ ৬৩৬ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ব্যাংকে সঞ্চয়, ব্যবসার মূলধন, কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ ও ৯টি গাড়িসহ অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এতে তার মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮৭ কোটি ৩৪ লাখ ৪৯ হাজার ২৮৩ টাকা।

দুদকের তদন্তে মিরাজুল ইসলামের পারিবারিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯ কোটি ৪৯ লাখ ৪৩ হাজার ১৭৬ টাকা। তদন্তে আরও দেখা যায়, মিরাজুল ইসলাম তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে ৯৯ কোটি ১২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রেখেছেন।

এছাড়া, দুদক জানতে পেরেছে যে সরকারি অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে অর্জিত ২ হাজার ৬৯১ কোটি ৪৪ লাখ ৮৪ হাজার টাকা ৯টি ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় জমা রেখে অবৈধ আয়ের উৎস গোপনের উদ্দেশ্যে একাধিকবার স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে। এসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় মিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে একটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অপরদিকে, মিরাজুল ইসলামের স্ত্রী ও মেসার্স শিমু এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শামীমা আক্তারের বিরুদ্ধে ২৪ কোটি ৪৫ লাখ ৫৩ হাজার ২৫১ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আরেকটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে, এলজিইডির নিযুক্ত ঠিকাদার হিসেবে প্রকল্পের কাজ না করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

দুদকের তদন্তে শামীমা আক্তারের নামে পারিবারিক ব্যয়সহ মোট ৩২ কোটি ৩৬ লাখ ৪৭ হাজার ২৩৯ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য পাওয়া গেলেও তার গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া গেছে মাত্র ৭ কোটি ৯০ লাখ ৯৩ হাজার ৯৮৮ টাকা।

মামলার বাদী দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম জানান, দুদকের উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলামের তদন্তে বিপুল অঙ্কের এই দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় মিরাজুল ইসলাম মিরাজ ও তার স্ত্রী শামীমা আক্তারের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা (মামলা নং-০১ ও ০২) দায়ের করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাজারে ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট: দাম না বাড়লেও সরবরাহ কম

প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ: পিরোজপুরে সাবেক আ. লীগ নেতা ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

আপডেট সময় : ১১:১৩:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. মিরাজুল ইসলাম মিরাজ এবং তার স্ত্রী শামীমা আক্তারের বিরুদ্ধে প্রায় ২ হাজার ৮৩২ কোটি ৭৪ লাখ ৩০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার দুদক পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে কমিশনের সহকারী পরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাগুলো দায়ের করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মো. মিরাজুল ইসলাম মিরাজ ইফতি ইটিসিএল (প্রা.) লিমিটেড, ইফতি এন্টারপ্রাইজ এবং সাউথ বাংলা ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী। দুদকের তদন্তে তার নামে ৩৬ কোটি ৭৩ লাখ ৪৮ হাজার ৬৪৭ টাকা মূল্যের জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট ও দোকানসহ বিভিন্ন স্থাবর সম্পদ এবং ৫০ কোটি ৬১ লাখ ৬৩৬ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ব্যাংকে সঞ্চয়, ব্যবসার মূলধন, কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ ও ৯টি গাড়িসহ অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এতে তার মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮৭ কোটি ৩৪ লাখ ৪৯ হাজার ২৮৩ টাকা।

দুদকের তদন্তে মিরাজুল ইসলামের পারিবারিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯ কোটি ৪৯ লাখ ৪৩ হাজার ১৭৬ টাকা। তদন্তে আরও দেখা যায়, মিরাজুল ইসলাম তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে ৯৯ কোটি ১২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রেখেছেন।

এছাড়া, দুদক জানতে পেরেছে যে সরকারি অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে অর্জিত ২ হাজার ৬৯১ কোটি ৪৪ লাখ ৮৪ হাজার টাকা ৯টি ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় জমা রেখে অবৈধ আয়ের উৎস গোপনের উদ্দেশ্যে একাধিকবার স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে। এসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় মিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে একটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অপরদিকে, মিরাজুল ইসলামের স্ত্রী ও মেসার্স শিমু এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শামীমা আক্তারের বিরুদ্ধে ২৪ কোটি ৪৫ লাখ ৫৩ হাজার ২৫১ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আরেকটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে, এলজিইডির নিযুক্ত ঠিকাদার হিসেবে প্রকল্পের কাজ না করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

দুদকের তদন্তে শামীমা আক্তারের নামে পারিবারিক ব্যয়সহ মোট ৩২ কোটি ৩৬ লাখ ৪৭ হাজার ২৩৯ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য পাওয়া গেলেও তার গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া গেছে মাত্র ৭ কোটি ৯০ লাখ ৯৩ হাজার ৯৮৮ টাকা।

মামলার বাদী দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম জানান, দুদকের উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলামের তদন্তে বিপুল অঙ্কের এই দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় মিরাজুল ইসলাম মিরাজ ও তার স্ত্রী শামীমা আক্তারের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা (মামলা নং-০১ ও ০২) দায়ের করা হয়েছে।