নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে তাদের কাছে দেশও নিরাপদ নয় এবং এমন দলকে ভোট দেওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ (বদরগঞ্জ–তারাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী এটিএম আজহারুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের কাজিরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
এটিএম আজহারুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ক্ষমতার মোহে কিছু রাজনৈতিক দল ইসলামবিদ্বেষী কার্যকলাপে লিপ্ত হয়েছে। তারা নারীদের হেনস্থা করছে, তাদের গায়ে হাত তুলছে এবং বিবস্ত্র করার মতো জঘন্য ঘটনা ঘটাচ্ছে। এমনকি বিভিন্ন সভা-সমাবেশে নারীদের পোশাক নিয়েও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘যারা এখনই এমন আচরণ করছে, তারা ক্ষমতায় গেলে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে, তা সহজেই অনুমেয়।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এমন একটি সংগঠন যেখানে সকল ধর্মের মানুষ সমান অধিকার ভোগ করে। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সবাই এ দেশের নাগরিক। জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ও সমর্থকদের কাছে সব ধর্মের নারীরা নিরাপদ দাবি করে তিনি বলেন, জামায়াত-শিবির বা তাদের অঙ্গসংগঠনের কেউ কখনো নারী, শিক্ষার্থী কিংবা ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের পরিবারকে হেনস্থা করেনি।
এটিএম আজহার অভিযোগ করেন, অতীতে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নারীদের প্রকাশ্যে হেনস্থা করা হয়েছে। এখন সেই পথ অনুসরণ করে একটি দল একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘নারীদের অবজ্ঞা করে কোনো দেশ কখনো এগিয়ে যেতে পারে না। নারীরা নিরাপদ না হলে দেশে শান্তি আসবে না।’
জনসভায় তিনি দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বলেন, যারা অতীতে দুর্নীতিতে বিশ্বে বাংলাদেশকে পরিচিত করেছে, তারাই আবার বিভিন্ন কার্ড ও প্রতিশ্রুতি দেখিয়ে ভোট আদায়ের চেষ্টা করছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোটের আগে লোভ দেখিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে জনগণের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে রংপুর-২ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। মধুপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের আমির কামরুজ্জামানসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
রিপোর্টারের নাম 
























