ঢাকা ০৬:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

দুই দশক পর রংপুরে তারেক: শুক্রবার জনসভা, রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক উদ্দীপনা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৯:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ২০ বছর পর রংপুরে আসছেন। আগামী শুক্রবার তার এই সফরকে কেন্দ্র করে রংপুরজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বার্তা দিচ্ছে। এদিন তিনি পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত এবং রংপুর নগরীর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় ভাষণ দেবেন।

দলীয় কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার বিকেলে তারেক রহমান প্রথমে পীরগঞ্জে জুলাই আন্দোলনে নিহত প্রথম শহীদ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর তিনি শহীদ সাঈদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। পরে তিনি রংপুর নগরীর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) ও সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।

অধ্যক্ষ দুলু বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আগমনকে ঘিরে রংপুর বিভাগের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতেও ভোটার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি বিশ্বাস করেন, শুক্রবারের এই জনসভা রংপুরের সার্বিক উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে। রংপুরের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, রংপুর বরাবরই অবহেলিত ও উন্নয়ন বঞ্চিত একটি অঞ্চল। আমরা আশা করি, বিএনপির নেতৃত্বে আগামী দিনে এই বৈষম্য দূর হবে এবং রংপুর টেকসই উন্নয়নের ধারায় যুক্ত হবে।

রংপুরের সার্বিক উন্নয়নের দাবিতে তারেক রহমানের কাছে একাধিক প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে বলেও জানান দুলু। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পুনরায় চালু, ভারী শিল্প স্থাপন ও গ্যাস সংযোগ প্রদান, কৃষিবিদ প্রকল্প বাস্তবায়ন, পর্যটনশিল্পের আধুনিকায়ন, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন, রংপুর বিভাগের প্রতিটি জেলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন, বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে বহুজাতিক শিল্পকারখানা স্থাপন, সব সড়ক এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করা, বন্ধ স্থলবন্দরগুলো পুনরায় চালু, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদের নামে একটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠান স্থাপন।

এদিকে, জনসভাস্থল কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, মঞ্চ তৈরির চূড়ান্ত কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। নির্বাচনি জনসভার মাঠকে ঘিরে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে মাইক স্থাপনের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা সার্বিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করছেন।

জনসভাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাজান আলী জানান, তারেক রহমানের নির্বাচনি জনসভার জন্য মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে মাঠ পরিদর্শন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাজারে ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট: দাম না বাড়লেও সরবরাহ কম

দুই দশক পর রংপুরে তারেক: শুক্রবার জনসভা, রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক উদ্দীপনা

আপডেট সময় : ০৯:৩৯:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ২০ বছর পর রংপুরে আসছেন। আগামী শুক্রবার তার এই সফরকে কেন্দ্র করে রংপুরজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বার্তা দিচ্ছে। এদিন তিনি পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত এবং রংপুর নগরীর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় ভাষণ দেবেন।

দলীয় কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার বিকেলে তারেক রহমান প্রথমে পীরগঞ্জে জুলাই আন্দোলনে নিহত প্রথম শহীদ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর তিনি শহীদ সাঈদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। পরে তিনি রংপুর নগরীর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) ও সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।

অধ্যক্ষ দুলু বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আগমনকে ঘিরে রংপুর বিভাগের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতেও ভোটার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি বিশ্বাস করেন, শুক্রবারের এই জনসভা রংপুরের সার্বিক উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে। রংপুরের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, রংপুর বরাবরই অবহেলিত ও উন্নয়ন বঞ্চিত একটি অঞ্চল। আমরা আশা করি, বিএনপির নেতৃত্বে আগামী দিনে এই বৈষম্য দূর হবে এবং রংপুর টেকসই উন্নয়নের ধারায় যুক্ত হবে।

রংপুরের সার্বিক উন্নয়নের দাবিতে তারেক রহমানের কাছে একাধিক প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে বলেও জানান দুলু। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পুনরায় চালু, ভারী শিল্প স্থাপন ও গ্যাস সংযোগ প্রদান, কৃষিবিদ প্রকল্প বাস্তবায়ন, পর্যটনশিল্পের আধুনিকায়ন, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন, রংপুর বিভাগের প্রতিটি জেলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন, বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে বহুজাতিক শিল্পকারখানা স্থাপন, সব সড়ক এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করা, বন্ধ স্থলবন্দরগুলো পুনরায় চালু, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদের নামে একটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠান স্থাপন।

এদিকে, জনসভাস্থল কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, মঞ্চ তৈরির চূড়ান্ত কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। নির্বাচনি জনসভার মাঠকে ঘিরে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে মাইক স্থাপনের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা সার্বিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করছেন।

জনসভাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাজান আলী জানান, তারেক রহমানের নির্বাচনি জনসভার জন্য মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে মাঠ পরিদর্শন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।