আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেছেন চট্টগ্রাম নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এবং সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান। তাদের এই আহ্বান ঘিরে ইতোমধ্যে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে, যেখানে ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকরাও বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করছেন।
জানা গেছে, গত বুধবার রাতে নগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান তার ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন। এতে তিনি গণভোটকে ‘প্রতারণার ফাঁদ’ এবং জনগণের ওপর ‘জোর করে চাপিয়ে দেওয়া’ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে ‘না’ ভোটের পক্ষে রায় দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি লেখেন, “গণতন্ত্র ও দেশের স্বার্থে আপনিও না ভোট দিন।” তার এই পোস্টের পরপরই নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। মন্তব্যের ঘরে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
রহিম উদ্দিন চৌধুরী নামের একজন মন্তব্য করেন, “আপনারা না ভোট দিন, নির্বাচনে জনগণও আপনাদের না করে দেবে।” আলী ইউসুফ নামের এক বিএনপিকর্মী লেখেন, “৩৫ বছর দলের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে মার্কা দেখে ভোট দিয়েছি। এবার নিজের স্বার্থে হ্যাঁ ভোট দেব।” শেখ মহসীন নিলু নামের আরেকজন মন্তব্য করেন, “লুটেরা, ধান্ধাবাজ ও দখলবাজরাই না ভোটের পক্ষে। আর সুশাসনের জন্য হ্যাঁ ভোট।” মুস্তফা নঈম প্রশ্ন তোলেন, “হ্যাঁ, হ্যাঁ, হ্যাঁ স্বাক্ষর করেছেন, এখন আবার ডিগবাজি কেন?” মনজুরুর মান্নান নামের একজন লেখেন, “ভারতের দালালগুলোই না ভোট দেবে।” তবে কেউ কেউ তার সঙ্গে একমত পোষণ করে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষেও মন্তব্য করেছেন। আবার অনেকে গণভোটের বিপক্ষে নানা মন্তব্য করে আলোচনা উসকে দিয়েছেন।
একই ধরনের পোস্ট দিয়েছেন নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহও। তিনি চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনে বিএনপির প্রার্থী। তার পোস্টে আয়াজুল ইসলাম আয়াজ নামের একজন লেখেন, “যাদের জন্য আপনারা গণভোটে হ্যাঁ দিতে রাজি নন, তাদের জন্য নির্বাচন করতে পারছেন।” এমদাদুল হক শিহাব নামের আরেকজন মন্তব্য করেন, “তারেক রহমান দুবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন, শুধু এ কারণে আপনারা না দিতে চাচ্ছেন।”
এদিকে, আওয়ামী লীগ সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা নুরুল আজিম রনিও নাজিমুর রহমানের পোস্টটি শেয়ার করে বিএনপিকে বিদ্রূপ করেন। তিনি লেখেন, “ভদ্রলোক চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব। তিনি বুঝেছেন, তবে অনেক দেরিতে। ওনার দল স্বাক্ষর করে এসেছিল। সেটা কী বুঝেই করেছিল, নাকি জোসের ঠ্যালায়? যাই হোক জনগণের সঙ্গে প্রতারণার এ দায় বিএনপি এড়াতে পারে না।” শুধু রনি নন, তার মতো আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতা এ বিষয়ে পোস্ট করে বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন এবং আলোচনা উসকে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে নগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, “‘না’ ভোটে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে বলা হচ্ছে, কিন্তু ‘না’ কেন, সেটি বলা হচ্ছে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে ‘না’ দেব, তবে দলের পক্ষে থাকব।” এ সময় বিএনপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে উল্লেখ করলে তিনি বলেন, “সেখানে নোট অব ডিসেন্ট দেওয়া আছে।”
এ বিষয়ে নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
রিপোর্টারের নাম 
























