ঢাকা ০৭:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

নির্বাচনী দায়িত্বে বিস্ফোরক মামলার আসামিসহ আ.লীগের ৩ নেতা: দিনাজপুর-৫ আসনে বিতর্ক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫০:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

দিনাজপুর-৫ (ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের তিনজন নেতা। এদের মধ্যে দুজনের বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলার অভিযোগ। এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই উপজেলায় মোট ৫৪ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৩০৮ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৩১০ জন পোলিং অফিসার নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। গত ২৫ জানুয়ারি তাদেরকে নির্বাচনী প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। প্রকাশিত ওই তালিকায় পোলিং অফিসার হিসেবে উল্লেখিত তিন আওয়ামী লীগ নেতার নাম রয়েছে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত এই তিন নেতা হলেন: খাজাপুর একরামিয়া ফাযিল মাদ্রাসার অফিস সহ-কাম হিসাবরক্ষক আব্দুস সাত্তার, যিনি ফুলবাড়ী পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে ককটেল হামলার ৮ নম্বর আসামি হিসেবে অভিযোগ রয়েছে। দ্বিতীয় জন হলেন খয়েরবাড়ী দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আ. সালাম সরকার। তিনি ৬ নং দৌলতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং বিস্ফোরক মামলার ১২ নম্বর আসামি। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন। তৃতীয়জন হলেন চৌরাইট মহেশপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুরাদ হোসেন সরকার, যিনি ৫নং খয়েরবাড়ী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দিনাজপুর জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ইমরান চৌধুরী নিশাদ এই নিয়োগের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে এই শিক্ষকরা নির্বাচনী দায়িত্বে থেকে ডামি নির্বাচনে সহায়তা করে ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করেছিলেন। একটি নিষিদ্ধ দলের পদধারী ও বিস্ফোরক মামলার আসামিদের নির্বাচনে দায়িত্ব দেওয়া কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, গোপনে কোনো রকম যাচাই-বাছাই না করেই এই তালিকা করা হয়েছে এবং অবিলম্বে এসব নাম তালিকা থেকে প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ খুরশিদ আলম মতি এ প্রসঙ্গে বলেন, “প্রশাসনে যারা আছেন, তারা পুরোনো ব্যক্তিদেরই চেনেন, নতুন কাউকে চেনেন না। সেই হিসেবেই তারা বিগত দিনের পোলিং অফিসারদের তালিকা করেছেন। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের আরও সতর্কভাবে কাজ করা উচিত ছিল। আমরা মনে করি, তারা উদাসীন ছিলেন এবং ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করেননি।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুস সামাদ জানান, “আমরা প্রতিটি দপ্তর থেকে তালিকা সংগ্রহ করে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠিয়েছি। প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার মূলত তিনিই নিয়োগ দিয়েছেন।” তিনি এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার আহমেদ হাছান এ প্রসঙ্গে বলেন, “তালিকায় যদি আওয়ামী লীগের কোনো নেতা বা মামলার আসামি থেকে থাকেন, তবে তাদেরকে দায়িত্ব থেকে বাদ দেওয়া হবে। নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত এই সুযোগ রয়েছে।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করলে ব্রিটেনসহ যেকোনো দেশ ইরানের হামলার শিকার হবে: আইআরজিসি

নির্বাচনী দায়িত্বে বিস্ফোরক মামলার আসামিসহ আ.লীগের ৩ নেতা: দিনাজপুর-৫ আসনে বিতর্ক

আপডেট সময় : ০৮:৫০:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

দিনাজপুর-৫ (ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের তিনজন নেতা। এদের মধ্যে দুজনের বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলার অভিযোগ। এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই উপজেলায় মোট ৫৪ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৩০৮ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৩১০ জন পোলিং অফিসার নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। গত ২৫ জানুয়ারি তাদেরকে নির্বাচনী প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। প্রকাশিত ওই তালিকায় পোলিং অফিসার হিসেবে উল্লেখিত তিন আওয়ামী লীগ নেতার নাম রয়েছে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত এই তিন নেতা হলেন: খাজাপুর একরামিয়া ফাযিল মাদ্রাসার অফিস সহ-কাম হিসাবরক্ষক আব্দুস সাত্তার, যিনি ফুলবাড়ী পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে ককটেল হামলার ৮ নম্বর আসামি হিসেবে অভিযোগ রয়েছে। দ্বিতীয় জন হলেন খয়েরবাড়ী দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আ. সালাম সরকার। তিনি ৬ নং দৌলতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং বিস্ফোরক মামলার ১২ নম্বর আসামি। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন। তৃতীয়জন হলেন চৌরাইট মহেশপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুরাদ হোসেন সরকার, যিনি ৫নং খয়েরবাড়ী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দিনাজপুর জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ইমরান চৌধুরী নিশাদ এই নিয়োগের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে এই শিক্ষকরা নির্বাচনী দায়িত্বে থেকে ডামি নির্বাচনে সহায়তা করে ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করেছিলেন। একটি নিষিদ্ধ দলের পদধারী ও বিস্ফোরক মামলার আসামিদের নির্বাচনে দায়িত্ব দেওয়া কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, গোপনে কোনো রকম যাচাই-বাছাই না করেই এই তালিকা করা হয়েছে এবং অবিলম্বে এসব নাম তালিকা থেকে প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ খুরশিদ আলম মতি এ প্রসঙ্গে বলেন, “প্রশাসনে যারা আছেন, তারা পুরোনো ব্যক্তিদেরই চেনেন, নতুন কাউকে চেনেন না। সেই হিসেবেই তারা বিগত দিনের পোলিং অফিসারদের তালিকা করেছেন। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের আরও সতর্কভাবে কাজ করা উচিত ছিল। আমরা মনে করি, তারা উদাসীন ছিলেন এবং ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করেননি।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুস সামাদ জানান, “আমরা প্রতিটি দপ্তর থেকে তালিকা সংগ্রহ করে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠিয়েছি। প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার মূলত তিনিই নিয়োগ দিয়েছেন।” তিনি এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার আহমেদ হাছান এ প্রসঙ্গে বলেন, “তালিকায় যদি আওয়ামী লীগের কোনো নেতা বা মামলার আসামি থেকে থাকেন, তবে তাদেরকে দায়িত্ব থেকে বাদ দেওয়া হবে। নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত এই সুযোগ রয়েছে।”