ঢাকা ০৬:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

গণভোট ঘিরে সরব ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসংসদ: ডাকসু ভিপি বললেন, ‘হ্যাঁ’ মানে জনগণের ক্ষমতা, ‘না’ বিদেশি স্বার্থের পক্ষে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৯:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন গণভোটকে সামনে রেখে সিলেট নগরীতে সরব হয়ে উঠেছে ‘ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসংসদ’। বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখ নেই, তাই বাদ দেবো বা “সম্প্রতি” ব্যবহার করবো, তবে মূল আর্টিকেলে “বৃহস্পতিবার” আছে, তাই রাখবো) সিলেট নগরীর চৌহাট্টায় আয়োজিত এক গণজমায়েতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া। অন্যদিকে, ‘না’ মানে বিদেশি স্বার্থ রক্ষা ও বিচারিক হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন জানানো। বিভিন্ন ছাত্রসংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত এই সংগঠনটি ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে জোরালো প্রচারণায় নেমেছে।

গণজমায়েতে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, দেশের কৃষক, শ্রমিক ও রিকশাচালকের অর্থে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়। তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্র তৈরি করাই ‘হ্যাঁ’-এর মূল লক্ষ্য। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘হ্যাঁ’ মানে বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে সংঘটিত গুম, খুন ও ‘আয়নাঘরের সংস্কৃতি’র মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা। এ প্রসঙ্গে তিনি শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ফ্যাসিবাদী কাঠামো ভেঙে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ছাত্রসমাজ ও সাধারণ জনগণ ইতোমধ্যে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে প্রথম সিল ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষেই পড়বে।

ভিপি সাদিক কায়েম অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক পক্ষ ‘না’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়ে ভারতের স্বার্থ রক্ষা ও পুরোনো গুম-খুনের রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে চায়। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সমালোচনা করে বলেন, দলটি শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ থেকে সরে গেছে। তাই ভুল সংশোধন করে ‘জুলাই বিপ্লবের’ আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে দ্রুত ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা শুরুর আহ্বান জানান তিনি। সবশেষে তিনি সিলেটবাসীকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে গ্রাম ও মহল্লায় প্রচারে জোরদার করার আহ্বান জানান।

সমাবেশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, আগামী নির্বাচনে যাতে কোনো চাঁদাবাজ, জালিমের হাতে দেশের ক্ষমতা না যায়, সেজন্য ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেন। এর আগে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে প্রচারের জন্য ডাকসু, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ও জকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ‘ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসংসদ’ নামে সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করে।

সিলেটের এই সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, চাকসু জিএস সাঈদ বিন হাবীব ও জাকসু জিএস মাজহারুল ইসলামসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নেতারা। এছাড়া সিলেট-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরীসহ ছাত্রশিবিরের জেলা ও মহানগর এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতাকর্মীরা এতে অংশ নেন।

এদিকে সিলেট নগরীর গুরুত্বপূর্ণ চার রাস্তার সংযোগস্থল চৌহাট্টা পয়েন্টের মধ্যখানে এই গণজমায়েত নিয়ে অনেকে সমালোচনা করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার সংযোগস্থলে এ ধরনের জমায়েত করা যায় কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গণজমায়েত ঘিরে জিন্দাবাজারমুখী রাস্তাটির যান চলাচল বন্ধ হওয়ায় সাধারণ জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাজারে ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট: দাম না বাড়লেও সরবরাহ কম

গণভোট ঘিরে সরব ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসংসদ: ডাকসু ভিপি বললেন, ‘হ্যাঁ’ মানে জনগণের ক্ষমতা, ‘না’ বিদেশি স্বার্থের পক্ষে

আপডেট সময় : ০৮:৪৯:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন গণভোটকে সামনে রেখে সিলেট নগরীতে সরব হয়ে উঠেছে ‘ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসংসদ’। বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখ নেই, তাই বাদ দেবো বা “সম্প্রতি” ব্যবহার করবো, তবে মূল আর্টিকেলে “বৃহস্পতিবার” আছে, তাই রাখবো) সিলেট নগরীর চৌহাট্টায় আয়োজিত এক গণজমায়েতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া। অন্যদিকে, ‘না’ মানে বিদেশি স্বার্থ রক্ষা ও বিচারিক হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন জানানো। বিভিন্ন ছাত্রসংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত এই সংগঠনটি ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে জোরালো প্রচারণায় নেমেছে।

গণজমায়েতে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, দেশের কৃষক, শ্রমিক ও রিকশাচালকের অর্থে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়। তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্র তৈরি করাই ‘হ্যাঁ’-এর মূল লক্ষ্য। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘হ্যাঁ’ মানে বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে সংঘটিত গুম, খুন ও ‘আয়নাঘরের সংস্কৃতি’র মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা। এ প্রসঙ্গে তিনি শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ফ্যাসিবাদী কাঠামো ভেঙে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ছাত্রসমাজ ও সাধারণ জনগণ ইতোমধ্যে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে প্রথম সিল ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষেই পড়বে।

ভিপি সাদিক কায়েম অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক পক্ষ ‘না’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়ে ভারতের স্বার্থ রক্ষা ও পুরোনো গুম-খুনের রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে চায়। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সমালোচনা করে বলেন, দলটি শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ থেকে সরে গেছে। তাই ভুল সংশোধন করে ‘জুলাই বিপ্লবের’ আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে দ্রুত ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা শুরুর আহ্বান জানান তিনি। সবশেষে তিনি সিলেটবাসীকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে গ্রাম ও মহল্লায় প্রচারে জোরদার করার আহ্বান জানান।

সমাবেশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, আগামী নির্বাচনে যাতে কোনো চাঁদাবাজ, জালিমের হাতে দেশের ক্ষমতা না যায়, সেজন্য ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেন। এর আগে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে প্রচারের জন্য ডাকসু, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ও জকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ‘ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসংসদ’ নামে সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করে।

সিলেটের এই সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, চাকসু জিএস সাঈদ বিন হাবীব ও জাকসু জিএস মাজহারুল ইসলামসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নেতারা। এছাড়া সিলেট-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরীসহ ছাত্রশিবিরের জেলা ও মহানগর এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতাকর্মীরা এতে অংশ নেন।

এদিকে সিলেট নগরীর গুরুত্বপূর্ণ চার রাস্তার সংযোগস্থল চৌহাট্টা পয়েন্টের মধ্যখানে এই গণজমায়েত নিয়ে অনেকে সমালোচনা করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার সংযোগস্থলে এ ধরনের জমায়েত করা যায় কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গণজমায়েত ঘিরে জিন্দাবাজারমুখী রাস্তাটির যান চলাচল বন্ধ হওয়ায় সাধারণ জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।