ভোলা-৪ আসনের চরফ্যাশন পৌরসভায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এক ঘটনায় মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। নারী কর্মী হেনস্তার অভিযোগ তুলে ইসলামী আন্দোলন সংবাদ সম্মেলন করার পরদিনই পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে জামায়াত।
বৃহস্পতিবার দুপুরে চরফ্যাশন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আমীর অধ্যক্ষ মীর মোহাম্মদ শরীফ হোসেন অভিযোগ করেন, ইসলামী আন্দোলনের নারী কর্মী মারিয়া কামাল সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, জামায়াতের দুই কর্মী তাদের নির্বাচনী প্রচারে বাধা দিয়ে তাকে হেনস্থা করেছেন। তবে জামায়াত বিষয়টি যাচাই করে ভিন্ন তথ্য পেয়েছে।
তিনি জানান, গত বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ইসলামী আন্দোলনের ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী এ এম এম কামাল উদ্দিনের মেয়ে মারিয়া কামাল, তার ছেলে তাহযিব এবং যুব আন্দোলনের সেক্রেটারি ফয়সাল হাত পাখা প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগ চালাচ্ছিলেন। এ সময় তারা ওই এলাকার সোহেল নামের এক ব্যক্তি ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বশির উল্লাহকে লিফলেট দেন। লিফলেট গ্রহণকালে নির্বাচনি জোট ও পীর সাহেবকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
অধ্যক্ষ শরীফ অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে যুব আন্দোলনের নেতা ফয়সাল অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বশির উল্লাহর গায়ে হাত তোলেন। একই সময় পাশ দিয়ে যাওয়া স্থানীয় মসজিদের ইমাম হাফেজ আলাউদ্দিন ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে ফয়সাল তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন। পরে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হলে ফয়সাল হাফেজ আলাউদ্দিনকে মারধর করে মাটিতে ফেলে দেন। ঘটনার ভাইরাল ভিডিওতে এসব দৃশ্য স্পষ্ট দেখা যায় বলেও তিনি দাবি করেন।
পরে আহত হাফেজ আলাউদ্দিনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
অধ্যক্ষ মীর মোহাম্মদ শরীফ হোসেন আরও বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে কোনো নারী হেনস্তার বিষয় জড়িত না থাকলেও জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। এমনকি ঘটনার দিন বিকেলে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটলেও, পরে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত ফেসবুক পেজে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে নারী হেনস্তার মিথ্যা গল্প ছড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
এদিকে, এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে একই ঘটনায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ভোলা-৪ আসনের প্রার্থী এ এম এম কামাল উদ্দিন নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তার দলের নারী কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ তোলেন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
রিপোর্টারের নাম 
























