ঢাকা ০৮:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

ন্যায্যমূল্য বঞ্চিত আলু চাষিদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ঘোষণা, লক্ষ্য উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২১:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

দেশে আলুর ন্যায্যমূল্য না পেয়ে লোকসানের মুখে পড়েছেন প্রান্তিক চাষিরা। এর ফলে চলতি মৌসুমে আলু চাষে কৃষকদের মধ্যে এক ধরনের অনীহা তৈরি হয়েছে, যা সামগ্রিক উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে এবং আলু চাষে পুনরায় উদ্বুদ্ধ করতে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হলেও চাষিরা কাঙ্ক্ষিত মুনাফা অর্জন করতে পারেননি। ফলে অনেক কৃষক এবার আলু আবাদ কমিয়ে দিয়ে বেগুন, মিষ্টি কুমড়া ও লাউসহ অন্যান্য লাভজনক সবজি চাষের দিকে ঝুঁকছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, অভ্যন্তরীণ চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত উৎপাদন এবং সেই অনুপাতে রপ্তানি না হওয়ায় বাজারে আলুর দাম কমে যায়। ফলে কৃষকদের লোকসান এড়াতে এবং উৎপাদন চাহিদার কাছাকাছি রাখতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সবজি চাষের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তথ্যমতে, দেশে আলুর বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৯০ লাখ মেট্রিক টন। বিপরীতে গত মৌসুমে উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ১৫ লাখ ৭৩ হাজার মেট্রিক টনের বেশি। এই বিশাল উদ্বৃত্ত আলু আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা সম্ভব হলে কৃষকরা লাভবান হতেন। কিন্তু অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহারের কারণে দেশের সাধারণ মানের আলু অনেক ক্ষেত্রে রপ্তানিযোগ্য বিবেচিত হচ্ছে না। তবে সানসাইন, ডায়মন্ড, গ্র্যানোলা ও বারি আলু-৬২ এর মতো উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন কিছু বিশেষ জাতের আলু বর্তমানে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।

রপ্তানিকারকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে আলুর প্রচুর চাহিদা থাকলেও রপ্তানিযোগ্য উন্নত জাতের আলুর চাষ দেশে এখনো সীমিত। যদি উন্নত মানের আলুর আবাদ বৃদ্ধি করা যায়, তবে দেশের রপ্তানি আয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। বাংলাদেশ আলু রপ্তানিকারক সমিতির মতে, বিএডিসি-র সরবরাহকৃত ‘সানসাইন’ জাতের আলু বিশ্ববাজারে বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে আলু রপ্তানি থেকে অর্জিত আয় ছিল ৩৩ মিলিয়ন ডলারের বেশি, যা গত কয়েক বছর ধরে ১০ মিলিয়ন ডলারের আশেপাশে নেমে এসেছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে আলু রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৩২ হাজার ৩৯২ মেট্রিক টন, যা আগের বছরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কম।

কৃষকদের এই সংকটময় পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সম্প্রতি সচিবালয়ে কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, আলুর উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও কৃষকরা সঠিক দাম না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবং আলু চাষে গতি ফেরাতে সরকার চাষিদের প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। সরকারের এই উদ্যোগ সঠিক সময়ে বাস্তবায়িত হলে কৃষকরা পুনরায় আলু চাষে আগ্রহী হবেন এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও রপ্তানি বাণিজ্য শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় লিজেন্ডারি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলেকে শেষ বিদায়

ন্যায্যমূল্য বঞ্চিত আলু চাষিদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ঘোষণা, লক্ষ্য উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধি

আপডেট সময় : ০৯:২১:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

দেশে আলুর ন্যায্যমূল্য না পেয়ে লোকসানের মুখে পড়েছেন প্রান্তিক চাষিরা। এর ফলে চলতি মৌসুমে আলু চাষে কৃষকদের মধ্যে এক ধরনের অনীহা তৈরি হয়েছে, যা সামগ্রিক উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে এবং আলু চাষে পুনরায় উদ্বুদ্ধ করতে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হলেও চাষিরা কাঙ্ক্ষিত মুনাফা অর্জন করতে পারেননি। ফলে অনেক কৃষক এবার আলু আবাদ কমিয়ে দিয়ে বেগুন, মিষ্টি কুমড়া ও লাউসহ অন্যান্য লাভজনক সবজি চাষের দিকে ঝুঁকছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, অভ্যন্তরীণ চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত উৎপাদন এবং সেই অনুপাতে রপ্তানি না হওয়ায় বাজারে আলুর দাম কমে যায়। ফলে কৃষকদের লোকসান এড়াতে এবং উৎপাদন চাহিদার কাছাকাছি রাখতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সবজি চাষের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তথ্যমতে, দেশে আলুর বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৯০ লাখ মেট্রিক টন। বিপরীতে গত মৌসুমে উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ১৫ লাখ ৭৩ হাজার মেট্রিক টনের বেশি। এই বিশাল উদ্বৃত্ত আলু আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা সম্ভব হলে কৃষকরা লাভবান হতেন। কিন্তু অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহারের কারণে দেশের সাধারণ মানের আলু অনেক ক্ষেত্রে রপ্তানিযোগ্য বিবেচিত হচ্ছে না। তবে সানসাইন, ডায়মন্ড, গ্র্যানোলা ও বারি আলু-৬২ এর মতো উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন কিছু বিশেষ জাতের আলু বর্তমানে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।

রপ্তানিকারকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে আলুর প্রচুর চাহিদা থাকলেও রপ্তানিযোগ্য উন্নত জাতের আলুর চাষ দেশে এখনো সীমিত। যদি উন্নত মানের আলুর আবাদ বৃদ্ধি করা যায়, তবে দেশের রপ্তানি আয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। বাংলাদেশ আলু রপ্তানিকারক সমিতির মতে, বিএডিসি-র সরবরাহকৃত ‘সানসাইন’ জাতের আলু বিশ্ববাজারে বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে আলু রপ্তানি থেকে অর্জিত আয় ছিল ৩৩ মিলিয়ন ডলারের বেশি, যা গত কয়েক বছর ধরে ১০ মিলিয়ন ডলারের আশেপাশে নেমে এসেছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে আলু রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৩২ হাজার ৩৯২ মেট্রিক টন, যা আগের বছরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কম।

কৃষকদের এই সংকটময় পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সম্প্রতি সচিবালয়ে কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, আলুর উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও কৃষকরা সঠিক দাম না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবং আলু চাষে গতি ফেরাতে সরকার চাষিদের প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। সরকারের এই উদ্যোগ সঠিক সময়ে বাস্তবায়িত হলে কৃষকরা পুনরায় আলু চাষে আগ্রহী হবেন এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও রপ্তানি বাণিজ্য শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।