গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুরক্ষা ও কেন্দ্র দখলের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়েছেন ন্যাশনাল কনজিউমার পার্টি (এনসিপি)-এর মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, “কেউ যদি কেন্দ্র দখল করতে আসে, তবে তাদের প্রতিরোধ করতে হবে।” বুধবার মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানিগঞ্জ বাজারে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ তাঁর বক্তব্যে মুরাদনগরের উন্নয়ন, এলাকার নারীদের সম্মান রক্ষা এবং চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, এই লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য আসন্ন নির্বাচনে ইউসুফ সোহেল ভাইকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
নিজের জন্মস্থান মুরাদনগরের প্রতি গভীর ভালোবাসা প্রকাশ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, তিনি বাংলাদেশের যেখানেই থাকুন না কেন, মুরাদনগরের মানুষের কথা তাঁর হৃদয়ে সবসময় থাকে। তিনি অভিযোগ করেন যে, অতীতে একদল জনপ্রতিনিধি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নালিশ করে মুরাদনগরের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেট কমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যারা আপনাদের উন্নয়ন চায় না, তাদের কি আপনারা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন?” তিনি প্রবীণদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, অতীতে মুরাদনগরে ‘দাদা বাহিনী’ নামে একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সক্রিয় ছিল, যাদের সদস্যদের নাম ছিল ‘টার্মিনাল অমুক’, ‘পিস্তল তমুক’। তিনি আশ্বাস দেন যে, মুরাদনগরে আর কোনো ‘অমুক তমুক’-এর স্থান হবে না। তিনি ভোটারদের নিশ্চিত করতে বলেন যে, মুরাদনগরের জনগণ যেন ভয়ভীতি ছাড়াই তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।
এগারো দলীয় জোটের পক্ষ থেকে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, জোট নির্বাচিত হলে বাঙ্গুরা বাজারকে উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হবে। তিনি আরও বলেন, মুরাদনগরের মানুষ যেন আর কখনো কোনো বঞ্চনার শিকার না হয়, সেজন্য গণভোটের মাধ্যমে তাঁকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান।
কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম শহীদ বলেন, তাঁরা সংসদে কোনো দ্বৈত নাগরিককে দেখতে চান না। তিনি এগারো দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী ইউসুফ হাকিমকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এগারো দলীয় ঐক্য জোট ক্ষমতায় আসলে দেশে ‘ইনসাফের বাংলাদেশ’ কায়েম হবে।
কুমিল্লা-৩, মুরাদনগর আসনের এগারো দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী ইউসুফ সোহেল আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ভারতীয় আধিপত্যবাদ, চাঁদাবাজ এবং পাথরখেকোদের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “মুমিনরা এক গর্তে বারবার পা দেয় না।” তিনি উল্লেখ করেন যে, অতীতে এই আসনে পাঁচবার দুর্নীতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যদি ভোট প্রদানে কোনো বাধা দেওয়া হয়, তবে মুরাদনগর থেকেই প্রতিরোধের আগুন জ্বলে উঠবে।
এই পথসভায় এনসিপি-এর যুগ্ম সদস্য সচিব তাহসিন রিয়াজ, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ, যুবশক্তির মুখ্য সংগঠক ফরহাদ সোহেলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 
























