জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ প্রথম অধিবেশনের ১৯তম দিনে জ্বালানি সংকট, সার ডিলার নিয়োগ এবং চট্টগ্রামে ‘গুপ্ত’ লেখাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের ইস্যুতে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বিতর্ক ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট নিরসনে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন এবং কৃষকদের ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরে সংকট মোকাবিলায় সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে একটি ‘যৌথ কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দেন। জবাবে জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় সরকারের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে পরিস্থিতিকে ‘অসহনীয় সংকট’ বলতে অস্বীকৃতি জানান। তবে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান দেশের মানুষের স্বার্থে যেকোনো গঠনমূলক প্রস্তাব আলোচনায় সদিচ্ছা প্রকাশ করেন।
কৃষিখাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৪ এপ্রিল থেকে ‘কৃষক কার্ড’ উদ্বোধনের কথা জানান, যার মাধ্যমে কৃষকরা ১০টি অত্যাবশ্যকীয় সেবা ও সরকারি প্রণোদনা সরাসরি লাভ করবেন। এদিকে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত সার ডিলারদের পরিবর্তন করে নতুন ডিলার নিয়োগের বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী দল একমত পোষণ করেছে এবং প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রামে ‘গুপ্ত’ লেখাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যকার সংঘর্ষের বিষয়টি অধিবেশনে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের জন্ম দেয়। সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁঞা এই ঘটনাকে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হিসেবে অভিহিত করেন, যার প্রতিবাদে বিরোধী দলের সদস্যরা হট্টগোল শুরু করলে স্পিকার সবাইকে সংসদীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ শুল্কমুক্ত গাড়ির পরিবর্তে জেলা প্রশাসক বা অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের মতো সংসদ সদস্যদের জন্য কেবল সরকারি মালিকানাধীন গাড়ি ব্যবহারের সুবিধা চান, যা অন্যান্য সংসদ সদস্যরাও সমর্থন করেন। নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম অধিবেশনে জানান যে, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পায়রা বন্দর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, চট্টগ্রাম বন্দর কোনো বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের নেই; তবে সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কেবল নির্দিষ্ট টার্মিনাল পরিচালনার জন্য দেশি-বিদেশি অপারেটর নিয়োগ করা হতে পারে। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জোরালো দাবি উত্থাপন করা হয়।
রিপোর্টারের নাম 
























