ঢাকা ০৪:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

‘সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য বিএনপিকে জড়াচ্ছেন পাটওয়ারী’: মির্জা আব্বাস; দিলেন ‘লাল কার্ড’ দেখানোর হুঁশিয়ারি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১২:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ‘সস্তা জনপ্রিয়তা’ অর্জনের লক্ষ্যে গণসংযোগে হামলার ঘটনা নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা আব্বাস। মঙ্গলবার রাজধানীর মালিবাগ গুলবাগে নির্বাচনী প্রচারণাকালে তিনি এই অভিযোগ করেন এবং পাটওয়ারীকে উদ্দেশ্য করে ‘১২ তারিখে জনগণই লাল কার্ড দেখাবে’ বলে হুঁশিয়ারি দেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, “আমি চা পানের আমন্ত্রণ জানিয়েছি, এটিও আমার দোষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বলা হচ্ছে, এটি নাকি হুমকি। তাদের কথায় আমি ভীত। কোথায় কী ঘটে যায়, তার সব দায়ভার যেন মির্জা আব্বাসের ওপরই বর্তায়।”

তিনি বলেন, “আমি যখন তোমাদের বয়সে ছিলাম, তখন এই ঢাকা শহর দাপিয়ে বেড়িয়েছি। শহরজুড়ে আমার অসংখ্য বন্ধু ও আত্মীয়স্বজন আছেন। আমার যত ভক্ত-সমর্থক আছে, তোমাদের আত্মীয়স্বজনও তত নেই।” প্রতিদ্বন্দ্বীদের উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, “যে যা-ই বলুক না কেন, আমি তাদের ফাঁদে পা দেবো না। আমি আমার ভোট চাইবো, তোমরাও তোমাদের ভোট চাও। এলাকার জন্য কী করেছো আর ভবিষ্যতে কী করবে, সে বিষয়ে কথা বলো। তোমরা শুধু পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করার চেষ্টা করছো।”

সাবেক এই মন্ত্রী নতুন প্রার্থীদের ‘অতিথি পাখি’র সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “নির্বাচনের সময় কিছু অতিথি পাখি দেখা যায়, পরে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না। অথচ আমি ১৯৯১ সাল থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। কেউ বলতে পারবে না যে আমাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।” তিনি তার আন্দোলন-সংগ্রামের দিনের কথা স্মরণ করে বলেন, “যখন আন্দোলন করেছি, তখন এ এলাকার মানুষ হাত উঁচিয়ে সমর্থন দিয়েছেন। পুলিশি হামলা হলে বিভিন্ন মার্কেটে আশ্রয় নিয়েছি। অন্য কোনো প্রার্থী কি আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছেন? তোমাদের কাজ শুধু কুৎসা রটানো।”

মির্জা আব্বাস দাবি করেন, তিনি বহুবার সংসদ সদস্য ছিলেন। “কেউ বলতে পারবে না আমার কাছে এসে খালি হাতে ফিরে গেছে। তবে, আমি যা পারবো না, তার মিথ্যা আশ্বাসও কখনো দেইনি। আমি ফেরেশতা নই, কিন্তু কারও ক্ষতি করার জন্য মিথ্যা কথা বলি না।”

তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীদের ‘মাছের পোনা’ আখ্যা দিয়ে তাদের ঠিকানা এবং এলাকার প্রতি তাদের অবদান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বলেন, “আমি যখন জেলে ছিলাম, তখনও এলাকার মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে আমার বাসায় গেছেন। আমার স্ত্রী ও কর্মকর্তারা তাদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছেন। আজকে যারা লম্বা লম্বা কথা বলছেন, তারা কতজনকে সাহায্য করেছেন? এলাকার কতজনের জানাজায় গেছেন, কয়জনের বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন? অথচ আবার বলেন, ‘আমার এলাকা’!”

একজন প্রার্থী চাঁদাবাজি না কমালে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর কথা বলেছেন উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, “আরে, চাঁদাবাজি তো আপনারাই করছেন। চাঁদাবাজির তকমা দিয়ে নির্বাচন করতে চাচ্ছেন। তাহলে চাঁদাবাজদের কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না? যারা লাল কার্ড দেখানোর কথা বলছেন, ১২ তারিখে জনগণই আপনাদের লাল কার্ড দেখাবে।”

তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “ভাবটা এমন যেন বিএনপিই ক্ষমতায় আছে। আওয়ামী লীগকে যেভাবে সরানো হয়েছে, বিএনপিকেও সেভাবে তাড়ানো হবে। বিএনপি বানের জলে ভেসে আসেনি। সবকিছুতেই বিএনপির দোষ দেওয়া হচ্ছে। দেশজুড়ে এখন থেকেই একটি অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালের কড়াপুর মিয়াবাড়ি মসজিদ: ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের স্মৃতি বিজড়িত এক স্থাপত্য

‘সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য বিএনপিকে জড়াচ্ছেন পাটওয়ারী’: মির্জা আব্বাস; দিলেন ‘লাল কার্ড’ দেখানোর হুঁশিয়ারি

আপডেট সময় : ১০:১২:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ‘সস্তা জনপ্রিয়তা’ অর্জনের লক্ষ্যে গণসংযোগে হামলার ঘটনা নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা আব্বাস। মঙ্গলবার রাজধানীর মালিবাগ গুলবাগে নির্বাচনী প্রচারণাকালে তিনি এই অভিযোগ করেন এবং পাটওয়ারীকে উদ্দেশ্য করে ‘১২ তারিখে জনগণই লাল কার্ড দেখাবে’ বলে হুঁশিয়ারি দেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, “আমি চা পানের আমন্ত্রণ জানিয়েছি, এটিও আমার দোষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বলা হচ্ছে, এটি নাকি হুমকি। তাদের কথায় আমি ভীত। কোথায় কী ঘটে যায়, তার সব দায়ভার যেন মির্জা আব্বাসের ওপরই বর্তায়।”

তিনি বলেন, “আমি যখন তোমাদের বয়সে ছিলাম, তখন এই ঢাকা শহর দাপিয়ে বেড়িয়েছি। শহরজুড়ে আমার অসংখ্য বন্ধু ও আত্মীয়স্বজন আছেন। আমার যত ভক্ত-সমর্থক আছে, তোমাদের আত্মীয়স্বজনও তত নেই।” প্রতিদ্বন্দ্বীদের উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, “যে যা-ই বলুক না কেন, আমি তাদের ফাঁদে পা দেবো না। আমি আমার ভোট চাইবো, তোমরাও তোমাদের ভোট চাও। এলাকার জন্য কী করেছো আর ভবিষ্যতে কী করবে, সে বিষয়ে কথা বলো। তোমরা শুধু পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করার চেষ্টা করছো।”

সাবেক এই মন্ত্রী নতুন প্রার্থীদের ‘অতিথি পাখি’র সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “নির্বাচনের সময় কিছু অতিথি পাখি দেখা যায়, পরে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না। অথচ আমি ১৯৯১ সাল থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। কেউ বলতে পারবে না যে আমাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।” তিনি তার আন্দোলন-সংগ্রামের দিনের কথা স্মরণ করে বলেন, “যখন আন্দোলন করেছি, তখন এ এলাকার মানুষ হাত উঁচিয়ে সমর্থন দিয়েছেন। পুলিশি হামলা হলে বিভিন্ন মার্কেটে আশ্রয় নিয়েছি। অন্য কোনো প্রার্থী কি আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছেন? তোমাদের কাজ শুধু কুৎসা রটানো।”

মির্জা আব্বাস দাবি করেন, তিনি বহুবার সংসদ সদস্য ছিলেন। “কেউ বলতে পারবে না আমার কাছে এসে খালি হাতে ফিরে গেছে। তবে, আমি যা পারবো না, তার মিথ্যা আশ্বাসও কখনো দেইনি। আমি ফেরেশতা নই, কিন্তু কারও ক্ষতি করার জন্য মিথ্যা কথা বলি না।”

তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীদের ‘মাছের পোনা’ আখ্যা দিয়ে তাদের ঠিকানা এবং এলাকার প্রতি তাদের অবদান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বলেন, “আমি যখন জেলে ছিলাম, তখনও এলাকার মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে আমার বাসায় গেছেন। আমার স্ত্রী ও কর্মকর্তারা তাদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছেন। আজকে যারা লম্বা লম্বা কথা বলছেন, তারা কতজনকে সাহায্য করেছেন? এলাকার কতজনের জানাজায় গেছেন, কয়জনের বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন? অথচ আবার বলেন, ‘আমার এলাকা’!”

একজন প্রার্থী চাঁদাবাজি না কমালে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর কথা বলেছেন উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, “আরে, চাঁদাবাজি তো আপনারাই করছেন। চাঁদাবাজির তকমা দিয়ে নির্বাচন করতে চাচ্ছেন। তাহলে চাঁদাবাজদের কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না? যারা লাল কার্ড দেখানোর কথা বলছেন, ১২ তারিখে জনগণই আপনাদের লাল কার্ড দেখাবে।”

তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “ভাবটা এমন যেন বিএনপিই ক্ষমতায় আছে। আওয়ামী লীগকে যেভাবে সরানো হয়েছে, বিএনপিকেও সেভাবে তাড়ানো হবে। বিএনপি বানের জলে ভেসে আসেনি। সবকিছুতেই বিএনপির দোষ দেওয়া হচ্ছে। দেশজুড়ে এখন থেকেই একটি অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।”