মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৫:০৪ অপরাহ্ন | ৩০শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | শুক্রবার, ১৪ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

কঠোর মুদ্রানীতির প্রভাবে ১২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান চ্যুতি, আরও বড় সংকটের আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের

  • হালনাগাদ সময় : ০১:৫২:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

দেশের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্রহণ করা কঠোর মুদ্রানীতির নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে শ্রমবাজারে। এই নীতি অনুসরণের ফলে ইতোমধ্যে দেশের প্রায় ১২ লাখ মানুষ কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন। আগামী ছয় মাসের মধ্যে আরও ১২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ (আইসিসিবি) আয়োজিত ‘ব্যাংকিং খাতের ওপর এলডিসি উত্তরণের প্রভাব: বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ এই উদ্বেগের কথা জানান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এবং আইসিসিবির সভাপতি মাহবুবুর রহমানসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকার ও উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ কে আজাদ তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, কেবল মুদ্রানীতি কঠোর করে মূল্যস্ফীতি কমানো সম্ভব নয়। কারণ এটি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে রাজস্ব নীতিসহ অর্থনীতির আরও অনেক বিষয়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। মুদ্রানীতির বর্তমান কড়াকড়িতে শিল্পোৎপাদন ও ব্যবসা-বাণিজ্য সংকুচিত হওয়ায় কর্মসংস্থানে এর বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।

বৈঠকে উপস্থাপিত একটি গবেষণাপত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আরও জানান, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ ঘটলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে রপ্তানি বাণিজ্যে প্রায় ৪৫ শতাংশ নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। একই সাথে তৈরি পোশাক খাতে মন্দা দেখা দেওয়ায় ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের (এনপিএল) পরিমাণ ৩০ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। এর ফলে ব্যাংকগুলোতে তীব্র তারল্য সংকট তৈরি হচ্ছে এবং সামগ্রিক রপ্তানি কার্যক্রম পদ্ধতিগত চাপের মুখে পড়ছে।

দেশের ব্যাংক খাতের নাজুক অবস্থার চিত্র তুলে ধরে এই ব্যবসায়ী নেতা জানান, বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের হার ৫০ শতাংশ এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে এই হার গড়ে ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে। খেলাপি ঋণের এই উচ্চ হার দেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি সতর্ক করেন।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

হঠাৎ অভিনয় ছাড়ার ঘোষণা দিলেন রাসেল মিয়া

30 October 2026

প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি: বিমানে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

কঠোর মুদ্রানীতির প্রভাবে ১২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান চ্যুতি, আরও বড় সংকটের আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের

হালনাগাদ সময় : ০১:৫২:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্রহণ করা কঠোর মুদ্রানীতির নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে শ্রমবাজারে। এই নীতি অনুসরণের ফলে ইতোমধ্যে দেশের প্রায় ১২ লাখ মানুষ কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন। আগামী ছয় মাসের মধ্যে আরও ১২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ (আইসিসিবি) আয়োজিত ‘ব্যাংকিং খাতের ওপর এলডিসি উত্তরণের প্রভাব: বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ এই উদ্বেগের কথা জানান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এবং আইসিসিবির সভাপতি মাহবুবুর রহমানসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকার ও উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ কে আজাদ তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, কেবল মুদ্রানীতি কঠোর করে মূল্যস্ফীতি কমানো সম্ভব নয়। কারণ এটি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে রাজস্ব নীতিসহ অর্থনীতির আরও অনেক বিষয়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। মুদ্রানীতির বর্তমান কড়াকড়িতে শিল্পোৎপাদন ও ব্যবসা-বাণিজ্য সংকুচিত হওয়ায় কর্মসংস্থানে এর বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।

বৈঠকে উপস্থাপিত একটি গবেষণাপত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আরও জানান, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ ঘটলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে রপ্তানি বাণিজ্যে প্রায় ৪৫ শতাংশ নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। একই সাথে তৈরি পোশাক খাতে মন্দা দেখা দেওয়ায় ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের (এনপিএল) পরিমাণ ৩০ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। এর ফলে ব্যাংকগুলোতে তীব্র তারল্য সংকট তৈরি হচ্ছে এবং সামগ্রিক রপ্তানি কার্যক্রম পদ্ধতিগত চাপের মুখে পড়ছে।

দেশের ব্যাংক খাতের নাজুক অবস্থার চিত্র তুলে ধরে এই ব্যবসায়ী নেতা জানান, বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের হার ৫০ শতাংশ এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে এই হার গড়ে ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে। খেলাপি ঋণের এই উচ্চ হার দেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি সতর্ক করেন।

Share this news as a Photo Card