ঢাকা ০২:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

‘ভীতিকর পরিস্থিতি’: রাজনৈতিক সহিংসতার ছায়ায় বাংলাদেশের নির্বাচন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০৪:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় জনমনে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। গত ডিসেম্বরে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৬ জন রাজনৈতিক কর্মী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ধরনের ঘটনায় সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে আবারও সেই পুরোনো সহিংস পরিস্থিতির ফেরার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা থেকে তারা মুক্তি পাওয়ার আশা করেছিল।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এটিই প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এই নির্বাচনের তত্ত্বাবধান করছে। তবে ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততোই বাড়ছে হামলার ঘটনা। গত ৭ জানুয়ারি বিএনপি কর্মী আজিজুর রহমান মুসাব্বির এবং ২৩ জানুয়ারি কেরানীগঞ্জে বিএনপি নেতা হাসান মোল্লা হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর নেতা আনোয়ারুল্লাহ এবং ছাত্র আন্দোলনের পরিচিত মুখ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনা দেশব্যাপী আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। গণমাধ্যমের তথ্যমতে, নিহত ১৬ জনের মধ্যে ১৩ জনই বিএনপির নেতা-কর্মী।

সহিংসতার এই চিত্র বাংলাদেশের নির্বাচনের জন্য নতুন কিছু নয়। বাংলাদেশ পিস অবজারভেটরির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সালে নির্বাচনে নিহতের সংখ্যা ছিল ৪৯, ২০০৮ সালে ২১ এবং ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনে ১৪২ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএসএস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে অন্তত ৬২টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এবারের নির্বাচনে প্রধান দলগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং জোটবদ্ধ দলগুলোর পারস্পরিক রেষারেষিও সহিংসতার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপির মধ্যে অন্তত ৭৯টি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। অন্যদিকে, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে সরাসরি রাজপথে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। উভয় দলই একে অপরের বিরুদ্ধে হয়রানি ও নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, গত ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় লুণ্ঠিত অস্ত্রের একটি বড় অংশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। প্রায় ১,৩৬০টি অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ এখনো নিখোঁজ থাকায় তা নির্বাচনের দিনগুলোতে নাশকতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার আগামী ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশে সেনাবাহিনীসহ প্রায় ৯ লাখ নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন কূটনৈতিক মহলে সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস দিলেও, মাঠপর্যায়ের ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে মতপার্থক্য

‘ভীতিকর পরিস্থিতি’: রাজনৈতিক সহিংসতার ছায়ায় বাংলাদেশের নির্বাচন

আপডেট সময় : ১২:০৪:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় জনমনে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। গত ডিসেম্বরে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৬ জন রাজনৈতিক কর্মী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ধরনের ঘটনায় সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে আবারও সেই পুরোনো সহিংস পরিস্থিতির ফেরার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা থেকে তারা মুক্তি পাওয়ার আশা করেছিল।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এটিই প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এই নির্বাচনের তত্ত্বাবধান করছে। তবে ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততোই বাড়ছে হামলার ঘটনা। গত ৭ জানুয়ারি বিএনপি কর্মী আজিজুর রহমান মুসাব্বির এবং ২৩ জানুয়ারি কেরানীগঞ্জে বিএনপি নেতা হাসান মোল্লা হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর নেতা আনোয়ারুল্লাহ এবং ছাত্র আন্দোলনের পরিচিত মুখ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনা দেশব্যাপী আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। গণমাধ্যমের তথ্যমতে, নিহত ১৬ জনের মধ্যে ১৩ জনই বিএনপির নেতা-কর্মী।

সহিংসতার এই চিত্র বাংলাদেশের নির্বাচনের জন্য নতুন কিছু নয়। বাংলাদেশ পিস অবজারভেটরির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সালে নির্বাচনে নিহতের সংখ্যা ছিল ৪৯, ২০০৮ সালে ২১ এবং ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনে ১৪২ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএসএস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে অন্তত ৬২টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এবারের নির্বাচনে প্রধান দলগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং জোটবদ্ধ দলগুলোর পারস্পরিক রেষারেষিও সহিংসতার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপির মধ্যে অন্তত ৭৯টি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। অন্যদিকে, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে সরাসরি রাজপথে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। উভয় দলই একে অপরের বিরুদ্ধে হয়রানি ও নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, গত ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় লুণ্ঠিত অস্ত্রের একটি বড় অংশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। প্রায় ১,৩৬০টি অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ এখনো নিখোঁজ থাকায় তা নির্বাচনের দিনগুলোতে নাশকতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার আগামী ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশে সেনাবাহিনীসহ প্রায় ৯ লাখ নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন কূটনৈতিক মহলে সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস দিলেও, মাঠপর্যায়ের ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করছে।