বাংলা শুধু ধানের দেশ নয়, বানের দেশও বটে; তবে এটি গানেরও দেশ। বাঙালির জীবনে গান ও সংস্কৃতির গভীর প্রভাব রয়েছে, যা লোককথায়ও প্রতিফলিত হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রায় দুই হাজার এবং কাজী নজরুল ইসলাম আড়াই হাজার গান রচনা করেছেন। এর পাশাপাশি বাউল সাধক লালন শাহের দুই থেকে আড়াই হাজার গান রচিত হয়েছে বলে কথিত আছে। এই বাউল গান আজও এক জীবন্ত ধারা হিসেবে টিকে আছে এবং নতুন গান রচিত হয়ে চলেছে।
মধ্যযুগে বৈষ্ণবপদ, সুফিপদ এবং শাক্তপদের মতো গীতিপদ রচিত হয়েছিল, যা সুর-তালযোগে গীত হওয়ার নির্দেশনা দিত। ‘মঙ্গলকাব্যে’র মতো বিশালাকার কাহিনিকাব্যও পেশাদার গায়েনরা আসরে পরিবেশন করতেন, যা ‘পাঁচালিকাব্য’ নামেও পরিচিত। মনসাগীত এবং মুসলমান কবি রচিত রোমান্টিক আখ্যান কাব্যগুলোও রাজ বা অমাত্য সভায় পাঠ ও গানের মাধ্যমে পরিবেশিত হতো।
প্রাচীন বাংলাসাহিত্যের একমাত্র নিদর্শন ‘চর্যাপদ’ও গীত হতো, যা পদের শীর্ষের রাগ-রাগিণী ও তালের উল্লেখ থেকে বোঝা যায়। এই পদগুলোর মাধ্যমে উচ্চ সমাজের সংগীতচর্চার চিত্র পাওয়া যায়। অন্যদিকে, গ্রাম সমাজে প্রচলিত লোকসংগীতের ইতিহাসও সমৃদ্ধ, যা আজও বাঙালির সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
রিপোর্টারের নাম 

























