ঢাকা ০২:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

মহেশখালী হবে জ্বালানি ও লজিস্টিকস হাব: মিডার ৫ বছরের মহাপরিকল্পনা অনুমোদিত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫৯:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের জ্বালানি ও লজিস্টিকস খাতের ভবিষ্যৎ কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে মহেশখালীকে গড়ে তুলতে পাঁচ বছরের একটি সুদূরপ্রসারী কৌশলগত রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে মহেশখালী ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (মিডা)। সোমবার (২৬ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মিডার প্রথম গভর্নিং বোর্ড সভায় এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

সভা শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন জানান, ২০২৫ থেকে ২০৩০ সময়কালের জন্য একটি ‘স্বল্পমেয়াদি ভূমি বরাদ্দ পরিকল্পনা’ অনুমোদন দিয়েছে বোর্ড। এই রোডম্যাপে মূলত তিনটি প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলা।

রোডম্যাপের প্রধান স্তম্ভসমূহ:

  • গভীর সমুদ্রবন্দর সচল করা: মহেশখালীর গভীর সমুদ্রবন্দরকে (মাতারবাড়ী) দ্রুত কার্যকরভাবে পরিচালনায় আনা এই রোডম্যাপের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এটি দক্ষিণ এশিয়ার একটি অন্যতম বাণিজ্যিক গেটওয়ে হিসেবে কাজ করবে।
  • জ্বালানি নিরাপত্তা: দেশের গ্যাস ও জ্বালানি চাহিদা মেটাতে দ্রুততম সময়ে নতুন এলএনজি (LNG) এবং এলপিজি (LPG) টার্মিনাল স্থাপনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। চৌধুরী আশিক মাহমুদের মতে, জ্বালানি সংকট নিরসনে এই অবকাঠামোগুলো হবে গেম চেঞ্জার।
  • মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ হাব: অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে বহুমুখী করতে মহেশখালীতে একটি বিশেষায়িত মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ হাব স্থাপনের পরিকল্পনা অনুমোদিত হয়েছে। এর মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরের নীল অর্থনীতিকে (Blue Economy) কাজে লাগিয়ে রপ্তানি আয় বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

সাংগঠনিক কাঠামো ও জনবল: প্রকল্পগুলোর উন্নয়ন ও তদারকি কার্যক্রম সুসংহত করতে ১৩৭ জনবল নিয়ে একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামোর অনুমোদন দিয়েছে গভর্নিং বোর্ড। গত বছরের আগস্ট থেকে কার্যক্রম শুরু করা মিডা এখন দ্রুত পূর্ণাঙ্গ অপারেশনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বৈশ্বিক মডেল ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা: মিডার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দুবাইয়ের বিখ্যাত ‘জেবেল আলী ফ্রি জোন’-এর মডেলকে অনুপ্রেরণা হিসেবে নেওয়া হয়েছে। জেবেল আলী ফ্রি জোন যেভাবে দুবাইয়ের জিডিপিতে প্রায় ৩৬ শতাংশ অবদান রাখে, মহেশখালীকেও তেমনি বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া, কাস্টমস বহির্ভূত এলাকায় তুলা বা অন্যান্য কাঁচামাল সংরক্ষণের সুবিধা (FTZ) দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে, যা ভিয়েতনামের মতো দেশে পুনঃরপ্তানি বা স্থানীয় শিল্পে ব্যবহারের মাধ্যমে ‘টাইম টু মার্কেট’ সংকট কমাবে।

আইনি সংস্কার: মিডার এই মহতী পরিকল্পনাগুলো চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে। পাশাপাশি ফ্রফি ট্রেড জোন ও অন্যান্য অবকাঠামো বাস্তবায়নে বিদ্যমান আইন ও বিধিমালার প্রয়োজনীয় সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে মতপার্থক্য

মহেশখালী হবে জ্বালানি ও লজিস্টিকস হাব: মিডার ৫ বছরের মহাপরিকল্পনা অনুমোদিত

আপডেট সময় : ১১:৫৯:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের জ্বালানি ও লজিস্টিকস খাতের ভবিষ্যৎ কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে মহেশখালীকে গড়ে তুলতে পাঁচ বছরের একটি সুদূরপ্রসারী কৌশলগত রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে মহেশখালী ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (মিডা)। সোমবার (২৬ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মিডার প্রথম গভর্নিং বোর্ড সভায় এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

সভা শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন জানান, ২০২৫ থেকে ২০৩০ সময়কালের জন্য একটি ‘স্বল্পমেয়াদি ভূমি বরাদ্দ পরিকল্পনা’ অনুমোদন দিয়েছে বোর্ড। এই রোডম্যাপে মূলত তিনটি প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলা।

রোডম্যাপের প্রধান স্তম্ভসমূহ:

  • গভীর সমুদ্রবন্দর সচল করা: মহেশখালীর গভীর সমুদ্রবন্দরকে (মাতারবাড়ী) দ্রুত কার্যকরভাবে পরিচালনায় আনা এই রোডম্যাপের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এটি দক্ষিণ এশিয়ার একটি অন্যতম বাণিজ্যিক গেটওয়ে হিসেবে কাজ করবে।
  • জ্বালানি নিরাপত্তা: দেশের গ্যাস ও জ্বালানি চাহিদা মেটাতে দ্রুততম সময়ে নতুন এলএনজি (LNG) এবং এলপিজি (LPG) টার্মিনাল স্থাপনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। চৌধুরী আশিক মাহমুদের মতে, জ্বালানি সংকট নিরসনে এই অবকাঠামোগুলো হবে গেম চেঞ্জার।
  • মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ হাব: অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে বহুমুখী করতে মহেশখালীতে একটি বিশেষায়িত মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ হাব স্থাপনের পরিকল্পনা অনুমোদিত হয়েছে। এর মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরের নীল অর্থনীতিকে (Blue Economy) কাজে লাগিয়ে রপ্তানি আয় বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

সাংগঠনিক কাঠামো ও জনবল: প্রকল্পগুলোর উন্নয়ন ও তদারকি কার্যক্রম সুসংহত করতে ১৩৭ জনবল নিয়ে একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামোর অনুমোদন দিয়েছে গভর্নিং বোর্ড। গত বছরের আগস্ট থেকে কার্যক্রম শুরু করা মিডা এখন দ্রুত পূর্ণাঙ্গ অপারেশনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বৈশ্বিক মডেল ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা: মিডার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দুবাইয়ের বিখ্যাত ‘জেবেল আলী ফ্রি জোন’-এর মডেলকে অনুপ্রেরণা হিসেবে নেওয়া হয়েছে। জেবেল আলী ফ্রি জোন যেভাবে দুবাইয়ের জিডিপিতে প্রায় ৩৬ শতাংশ অবদান রাখে, মহেশখালীকেও তেমনি বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া, কাস্টমস বহির্ভূত এলাকায় তুলা বা অন্যান্য কাঁচামাল সংরক্ষণের সুবিধা (FTZ) দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে, যা ভিয়েতনামের মতো দেশে পুনঃরপ্তানি বা স্থানীয় শিল্পে ব্যবহারের মাধ্যমে ‘টাইম টু মার্কেট’ সংকট কমাবে।

আইনি সংস্কার: মিডার এই মহতী পরিকল্পনাগুলো চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে। পাশাপাশি ফ্রফি ট্রেড জোন ও অন্যান্য অবকাঠামো বাস্তবায়নে বিদ্যমান আইন ও বিধিমালার প্রয়োজনীয় সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।