আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে বিরাজমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার আশঙ্কায় ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। ভারতীয় হাইকমিশন ও সহকারী হাইকমিশনগুলো থেকে কূটনীতিকদের পরিবার সরিয়ে নেওয়ার পর এবার রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকরা ব্যক্তিগত নিরাপত্তার খাতিরে বাংলাদেশ ছাড়তে শুরু করেছেন। তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি একটি সাময়িক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা; নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক স্বার্থেই তারা আবারও ফিরে আসবেন।
বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভারতের এই সতর্কতা অস্বাভাবিক নয়। তিনি উল্লেখ করেন, শুধু ভারত নয়, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো পশ্চিমা দেশগুলোও তাদের নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশে ভ্রমণে কড়াকড়ি বা সতর্কতা জারি করেছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি গণমাধ্যমে নিয়মিত আসছে। নির্বাচন ঘনিয়ে এলে রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা থেকেই ভারত এই বিশেষ সতর্কতা নিয়েছে।” এছাড়া ক্ষমতাচ্যুত সরকারের নেতাদের ভারতে আশ্রয় এবং ক্রিকেটে সাম্প্রতিক উত্তজনা দুই দেশের সম্পর্কের ওপর একটি বাড়তি চাপ তৈরি করেছে বলে তিনি মনে করেন। তবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পর সম্পর্ক স্বাভাবিক করা উভয় দেশের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকৃত অবস্থা: বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ভারতীয় কর্মকর্তারা গোপনে দেশ ছেড়েছেন বলে যে খবর ছড়িয়েছিল, তা নাকচ করে দিয়েছে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল)। এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এনটিপিসির ১২ জন নির্বাহী কর্মকর্তা সেখানে কেবল পরামর্শক হিসেবে ছিলেন এবং তারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই ভারতে গেছেন।
বিআইএফপিসিএলের ডিজিএম (এইচআর-পিআর) আনোয়ারুল আজিম জানান:
- প্ল্যান্টের সব অপারেশনাল কাজ স্থানীয় কর্মীদের মাধ্যমেই পরিচালিত হচ্ছে।
- বর্তমানে ভারতীয় পরামর্শকরা ভার্চুয়াল মাধ্যমে (হোয়াটসঅ্যাপ, মাইক্রোসফট টিমস) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন।
- যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে তারা তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত হতে প্রস্তুত।
- বর্তমানে কেন্দ্রের উভয় ইউনিটই পূর্ণ সক্ষমতায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে এবং উৎপাদনে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।
নিরাপত্তা উদ্বেগ ও কূটনৈতিক নীরবতা: বাংলাদেশে ভারতীয়দের এই প্রস্থানের নেপথ্যে ঠিক কী ধরনের সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা হুমকি রয়েছে, সে বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশন বা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও চলাফেরার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতেই এই অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই যৌথ প্রকল্পটি দেশের মোট চাহিদার প্রায় ১১.৫ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে।
রিপোর্টারের নাম 

























