ঢাকা ০৯:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

অনিয়ম হলেই কেবল জামায়াত ক্ষমতায় আসতে পারে: হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেবল বড় ধরনের অনিয়ম বা কারচুপি হলেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের রাজ্যসভার সদস্য এবং দেশটির সাবেক পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি ২০২৬) পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন। শ্রিংলা মনে করেন, জামায়াতের প্রকৃত জনসমর্থন অত্যন্ত সীমিত এবং ইতিহাস অনুযায়ী তারা কখনোই ৫ থেকে ৭ শতাংশের বেশি ভোট পায়নি।

নির্বাচন ও জামায়াত প্রসঙ্গে মন্তব্য:
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক এই হাইকমিশনার (২০১৬-২০১৯) বলেন, “আমরা জানি না আদৌ সেখানে (বাংলাদেশে) নির্বাচন হবে কি না। সেখানে নিরাপত্তা একটি বড় উদ্বেগের বিষয়।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ভারত সর্বদা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায়, যেখানে সব দলের সমান সুযোগ থাকবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তেমন পরিবেশ দেখছেন না বলে তিনি উল্লেখ করেন। জামায়াত সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “যদি সেখানে জামায়াত জয়ী হয়, তাহলে দেশটির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে চলে যাবে। কিন্তু একটি স্বচ্ছ নির্বাচনে তাদের জয় অসম্ভব। তাদের জনপ্রিয় সমর্থন নেই। কেউ যদি তাদের এগিয়ে আনতে চায়, তবে তা কেবল অনিয়মপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমেই সম্ভব।”

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও অন্তর্বর্তী সরকার:
২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপে অংশ নিতে বাংলাদেশের অনীহা এবং ভেন্যু সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে কথা বলেন শ্রিংলা। তিনি এই সিদ্ধান্তকে ‘বড় ভুল’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “এটি একটি অন্তর্বর্তী সরকার, নির্বাচিত কোনো স্থায়ী সরকার নয়। তারা দেশের খেলাধুলার ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে যা ঠিক নয়। আমার অনেক বাংলাদেশি বন্ধু বলেছেন, এটি দেশের জন্য ক্ষতিকর হবে।”

নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ নিয়ে উদ্বেগ:
বাংলাদেশে চলমান অস্থিরতা এবং সীমানা দিয়ে অনুপ্রবেশ নিয়েও কথা বলেন তিনি। শ্রিংলা দাবি করেন, রাজনৈতিক স্বার্থে অনুপ্রবেশকে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যা ভারতের বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

উল্লেখ্য, হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং গত বছর তিনি ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর এই দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার প্রেক্ষাপটে দেওয়া এই বক্তব্য দুই দেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

লেবাননে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় ১১ ইসরাইলি সেনা আহত, আশঙ্কাজনক ৩

অনিয়ম হলেই কেবল জামায়াত ক্ষমতায় আসতে পারে: হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা

আপডেট সময় : ০১:০৫:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেবল বড় ধরনের অনিয়ম বা কারচুপি হলেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের রাজ্যসভার সদস্য এবং দেশটির সাবেক পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি ২০২৬) পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন। শ্রিংলা মনে করেন, জামায়াতের প্রকৃত জনসমর্থন অত্যন্ত সীমিত এবং ইতিহাস অনুযায়ী তারা কখনোই ৫ থেকে ৭ শতাংশের বেশি ভোট পায়নি।

নির্বাচন ও জামায়াত প্রসঙ্গে মন্তব্য:
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক এই হাইকমিশনার (২০১৬-২০১৯) বলেন, “আমরা জানি না আদৌ সেখানে (বাংলাদেশে) নির্বাচন হবে কি না। সেখানে নিরাপত্তা একটি বড় উদ্বেগের বিষয়।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ভারত সর্বদা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায়, যেখানে সব দলের সমান সুযোগ থাকবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তেমন পরিবেশ দেখছেন না বলে তিনি উল্লেখ করেন। জামায়াত সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “যদি সেখানে জামায়াত জয়ী হয়, তাহলে দেশটির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে চলে যাবে। কিন্তু একটি স্বচ্ছ নির্বাচনে তাদের জয় অসম্ভব। তাদের জনপ্রিয় সমর্থন নেই। কেউ যদি তাদের এগিয়ে আনতে চায়, তবে তা কেবল অনিয়মপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমেই সম্ভব।”

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও অন্তর্বর্তী সরকার:
২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপে অংশ নিতে বাংলাদেশের অনীহা এবং ভেন্যু সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে কথা বলেন শ্রিংলা। তিনি এই সিদ্ধান্তকে ‘বড় ভুল’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “এটি একটি অন্তর্বর্তী সরকার, নির্বাচিত কোনো স্থায়ী সরকার নয়। তারা দেশের খেলাধুলার ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে যা ঠিক নয়। আমার অনেক বাংলাদেশি বন্ধু বলেছেন, এটি দেশের জন্য ক্ষতিকর হবে।”

নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ নিয়ে উদ্বেগ:
বাংলাদেশে চলমান অস্থিরতা এবং সীমানা দিয়ে অনুপ্রবেশ নিয়েও কথা বলেন তিনি। শ্রিংলা দাবি করেন, রাজনৈতিক স্বার্থে অনুপ্রবেশকে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যা ভারতের বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

উল্লেখ্য, হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং গত বছর তিনি ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর এই দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার প্রেক্ষাপটে দেওয়া এই বক্তব্য দুই দেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।