ঢাকা ০১:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

এলএনজি টার্মিনালে রক্ষণাবেক্ষণ: তিতাস এলাকায় গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তির আশঙ্কা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৮:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

দেশের চলমান গ্যাস সংকটের মধ্যে নতুন করে ভোগান্তি বাড়াতে যাচ্ছে এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আজ শনিবার দুপুর ১২টা থেকে আগামীকাল রবিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলবে। এই ২৪ ঘণ্টা জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় তিতাস গ্যাসভুক্ত এলাকায় আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্পসহ সব শ্রেণির গ্রাহকের গ্যাসের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম থাকবে। ফলে রান্নাবান্না থেকে শুরু করে শিল্প উৎপাদন—সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট হলেও সরবরাহ রয়েছে মাত্র ২৫০ থেকে ২৬০ কোটি ঘনফুট। এই বিশাল ঘাটতির মধ্যে এলএনজি সরবরাহ আরও কমে গেলে সংকট ভয়াবহ রূপ নেবে। বিশেষ করে শীত মৌসুমে সকাল ও সন্ধ্যার চাহিদার সময় রাজধানী ও আশপাশের অনেক এলাকার গ্রাহক চুলায় পর্যাপ্ত আগুন না পাওয়ার অভিযোগ করছেন। পাইপলাইনের গ্যাসের বিকল্প হিসেবে এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরতা বাড়লেও বাজারে সরবরাহ কম থাকায় এবং বাড়তি দামের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এখন চরমে।

গ্যাস সংকটের এই নেতিবাচক প্রভাব শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতেও ব্যাপকভাবে পড়ছে। অনেক কারখানায় উৎপাদন আংশিক বন্ধ রাখা হচ্ছে এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাসের অভাবে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। তিতাস কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিলেও, চাহিদার তুলনায় সার্বিক ঘাটতি থেকে যাওয়ায় পূর্ণাঙ্গ স্বস্তি ফিরতে সময় লাগতে পারে। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের সাশ্রয়ীভাবে গ্যাস ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের বর্ষবরণ উৎসব

এলএনজি টার্মিনালে রক্ষণাবেক্ষণ: তিতাস এলাকায় গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তির আশঙ্কা

আপডেট সময় : ০৯:৫৮:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের চলমান গ্যাস সংকটের মধ্যে নতুন করে ভোগান্তি বাড়াতে যাচ্ছে এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আজ শনিবার দুপুর ১২টা থেকে আগামীকাল রবিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলবে। এই ২৪ ঘণ্টা জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় তিতাস গ্যাসভুক্ত এলাকায় আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্পসহ সব শ্রেণির গ্রাহকের গ্যাসের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম থাকবে। ফলে রান্নাবান্না থেকে শুরু করে শিল্প উৎপাদন—সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট হলেও সরবরাহ রয়েছে মাত্র ২৫০ থেকে ২৬০ কোটি ঘনফুট। এই বিশাল ঘাটতির মধ্যে এলএনজি সরবরাহ আরও কমে গেলে সংকট ভয়াবহ রূপ নেবে। বিশেষ করে শীত মৌসুমে সকাল ও সন্ধ্যার চাহিদার সময় রাজধানী ও আশপাশের অনেক এলাকার গ্রাহক চুলায় পর্যাপ্ত আগুন না পাওয়ার অভিযোগ করছেন। পাইপলাইনের গ্যাসের বিকল্প হিসেবে এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরতা বাড়লেও বাজারে সরবরাহ কম থাকায় এবং বাড়তি দামের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এখন চরমে।

গ্যাস সংকটের এই নেতিবাচক প্রভাব শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতেও ব্যাপকভাবে পড়ছে। অনেক কারখানায় উৎপাদন আংশিক বন্ধ রাখা হচ্ছে এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাসের অভাবে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। তিতাস কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিলেও, চাহিদার তুলনায় সার্বিক ঘাটতি থেকে যাওয়ায় পূর্ণাঙ্গ স্বস্তি ফিরতে সময় লাগতে পারে। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের সাশ্রয়ীভাবে গ্যাস ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছে।