বাংলাদেশের অভিবাসন ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাত বর্তমানে এক নজিরবিহীন বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন সম্প্রতি বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখা হাজারো বাংলাদেশির পথ রুদ্ধ হয়ে গেল। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, সে দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারগুলোর ৫৪.৮ শতাংশই মার্কিন সরকারের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৯তম হওয়ায় এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া পর্যটন ও ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে আমেরিকা যেতে হলে এখন ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত দিতে হবে, যা ফিরে আসা নিশ্চিত করার একটি কৌশল।
শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি পাসপোর্টের মর্যাদা ও সহজলভ্যতা মারাত্মক সংকটে পড়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে নেপাল, মালদ্বীপসহ বিভিন্ন দেশের ইমিগ্রেশনে বাংলাদেশিদের কঠোর জেরার মুখে পড়তে হচ্ছে। থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো জনপ্রিয় গন্তব্যগুলোতে ভিসা প্রায় বন্ধ বা অত্যন্ত সীমিত। ইউরোপের দেশগুলোর ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতের ভিসা জটিলতা। ঢাকার পরিবর্তে দিল্লির দূতাবাসগুলোতে ইন্টারভিউ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা এবং ভারতের ডাবল এন্ট্রি ভিসা না পাওয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য আগ্রহী শিক্ষার্থীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলো এখন উচ্চশিক্ষার আড়ালে স্থায়ী হওয়ার প্রবণতা ঠেকাতে স্ক্রিনিং পদ্ধতি আরও কঠোর করেছে।
বাংলাদেশের শ্রমবাজারের চিত্রও সমান উদ্বেগজনক। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আমিরাতের শ্রমবাজার বন্ধ থাকার পর জুলাই আন্দোলনের জেরে সেখানে নতুন ভিসা ইস্যু পুরোপুরি স্থগিত রয়েছে। মালয়েশিয়া, ওমান, বাহরাইন ও লিবিয়ার মতো বড় বাজারগুলোও বর্তমানে বন্ধ। যদিও সরকার মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিকল্প বাজার খোঁজার চেষ্টা করছে, তবে গবেষণার অভাব ও কূটনৈতিক দুর্বলতার কারণে ইউরোপের দক্ষ শ্রমবাজারে প্রবেশাধিকার এখনো সীমিত। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু না করলে এবং ভিসা জালিয়াতি ও অবৈধ অনুপ্রবেশের প্রবণতা না কমলে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাত বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির মুখে পড়বে।
রিপোর্টারের নাম 





















