ঢাকা ১০:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

হতাশা থেকে শিশুপুত্রকে হত্যা, অতঃপর মায়ের আত্মহনন: বাগেরহাটে মর্মান্তিক ঘটনা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১১:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

বাগেরহাটে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। স্বামী কারাবন্দি থাকায় গভীর হতাশায় ভুগছিলেন এক গৃহবধূ। অভিযোগ উঠেছে, সেই হতাশা থেকেই তিনি তার ৯ মাস বয়সী শিশুপুত্রকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করার পর নিজেও গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। শুক্রবার বিকালে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রাম থেকে মা ও ছেলের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য নিহতদের লাশ বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহত কানিজ সুর্বনা স্বর্ণালী (২২) বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী এবং জাতীয় পার্টি নেতা রুহুল আমিন হাওলাদারের মেয়ে। নিহত শিশু নাজিম হোসেন ছিল এই দম্পতির একমাত্র সন্তান। প্রায় পাঁচ বছর আগে জুয়েল হাসান সাদ্দামের সঙ্গে স্বর্ণালীর বিয়ে হয়। বর্তমানে সাদ্দাম বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে যশোরের কারাগারে রয়েছেন।

নিহত স্বর্ণালীর ভাই শুভ জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী কারাবন্দি থাকায় স্বর্ণালী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং হতাশায় ভুগছিলেন। তিনি তার স্বামীকে কারাগার থেকে মুক্ত করার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। শুভ আরও জানান, গত ৫ আগস্ট সাদ্দাম গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে স্বর্ণালীর মানসিক অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। চরম হতাশা থেকেই তিনি প্রথমে বালতিতে থাকা পানিতে ৯ মাস বয়সী শিশু সন্তানকে চুবিয়ে হত্যা করেন এবং এরপর নিজে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। সাদ্দামের বাড়িতে তার মা, বোন, স্ত্রী ও সন্তান একসঙ্গে বসবাস করতেন।

নিহত স্বর্ণালীর বাবা রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, “আমার মেয়ে আত্মহত্যাই করেছে। আমরা কাউকে দোষারোপ করতে চাই না।” তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্ত ছাড়াই মেয়ে ও নাতনির লাশ নেওয়ার জন্য তারা আবেদন করেছেন এবং এখন প্রশাসনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন।

বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শামীম হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই নারী নিজের সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন। তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মা ও ছেলের লাশ বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান ইস্যুতে সংলাপের ওপর জোর এরদোয়ানের, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপ

হতাশা থেকে শিশুপুত্রকে হত্যা, অতঃপর মায়ের আত্মহনন: বাগেরহাটে মর্মান্তিক ঘটনা

আপডেট সময় : ১১:১১:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

বাগেরহাটে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। স্বামী কারাবন্দি থাকায় গভীর হতাশায় ভুগছিলেন এক গৃহবধূ। অভিযোগ উঠেছে, সেই হতাশা থেকেই তিনি তার ৯ মাস বয়সী শিশুপুত্রকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করার পর নিজেও গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। শুক্রবার বিকালে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রাম থেকে মা ও ছেলের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য নিহতদের লাশ বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহত কানিজ সুর্বনা স্বর্ণালী (২২) বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী এবং জাতীয় পার্টি নেতা রুহুল আমিন হাওলাদারের মেয়ে। নিহত শিশু নাজিম হোসেন ছিল এই দম্পতির একমাত্র সন্তান। প্রায় পাঁচ বছর আগে জুয়েল হাসান সাদ্দামের সঙ্গে স্বর্ণালীর বিয়ে হয়। বর্তমানে সাদ্দাম বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে যশোরের কারাগারে রয়েছেন।

নিহত স্বর্ণালীর ভাই শুভ জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী কারাবন্দি থাকায় স্বর্ণালী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং হতাশায় ভুগছিলেন। তিনি তার স্বামীকে কারাগার থেকে মুক্ত করার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। শুভ আরও জানান, গত ৫ আগস্ট সাদ্দাম গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে স্বর্ণালীর মানসিক অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। চরম হতাশা থেকেই তিনি প্রথমে বালতিতে থাকা পানিতে ৯ মাস বয়সী শিশু সন্তানকে চুবিয়ে হত্যা করেন এবং এরপর নিজে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। সাদ্দামের বাড়িতে তার মা, বোন, স্ত্রী ও সন্তান একসঙ্গে বসবাস করতেন।

নিহত স্বর্ণালীর বাবা রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, “আমার মেয়ে আত্মহত্যাই করেছে। আমরা কাউকে দোষারোপ করতে চাই না।” তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্ত ছাড়াই মেয়ে ও নাতনির লাশ নেওয়ার জন্য তারা আবেদন করেছেন এবং এখন প্রশাসনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন।

বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শামীম হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই নারী নিজের সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন। তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মা ও ছেলের লাশ বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।