দেশের অর্থনীতিকে কৃত্রিমভাবে বড় করে দেখানোর জন্য পরিসংখ্যান জালিয়াতির পুরনো সংস্কৃতি এখনো বিদ্যমান রয়েছে। খেলাপি ঋণের তথ্য গোপন রাখা, রপ্তানি আয় বাড়িয়ে দেখানো, জিডিপির প্রকৃত তথ্য আড়াল করা এবং জাতীয় বাজেটকে বড় করে উপস্থাপন করার প্রবণতা আগের সরকারের আমলের মতোই বর্তমান সরকারের শাসনামলেও অব্যাহত আছে। আর্থিক খাতের বিভিন্ন স্পর্শকাতর তথ্য, যেমন প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, রপ্তানি আয় বা কর্মসংস্থান, প্রায়শই ম্যানিপুলেট বা কাটছাঁট করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন।
পরিসংখ্যান ব্যবস্থার সংস্কারের লক্ষ্যে পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকার একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছিল এবং সেই কমিটি কিছু সুপারিশও জমা দিয়েছিল। কিন্তু সেই সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমানে নির্বাচিত সরকারও একই পথে হাঁটছে এবং সংস্কার বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। পূর্ববর্তী সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল খাতাকলমের হিসাবে দেশের অর্থনীতিকে নিম্ন বা মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে দেখানো। সেই সময়কার বানোয়াট পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং অন্যান্য দেশি-বিদেশি গবেষণা সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীরা প্রতারিত হয়েছিলেন।
অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, প্রকৃত অর্থনৈতিক ও জীবনযাত্রার উন্নয়ন ছাড়াই পূর্ববর্তী শাসনামলে বায়বীয় উন্নয়নের নামে বাজেটের আকার, জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার এবং রাজস্ব আহরণের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে বাস্তবে কোনো বছরই বাজেট পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি এবং রাজস্ব আহরণেও বড় ধরনের ঘাটতি থেকে গেছে।
পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর পরিসংখ্যানকে বিশ্বাসযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য করে তোলার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছিল। তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, বিবিএস-কে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে, যাতে জনগণ সঠিক তথ্য জানতে পারে। এই সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য আট সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়, যার সভাপতি ছিলেন পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি উল্লেখ করেন যে, টাস্কফোর্স গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের পরিসংখ্যানকে গুণগত মান ও স্বচ্ছতার দিক থেকে উন্নত করা।
রিপোর্টারের নাম 
























