দীর্ঘ ১৭ বছরের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওটামেন্ডি। স্পেনের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালই ছিল তার আকাশি-সাদা জার্সিতে শেষ ম্যাচ। বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখতে না পারলেও, ৩৮ বছর বয়সী এই সেন্টারব্যাক মাথা উঁচু করে জাতীয় দলকে বিদায় জানিয়েছেন।
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ওটামেন্ডি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ২০২৬ সালের আসরটিই হবে তার শেষ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। ফাইনালের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন বার্তা পোস্ট করে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দেন। ওটামেন্ডি লিখেছেন, ‘আজ আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন কথাগুলো লিখতে হচ্ছে। হয়তো এটাই ভাগ্য যে, আমার শেষ ম্যাচটি একটি বিশ্বকাপ ফাইনাল ছিল। আমরা কাঙ্ক্ষিত ফল পাইনি, কিন্তু আমি গর্বের সাথেই বিদায় নিচ্ছি। কারণ এই দল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছে।’
আর্জেন্টিনার জার্সিতে ওটামেন্ডি মোট ১৩৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ, টানা দুটি কোপা আমেরিকা এবং ফিনালিসিমা শিরোপা জিতেছেন। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক সাফল্যের অন্যতম নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ ছিলেন এই ডিফেন্ডার। জাতীয় দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘আর্জেন্টিনাকে ধন্যবাদ, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন পূরণের সুযোগ দেওয়ার জন্য। এই জার্সি পরা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান। আমি কখনও বিশ্বাস হারাইনি, নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি প্রতিটি ম্যাচে।’
তরুণ ফুটবলারদের উদ্দেশেও অনুপ্রেরণামূলক বার্তা দিয়েছেন ওটামেন্ডি। তিনি বলেন, ‘কখনও বিশ্বাস হারাবে না। অনেক সময় সবকিছু অসম্ভব মনে হতে পারে, কিন্তু এই জার্সি তাদেরই পুরস্কৃত করে, যারা বিনয়, ত্যাগ আর ভালোবাসা দিয়ে এর মর্যাদা রক্ষা করে। মাথা উঁচু রাখো, লড়াই চালিয়ে যাও। কোনো পরাজয় যেন তোমাদের স্বপ্ন কেড়ে নিতে না পারে।’
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেও, পেশাদার ক্লাব ফুটবল চালিয়ে যাচ্ছেন ওটামেন্ডি। ইউরোপে পোর্তো, ভ্যালেন্সিয়া, ম্যানচেস্টার সিটি এবং বেনফিকার হয়ে প্রায় দেড় দশক কাটানোর পর সম্প্রতি তিনি আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব রিভার প্লেটে যোগ দিয়েছেন। সেখানেই তিনি তার ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























