শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও জীবনের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অনেকে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। তবে গণপরিবহন ব্যবস্থায় তাদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় প্রতিদিন পদে পদে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এবং অন্যান্য শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার ব্যক্তিরা গণপরিবহনে যাতায়াতের ক্ষেত্রে নানা বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।
রিনি ইসলাম, যিনি পোলিও আক্রান্ত হয়ে চলাফেরার ক্ষমতা হারিয়েছেন, জানান যে রিকশাচালকরা প্রায়ই হুইলচেয়ারসহ তাকে নিতে চান না অথবা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করেন। হুইলচেয়ার ভাঁজ করা এবং পুনরায় খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তাদের অনীহা দেখা যায়। একইভাবে, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী রাহা আক্তার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় রেলস্টেশনে ব্রেইল সাইনবোর্ড বা অডিও নির্দেশনার অভাবে দিক হারিয়ে ফেলতেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা যেন যাতায়াত-ব্যবস্থার বাইরে থাকা মানুষ।’
জন্ম থেকেই অস্টিওজেনেসিস ইমপেরফেক্টা (ব্রিটল বোন ডিজিজ) রোগে আক্রান্ত হায়দার আলী, যিনি একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কর্মকর্তা, জানান যে মেট্রো এবং বাসে হুইলচেয়ারের জন্য পর্যাপ্ত স্থান নেই। বাসের হেলপাররা খারাপ আচরণ করে এবং হুইলচেয়ার নিতে চায় না। উবার এবং পাঠাওয়ের মতো রাইডশেয়ারিং সেবাগুলো ব্যয়বহুল হওয়ায় তাদের পক্ষে নিয়মিত ব্যবহার করা সম্ভব হয় না।
প্রতিবন্ধীদের অধিকার সুরক্ষায় ২০০৮ সালে প্রণীত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকারসংক্রান্ত কনভেনশন (সিআরপিডি) এবং বাংলাদেশে ২০১৩ সালে প্রণীত ‘প্রতিবন্ধীদের অধিকার এবং সুরক্ষা আইন’ গণপরিবহনে প্রতিবন্ধীদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার কথা বললেও, বাস্তব চিত্র ভিন্ন। আইনে স্পষ্টভাবে বলা আছে যে সব গণপরিবহন প্রতিবন্ধীদের জন্য ব্যবহারযোগ্য হতে হবে, কিন্তু বাস্তবে এর প্রতিফলন দেখা যায় না।
রিপোর্টারের নাম 
























