ঢাকা ০১:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

ছাত্র-জনতার রক্তে রঞ্জিত জুলাই: সাংবাদিক ও তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

২৪ জুলাই, ২০২৪। দেশজুড়ে ছাত্র-জনতার রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল। কোটা সংস্কারের ন্যায়সঙ্গত দাবিকে দমন করতে তৎকালীন সরকার যে বর্বরতার আশ্রয় নিয়েছিল, তা ছিল এক বিভীষিকাময় অধ্যায়। একদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হাজার হাজার নিরীহ ছাত্র ও সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তার করছিল, অন্যদিকে দেশের একদল তথাকথিত ‘শীর্ষ সাংবাদিক’ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বসে আন্দোলনকারী ছাত্রদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করছিলেন এবং সরকারের পক্ষ নিচ্ছিলেন।

সরকারি হিসাবেই ১৭ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ২০১ ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যদিও বেসরকারি হিসাবে তা তিন শতাধিক ছিল। হাসপাতাল মর্গে পড়ে থাকা গুলিতে ঝাঁঝরা হওয়া দেহগুলো শনাক্ত করতে না পেরে পুলিশ আটজনের লাশ ‘বেওয়ারিশ’ হিসেবে দাফন করে। রাজধানীর রাজপথ থেকে শুরু করে অলিগলি—কোথাও নিস্তার ছিল না। পুলিশ ও সরকার সমর্থক সন্ত্রাসীরা বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিচ্ছিল বাড়িতে শিক্ষার্থী আছে কিনা। থাকলেই তাদের গ্রেপ্তার করা হতো। এদিন সারা দেশে প্রায় এক হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যার মধ্যে শুধু ঢাকাতেই গ্রেপ্তার হন ৬৪১ জন। আট দিনে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে চার হাজার। পুলিশের করা ‘অজ্ঞাতনামা’ মামলাগুলো সাধারণ শিক্ষার্থী ও নাগরিকদের হয়রানি করার মোক্ষম হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল। সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ ও ঢাকা মেডিকেলে এদিনও চারজন ‘ জুলাইযোদ্ধা’ মৃত্যুর মিছিলে যোগ দেন।

এই বর্বরতার এক নৃশংস উদাহরণ হলো সাড়ে ছয় বছরের শিশু রিয়া গোপ। নারায়ণগঞ্জে নিজ বাসার ছাদে বাবার কোলে থাকাবস্থায় পুলিশের ছোড়া গুলিতে তার মাথায় বিদ্ধ হয়। কয়েক দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ঢাকা মেডিকেলে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে নিষ্পাপ রিয়া। তার বাবা দীপক কুমার গোপের কান্না ছিল হৃদয়বিদারক। কেবল রিয়া নয়, এমন মর্মান্তিক ঘটনা সারা দেশেই ঘটেছিল।

আন্দোলনের তিন সমন্বয়ক—আসিফ মাহমুদ, আবু বাকের এবং রিফাত রশীদকে গুম করার পাঁচ দিন পর চোখ বাঁধা অবস্থায় ফেলে যাওয়া হয়। তাদের ওপর চালানো হয় মধ্যযুগীয় নির্যাতন, ইনজেকশন দিয়ে অচেতন রাখা, অন্ধকার কক্ষে আটকে রাখা এবং আন্দোলন প্রত্যাহারের জন্য মানসিক ও শারীরিক চাপ সৃষ্টি করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খন্দকের যুদ্ধে ইসলামের বিজয়ে নুয়াইম ইবনু মাসউদ (রা.)-এর ঐতিহাসিক রণকৌশল

ছাত্র-জনতার রক্তে রঞ্জিত জুলাই: সাংবাদিক ও তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

আপডেট সময় : ১১:০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

২৪ জুলাই, ২০২৪। দেশজুড়ে ছাত্র-জনতার রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল। কোটা সংস্কারের ন্যায়সঙ্গত দাবিকে দমন করতে তৎকালীন সরকার যে বর্বরতার আশ্রয় নিয়েছিল, তা ছিল এক বিভীষিকাময় অধ্যায়। একদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হাজার হাজার নিরীহ ছাত্র ও সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তার করছিল, অন্যদিকে দেশের একদল তথাকথিত ‘শীর্ষ সাংবাদিক’ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বসে আন্দোলনকারী ছাত্রদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করছিলেন এবং সরকারের পক্ষ নিচ্ছিলেন।

সরকারি হিসাবেই ১৭ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ২০১ ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যদিও বেসরকারি হিসাবে তা তিন শতাধিক ছিল। হাসপাতাল মর্গে পড়ে থাকা গুলিতে ঝাঁঝরা হওয়া দেহগুলো শনাক্ত করতে না পেরে পুলিশ আটজনের লাশ ‘বেওয়ারিশ’ হিসেবে দাফন করে। রাজধানীর রাজপথ থেকে শুরু করে অলিগলি—কোথাও নিস্তার ছিল না। পুলিশ ও সরকার সমর্থক সন্ত্রাসীরা বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিচ্ছিল বাড়িতে শিক্ষার্থী আছে কিনা। থাকলেই তাদের গ্রেপ্তার করা হতো। এদিন সারা দেশে প্রায় এক হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যার মধ্যে শুধু ঢাকাতেই গ্রেপ্তার হন ৬৪১ জন। আট দিনে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে চার হাজার। পুলিশের করা ‘অজ্ঞাতনামা’ মামলাগুলো সাধারণ শিক্ষার্থী ও নাগরিকদের হয়রানি করার মোক্ষম হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল। সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ ও ঢাকা মেডিকেলে এদিনও চারজন ‘ জুলাইযোদ্ধা’ মৃত্যুর মিছিলে যোগ দেন।

এই বর্বরতার এক নৃশংস উদাহরণ হলো সাড়ে ছয় বছরের শিশু রিয়া গোপ। নারায়ণগঞ্জে নিজ বাসার ছাদে বাবার কোলে থাকাবস্থায় পুলিশের ছোড়া গুলিতে তার মাথায় বিদ্ধ হয়। কয়েক দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ঢাকা মেডিকেলে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে নিষ্পাপ রিয়া। তার বাবা দীপক কুমার গোপের কান্না ছিল হৃদয়বিদারক। কেবল রিয়া নয়, এমন মর্মান্তিক ঘটনা সারা দেশেই ঘটেছিল।

আন্দোলনের তিন সমন্বয়ক—আসিফ মাহমুদ, আবু বাকের এবং রিফাত রশীদকে গুম করার পাঁচ দিন পর চোখ বাঁধা অবস্থায় ফেলে যাওয়া হয়। তাদের ওপর চালানো হয় মধ্যযুগীয় নির্যাতন, ইনজেকশন দিয়ে অচেতন রাখা, অন্ধকার কক্ষে আটকে রাখা এবং আন্দোলন প্রত্যাহারের জন্য মানসিক ও শারীরিক চাপ সৃষ্টি করা হয়।