ঢাকা ১২:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

চাঁদা আদায় করতে ঢুকে গৃহবধূর দা’র কোপে সন্ত্রাসীর মৃত্যু, আহত মা-ছেলে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

যশোরের বারান্দীপাড়ায় এক বাড়িতে ঢুকে চাঁদা আদায় ও যৌন নিপীড়নের চেষ্টার সময় গৃহবধূর হাতে থাকা দা’র কোপে জিতু (৩৫) নামে এক সন্ত্রাসীর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় গৃহবধূ ও তার ছেলে আহত হয়েছেন। নিহত জিতু বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলার আসামি ছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাতে জিতু বারান্দীপাড়া ফুলতলা মোড় এলাকার একটি বাড়িতে প্রবেশ করে। সেখানে সে বাড়ির বাসিন্দাদের কাছে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জিতু ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুমন হোসেন (২৮) নামে বাড়ির এক যুবককে আঘাত করে। এ সময় সুমনকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার মা শুকরান বেগমকেও (৫২) কুপিয়ে আহত করে জিতু। এরপর জিতু ঘরে থাকা গৃহবধূকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করে। আত্মরক্ষার্থে গৃহবধূ হাতের কাছে থাকা একটি দা দিয়ে জিতুকে আঘাত করেন।

গুরুতর আহত অবস্থায় জিতুকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়। তবে নড়াইলের তুলারামপুর এলাকায় পৌঁছানোর পর তার মৃত্যু হয়। নিহত জিতু শহরের বারান্দীপাড়া মোল্লাপাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শুকরান বেগম ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, জিতু তাদের বাড়িতে ঢুকে জোরপূর্বক চাঁদা দাবি করেছিল। টাকা দিতে না চাওয়ায় সে তার ছেলেকে মারধর করে। ছেলেকে বাঁচাতে গেলে তাকেও আহত করে। পরে সে গৃহবধূকে যৌন হয়রানির চেষ্টা করলে গৃহবধূ আত্মরক্ষার্থে দা দিয়ে আঘাত করেন।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জিতুর নামে একাধিক মামলা থাকায় পুলিশ তাকে সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন পাওয়া ৯ ব্যাংকের অর্ধেকের বেশি ঋণই এখন খেলাপি

চাঁদা আদায় করতে ঢুকে গৃহবধূর দা’র কোপে সন্ত্রাসীর মৃত্যু, আহত মা-ছেলে

আপডেট সময় : ০৯:৫৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

যশোরের বারান্দীপাড়ায় এক বাড়িতে ঢুকে চাঁদা আদায় ও যৌন নিপীড়নের চেষ্টার সময় গৃহবধূর হাতে থাকা দা’র কোপে জিতু (৩৫) নামে এক সন্ত্রাসীর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় গৃহবধূ ও তার ছেলে আহত হয়েছেন। নিহত জিতু বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলার আসামি ছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাতে জিতু বারান্দীপাড়া ফুলতলা মোড় এলাকার একটি বাড়িতে প্রবেশ করে। সেখানে সে বাড়ির বাসিন্দাদের কাছে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জিতু ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুমন হোসেন (২৮) নামে বাড়ির এক যুবককে আঘাত করে। এ সময় সুমনকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার মা শুকরান বেগমকেও (৫২) কুপিয়ে আহত করে জিতু। এরপর জিতু ঘরে থাকা গৃহবধূকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করে। আত্মরক্ষার্থে গৃহবধূ হাতের কাছে থাকা একটি দা দিয়ে জিতুকে আঘাত করেন।

গুরুতর আহত অবস্থায় জিতুকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়। তবে নড়াইলের তুলারামপুর এলাকায় পৌঁছানোর পর তার মৃত্যু হয়। নিহত জিতু শহরের বারান্দীপাড়া মোল্লাপাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শুকরান বেগম ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, জিতু তাদের বাড়িতে ঢুকে জোরপূর্বক চাঁদা দাবি করেছিল। টাকা দিতে না চাওয়ায় সে তার ছেলেকে মারধর করে। ছেলেকে বাঁচাতে গেলে তাকেও আহত করে। পরে সে গৃহবধূকে যৌন হয়রানির চেষ্টা করলে গৃহবধূ আত্মরক্ষার্থে দা দিয়ে আঘাত করেন।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জিতুর নামে একাধিক মামলা থাকায় পুলিশ তাকে সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল।