১০ দলীয় জোট বিজয়ী হলে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং ঘোষিত সংস্কার কর্মসূচির পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডে বিগত ১৭ বছরের ক্ষমতাসীন দলের জুলুম-নির্যাতনের উপাদান দেখা যাচ্ছে। তাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে, যা জাতিকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। আসন্ন নির্বাচন নির্ধারণ করবে, আগামীর বাংলাদেশে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, গুম ও খুন চলবে কি না।
শুক্রবার বিকেলে ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে ঢাকা-১০ আসন কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘তারুণ্যের উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক করে আসিফ মাহমুদ বলেন, এর আগে অনুষ্ঠিত তিনটি প্রহসনের নির্বাচনের পর কমিশনারদের ছাত্র-জনতা যেভাবে প্রতিরোধ করেছে, আবারও যদি বাংলাদেশে কোনো প্রহসনের নির্বাচন হয়, তবে ছাত্র-জনতা চুপ করে বসে থাকবে না। তাই বর্তমান কমিশনকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তারা নিরপেক্ষ থেকে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করবে, নাকি অতীতের কমিশনারদের পরিণতি ভোগ করবে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা-১০ আসনের জনগণ আর কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজ নেতৃত্বকে গ্রহণ করবে না। পরিবর্তনের লক্ষ্যে ঢাকা-১০ আসনের জনগণ ১০ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দীন সরকারকে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে। তিনি নিজে এই আসনের ভোটার হিসেবে জসীম উদ্দীন সরকারের ওপর আস্থা রাখার ঘোষণা দিয়ে স্থানীয়দেরও একই আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দীন সরকার বলেন, বিগত ১৫ বছরের স্বৈরাচারী জুলুম-নির্যাতনের অবসান ঘটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। এই স্বৈরাচার এমনি এমনি বিদায় নেয়নি। তাকে বিদায় করতে জুলাই মাসের আন্দোলনে দুই হাজারের অধিক ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন এবং পঞ্চাশ হাজারের অধিক আহত-পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। ছাত্র-জনতার অর্জিত নতুন বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। জনগণ সেই নির্বাচনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। কিন্তু সেই নির্বাচন কোনো প্রহসনের হলে জনগণ তা মেনে নেবে না।
তিনি আরও বলেন, সব দল ও প্রার্থীর জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। কোনো দলকে প্রশাসনিক সুবিধাসহ যাবতীয় সুযোগ সুবিধা দেওয়া হবে, আর কাউকে কোনো সহযোগিতা করা হবে না—এমনটি হতে পারে না। এমনটি হলে নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
জসীম উদ্দীন সরকার বলেন, ১০ টাকা কেজি চাল এবং ঘরে ঘরে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ক্ষমতাসীন দল ক্ষমতা দখল করলেও কেউ ১০ টাকা কেজিতে চাল পায়নি, ঘরে ঘরে মানুষ চাকরিও পায়নি। একইভাবে বর্তমানে একটি দল নানানরকম কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করছে। ১০ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে ভাতা নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। তিনি উল্লেখ করেন, ভাতা নামক দয়া ভিক্ষায় জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাসী নয়। জামায়াতে ইসলামী যুবসমাজকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলবে। আগামীতে যুবকদের হাত ধরে এদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে এবং বাংলাদেশের শতকরা ৪০ ভাগ যুবককে বেকারত্বের হাত থেকে মুক্ত করা হবে।
নিজ নির্বাচনি আসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকা-১০ সংসদীয় এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, কিশোর গ্যাং ও ফুটওভার ব্রিজসহ নানাবিধ সমস্যা রয়েছে। তিনি নির্বাচিত হলে নাগরিক কমিটি গঠন করে সকল সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে জানান। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয়ভাবে পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতিও দেন জসীম উদ্দীন সরকার।
জামায়াতে ইসলামী ঢাকা-১০ আসন কমিটির পরিচালক ও মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক নুর নবী মানিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা-১০ আসন কমিটির সহকারী পরিচালক শেখ শরীফ উদ্দিন আহমেদ, জুলাই আন্দোলনে শহীদ মোবারক হোসেনের পিতা রমজান আলী, ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী পূর্ব শাখার সেক্রেটারি এমদাদুল হক, ছাত্রশিবির প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় পশ্চিম শাখা সভাপতি খালিদ হাসান, ঢাকা কলেজ শাখার সেক্রেটারি সাইমুন ইসলাম সানি প্রমুখ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে ঢাকা-১০ সংসদীয় এলাকার জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলসহ ১০ দলীয় জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, শুক্রবার বিকেলে ঢাকা-৫ সংসদীয় এলাকার রায়েরবাগ-মাতুয়াইল এলাকায় ১০ দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেনের সমর্থনে এক বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
যাত্রাবাড়ী মধ্য থানা আমির অ্যাডভোকেট একে আজাদের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মাওলানা ইমাম হোসেনের পরিচালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের হেলাল উদ্দিন রুবেল, ঢাকা-৫ আসনের সহকারী পরিচালক শাহজাহান খান, সদস্য সচিব মোহাম্মদ আলী, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিশে শূরা সদস্য খন্দকার এমদাদুল হক এবং মাওলানা মুহসিন উদ্দিন।
রিপোর্টারের নাম 






















