ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ শহরে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্বনেতারা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এবং ইউক্রেন যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিসহ বিশ্বের শীর্ষ নেতারা অংশ নিয়েছেন।
সম্মেলনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রতি হওয়া একটি প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। জানা গেছে, এই চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পথ তৈরি হবে। চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই চুক্তি নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে কিছুটা এড়িয়ে গেছেন। তিনি বলেন, “আমি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব বিষয়ে একমত নই।” একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ইসরাইল দক্ষিণ লেবানন, গাজা বা সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা করছে না।
জি-৭ সম্মেলনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ জোর দিয়ে বলেছেন যে, একটি “দৃঢ়, কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী” চুক্তি নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সম্ভাব্য ফ্রাঙ্কো-ব্রিটিশ নেতৃত্বাধীন সামুদ্রিক উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা করেছেন।
অন্যদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধও সম্মেলনের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জি-৭ নেতাদের সমর্থন ধরে রাখার পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে একটি বৈঠকের সম্ভাবনা খুঁজছেন। সম্মেলন শুরুর আগে ম্যাক্রোঁ ও জেলেনস্কির মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠকের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
ইউরোপীয় নেতারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখা এবং রাশিয়ার ওপর চাপ বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন দাবি করেছেন যে, ইউক্রেন বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপে রাশিয়ার অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্মেলনে পৌঁছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
রিপোর্টারের নাম 























