ঢাকা ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের জনসংযোগ: সরাসরি শুনলেন সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ, দিলেন সমাধানের প্রতিশ্রুতি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৮:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৭ (ভাসানটেক) আসনে এক জনসভায় সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শুনলেন এবং সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিলেন। শুক্রবার রাতে ভাসানটেকে আয়োজিত এই নির্বাচনী জনসভায় তিনি ভ্যানচালক, গার্মেন্টসকর্মী ও শিক্ষার্থীদের মতো সাধারণ ভোটারদের মঞ্চে ডেকে তাদের এলাকার সমস্যা জানতে চান। তার এই ব্যতিক্রমী জনসংযোগ পদ্ধতি উপস্থিত হাজার হাজার এলাকাবাসীকে মুগ্ধ করে।

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় তারেক রহমান বক্তব্য শুরু করার আগে মঞ্চের ডান ও বাম দিকে এগিয়ে গিয়ে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, “এখানে কোনো মা-বোন আছেন যিনি গার্মেন্টসে কাজ করেন? আমি এমন একজন মা বা বোনকে মঞ্চে আহ্বান করছি যিনি এই এলাকার ভোটার, কিন্তু আমার দলের কোনো কর্মী নন, একদম সাধারণ মানুষ।” এরপর তিনি একজন শ্রমিক, রিকশাচালক বা দিনমজুর এবং একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে মঞ্চে আসার আহ্বান জানান। তিনি বারবার জোর দিয়ে বলেন, যারা আসবেন, তারা অবশ্যই এই এলাকার ভোটার হতে হবে এবং কোনো দলীয় কর্মী হওয়া যাবে না। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে অনেকেই হাত তোলেন।

প্রথমেই মঞ্চে আসেন মোহাম্মদ জুয়েল, যিনি নিজেকে একজন ভ্যানচালক হিসেবে পরিচয় দেন। তারেক রহমান তার হাতে মাইক দিয়ে প্রশ্ন রাখেন, “আমি এই এলাকার ভোটার, বিএনপির প্রার্থী। আমি নির্বাচিত হলে বা বিএনপি সরকার গঠিত হলে আপনি আমার কাছে কী চান? আপনার এলাকার মূল সমস্যা কী?” জবাবে জুয়েল ৩০ বছর ধরে বেনারসি মাঠের বস্তিতে বসবাস করার কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমাদের মূল চাওয়া হলো, সরকার গঠন করতে পারলে বস্তিবাসীর পুনর্বাসন করে দিতে হবে।” তারেক রহমান উপস্থিত জনতার কাছে এই দাবির সঙ্গে একমত কিনা জানতে চাইলে সবাই হাত তুলে ‘একমত’ বলে সমর্থন জানান। জুয়েল আরও জানান, এলাকার ভেতরের রাস্তাগুলো ভাঙাচোরা এবং খেটে খাওয়া গরিব মানুষের জন্য সহযোগিতার প্রয়োজন। তবে তার মূল চাওয়া বস্তিবাসীর পুনর্বাসন।

জুয়েলের পর মঞ্চে আসেন এশিয়া প্যাসিফিকের ছাত্রী হেনা আক্তার। পুরাতন কচুক্ষেত এলাকার ভোটার হেনা ভাষানটেকের বস্তিপ্রধান এলাকাগুলোর পরিবেশ উন্নয়নের দাবি জানান। তিনি বলেন, ক্যান্টনমেন্টের ভেতরের পরিবেশ যেমন সুন্দর ও গোছানো, তেমনি ভাষানটেক, কচুক্ষেতসহ ঢাকা-১৭ আসনের অন্তর্ভুক্ত সব এলাকার পরিবেশও একই রকম সুন্দর হওয়া উচিত। উপস্থিত জনগণ তার এই দাবির প্রতিও সমর্থন জানান।

এরপর ৯৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার ও গার্মেন্টসকর্মী লিলি বেগম মঞ্চে এসে তার চাওয়া তুলে ধরেন। তিনি তারেক রহমানকে বলেন, “আমরা বস্তিবাসী, আমাদের কিছুই নেই। আপনি ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলছেন, আমরা ফ্যামিলি কার্ড চাই।” লিলি জানান, চাঁদপুরে নদী ভাঙনে তাদের দেশবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। তিনি জুয়েলের মতো বস্তিবাসীর পুনর্বাসনও দাবি করেন। তারেক রহমান একটি ফ্যামিলি কার্ড দেখিয়ে বলেন, “বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে লিলির মতো প্রত্যেক মা-বোন এমন একটি ফ্যামিলি কার্ড পাবেন।” লিলি আরও বলেন, তার ছেলে মাস্টার্স পাস করেও বেকার। তিনি শিক্ষিত যুবকদের জন্য চাকরির ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান। তারেক রহমান এই সমস্যাকে শুধু ভাষানটেকের নয়, সারা বাংলাদেশের সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন।

গৃহিণী শান্তা বেগম ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা সম্পর্কে বলেন, “এই আড়াই হাজার টাকার মধ্যেই আমরা চাল, ডালসহ অনেক প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারব।” তারেক রহমান উপস্থিত মা-বোন ও পুরুষদের কাছে জানতে চান, তারা ফ্যামিলি কার্ড চান কিনা। তিনি বলেন, “যদি আপনারা ফ্যামিলি কার্ড চান, তাহলে দুটি কাজ করতে হবে। এক, এখানে বিএনপি প্রার্থীকে জয়যুক্ত করতে হবে। দুই, আপনাদের আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবদের সারা দেশে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে বলতে হবে। তাহলেই সারা বাংলাদেশে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া সম্ভব হবে।”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পরিশেষে বলেন, “আমি যেহেতু আপনাদের প্রার্থী, এই এলাকায় ছোট থেকে বড় হয়েছি। মধ্যখানে অনেকটা সময় বাইরে থাকতে হলেও আমি আপনাদেরই একজন। আমি আপনাদেরকে এতটুকু বলতে পারি যে, ইনশাল্লাহ আগামী নির্বাচনে আমি জয়ী হলে এবং ধানের শীষ সরকার গঠন করলে, আজ এখানে আপনাদের সকলের পক্ষ থেকে যে কজন মানুষ সমস্যার কথা বলে গেছেন—বস্তিবাসীর পুনর্বাসনসহ অন্যান্য যত সমস্যার কথা বলা হয়েছে, ইনশাল্লাহ আমরা সেগুলোর সমাধান করব। আপনাদের এলাকাবাসী হিসেবে, এই এলাকার সন্তান হিসেবে আমি এই ওয়াদা করে গেলাম।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীর ছয় থানা এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬০ জন গ্রেপ্তার

ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের জনসংযোগ: সরাসরি শুনলেন সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ, দিলেন সমাধানের প্রতিশ্রুতি

আপডেট সময় : ১০:৪৮:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৭ (ভাসানটেক) আসনে এক জনসভায় সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শুনলেন এবং সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিলেন। শুক্রবার রাতে ভাসানটেকে আয়োজিত এই নির্বাচনী জনসভায় তিনি ভ্যানচালক, গার্মেন্টসকর্মী ও শিক্ষার্থীদের মতো সাধারণ ভোটারদের মঞ্চে ডেকে তাদের এলাকার সমস্যা জানতে চান। তার এই ব্যতিক্রমী জনসংযোগ পদ্ধতি উপস্থিত হাজার হাজার এলাকাবাসীকে মুগ্ধ করে।

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় তারেক রহমান বক্তব্য শুরু করার আগে মঞ্চের ডান ও বাম দিকে এগিয়ে গিয়ে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, “এখানে কোনো মা-বোন আছেন যিনি গার্মেন্টসে কাজ করেন? আমি এমন একজন মা বা বোনকে মঞ্চে আহ্বান করছি যিনি এই এলাকার ভোটার, কিন্তু আমার দলের কোনো কর্মী নন, একদম সাধারণ মানুষ।” এরপর তিনি একজন শ্রমিক, রিকশাচালক বা দিনমজুর এবং একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে মঞ্চে আসার আহ্বান জানান। তিনি বারবার জোর দিয়ে বলেন, যারা আসবেন, তারা অবশ্যই এই এলাকার ভোটার হতে হবে এবং কোনো দলীয় কর্মী হওয়া যাবে না। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে অনেকেই হাত তোলেন।

প্রথমেই মঞ্চে আসেন মোহাম্মদ জুয়েল, যিনি নিজেকে একজন ভ্যানচালক হিসেবে পরিচয় দেন। তারেক রহমান তার হাতে মাইক দিয়ে প্রশ্ন রাখেন, “আমি এই এলাকার ভোটার, বিএনপির প্রার্থী। আমি নির্বাচিত হলে বা বিএনপি সরকার গঠিত হলে আপনি আমার কাছে কী চান? আপনার এলাকার মূল সমস্যা কী?” জবাবে জুয়েল ৩০ বছর ধরে বেনারসি মাঠের বস্তিতে বসবাস করার কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমাদের মূল চাওয়া হলো, সরকার গঠন করতে পারলে বস্তিবাসীর পুনর্বাসন করে দিতে হবে।” তারেক রহমান উপস্থিত জনতার কাছে এই দাবির সঙ্গে একমত কিনা জানতে চাইলে সবাই হাত তুলে ‘একমত’ বলে সমর্থন জানান। জুয়েল আরও জানান, এলাকার ভেতরের রাস্তাগুলো ভাঙাচোরা এবং খেটে খাওয়া গরিব মানুষের জন্য সহযোগিতার প্রয়োজন। তবে তার মূল চাওয়া বস্তিবাসীর পুনর্বাসন।

জুয়েলের পর মঞ্চে আসেন এশিয়া প্যাসিফিকের ছাত্রী হেনা আক্তার। পুরাতন কচুক্ষেত এলাকার ভোটার হেনা ভাষানটেকের বস্তিপ্রধান এলাকাগুলোর পরিবেশ উন্নয়নের দাবি জানান। তিনি বলেন, ক্যান্টনমেন্টের ভেতরের পরিবেশ যেমন সুন্দর ও গোছানো, তেমনি ভাষানটেক, কচুক্ষেতসহ ঢাকা-১৭ আসনের অন্তর্ভুক্ত সব এলাকার পরিবেশও একই রকম সুন্দর হওয়া উচিত। উপস্থিত জনগণ তার এই দাবির প্রতিও সমর্থন জানান।

এরপর ৯৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার ও গার্মেন্টসকর্মী লিলি বেগম মঞ্চে এসে তার চাওয়া তুলে ধরেন। তিনি তারেক রহমানকে বলেন, “আমরা বস্তিবাসী, আমাদের কিছুই নেই। আপনি ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলছেন, আমরা ফ্যামিলি কার্ড চাই।” লিলি জানান, চাঁদপুরে নদী ভাঙনে তাদের দেশবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। তিনি জুয়েলের মতো বস্তিবাসীর পুনর্বাসনও দাবি করেন। তারেক রহমান একটি ফ্যামিলি কার্ড দেখিয়ে বলেন, “বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে লিলির মতো প্রত্যেক মা-বোন এমন একটি ফ্যামিলি কার্ড পাবেন।” লিলি আরও বলেন, তার ছেলে মাস্টার্স পাস করেও বেকার। তিনি শিক্ষিত যুবকদের জন্য চাকরির ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান। তারেক রহমান এই সমস্যাকে শুধু ভাষানটেকের নয়, সারা বাংলাদেশের সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন।

গৃহিণী শান্তা বেগম ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা সম্পর্কে বলেন, “এই আড়াই হাজার টাকার মধ্যেই আমরা চাল, ডালসহ অনেক প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারব।” তারেক রহমান উপস্থিত মা-বোন ও পুরুষদের কাছে জানতে চান, তারা ফ্যামিলি কার্ড চান কিনা। তিনি বলেন, “যদি আপনারা ফ্যামিলি কার্ড চান, তাহলে দুটি কাজ করতে হবে। এক, এখানে বিএনপি প্রার্থীকে জয়যুক্ত করতে হবে। দুই, আপনাদের আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবদের সারা দেশে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে বলতে হবে। তাহলেই সারা বাংলাদেশে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া সম্ভব হবে।”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পরিশেষে বলেন, “আমি যেহেতু আপনাদের প্রার্থী, এই এলাকায় ছোট থেকে বড় হয়েছি। মধ্যখানে অনেকটা সময় বাইরে থাকতে হলেও আমি আপনাদেরই একজন। আমি আপনাদেরকে এতটুকু বলতে পারি যে, ইনশাল্লাহ আগামী নির্বাচনে আমি জয়ী হলে এবং ধানের শীষ সরকার গঠন করলে, আজ এখানে আপনাদের সকলের পক্ষ থেকে যে কজন মানুষ সমস্যার কথা বলে গেছেন—বস্তিবাসীর পুনর্বাসনসহ অন্যান্য যত সমস্যার কথা বলা হয়েছে, ইনশাল্লাহ আমরা সেগুলোর সমাধান করব। আপনাদের এলাকাবাসী হিসেবে, এই এলাকার সন্তান হিসেবে আমি এই ওয়াদা করে গেলাম।”