আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হলে উত্তরবঙ্গে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে ১০ দলীয় ঐক্য জোট আয়োজিত এক নির্বাচনি সমাবেশে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন।
ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, নদী বাঁচলে উত্তরবঙ্গও প্রাণ ফিরে পাবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এ অঞ্চলের মানুষের জন্য অপরিহার্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আপনারা আমাদের দায়িত্ব দিলে উত্তরবঙ্গে প্রথম তিস্তাতেই কোদাল বসাব।” এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কে খুশি বা অখুশি হবে, তা তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জামায়াত আমির তার বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিগত সময়ের সরকারগুলোর কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের মানুষ গত ১৭ বছর ধরে “ফ্যাসিবাদী শাসনে” নিষ্পেষিত হয়েছে এবং তাদের মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তিনি কানাডার তথাকথিত “বেগমপাড়া” প্রসঙ্গে ইঙ্গিত করে বলেন, “এতো লুটপাট করে কী লাভ হলো? শান্তি তো পেলেন না।”
ডা. শফিকুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, আলেম-ওলামাদের হত্যা করা হয়েছে, একটি নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট না দেওয়ায় একজন নারীকে “ছিন্নভিন্ন” করা হয়েছে এবং মা-বোনদের ইজ্জত-আব্রু নিয়ে “নোংরামো” করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে চব্বিশের ৫ আগস্ট পর্যন্ত অসংখ্য মানুষ হত্যা, আহত ও গুমের ঘটনা তুলে ধরেন। জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করা, দলের ১১ জন সিনিয়র নেতাকে হত্যা এবং এক হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে খুন করার অভিযোগও করেন তিনি। শত শত মানুষকে “আয়নাঘরে” নিয়ে গুম করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর তারা শান্তিতে বসবাসের আশা করেছিলেন, কিন্তু তাদের সে আশা “গুড়ে বালি” হয়েছে। রংপুরের মানুষকে শান্তশিষ্ট ও অল্পে তুষ্ট হিসেবে বর্ণনা করে ডা. শফিকুর রহমান তাদের সমর্থন কামনা করেন।
রিপোর্টারের নাম 






















