ঢাকা ০৭:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকা-১২ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থীর ১২ দফা ইশতেহার ঘোষণা: “কথা কম কাজ বেশি” স্লোগান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১৬:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

“কথা কম কাজ বেশি, বাংলাদেশকে ভালোবাসি” – এই স্লোগানকে সামনে রেখে ঢাকা-১২ আসনের আসন্ন নির্বাচনে গণসংহতি আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী তাসলিমা আখতার তাঁর ১২ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা সংলগ্ন এলাকায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি এই ইশতেহার জনসমক্ষে তুলে ধরেন।

তাসলিমা আখতারের প্রস্তাবিত ইশতেহারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মাদক ও দখলদারিত্ব প্রতিরোধ, নারী অধিকার ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি, দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ বন্ধ এবং নীতি-নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ঢাকা-১২ সিটিজেন কাউন্সিল গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রার্থীর ১২ দফা ইশতেহারের মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

১. নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও নাগরিক সেবা: গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি টিসিবি’র মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্তভাবে দিন-রাতে রেশনিং ব্যবস্থা চালু এবং ব্যাংক ও ফ্যামিলি কার্ডের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। নারী ও প্রতিবন্ধীবান্ধব পাবলিক টয়লেট ও বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ এবং ভর্তুকি মূল্যে লন্ড্রি ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের দোকান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

২. দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও মাদক দখলদারমুক্ত এলাকা: ওয়ার্ডভিত্তিক নজরদারি কমিটি গঠনের মাধ্যমে বাজার, পরিবহন, নির্মাণ খাত এবং প্রশাসনিক সকল স্তরে চাঁদাবাজি বন্ধ করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নিবন্ধনের আওতায় এনে তাঁদের সহায়তা প্রদান এবং তরুণ সমাজকে মাদক থেকে রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

৩. নারী অধিকার ও নিরাপত্তা: কর্মক্ষেত্রসহ সকল ক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধে বিদ্যমান কমিটিগুলোকে আরও কার্যকর করা, সমকাজে সমবেতন, ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন, নিরাপদ আবাসন, আইনি সহায়তা এবং ২৪ ঘণ্টা হেল্পডেস্ক চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

৪. শ্রমিক অধিকার, কর্মসংস্থান, জান-জীবিকা ও বাকস্বাধীনতা: জাতীয় মজুরি কমিশন গঠন এবং মর্যাদাপূর্ণ মজুরির নিশ্চয়তা প্রদানের পাশাপাশি শ্রম আইন ও ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। বেকার তরুণ-তরুণীদের জন্য ভাতা, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং দক্ষতা উন্নয়নের নিশ্চয়তা প্রদানের কথাও ইশতেহারে স্থান পেয়েছে।

৫. শিক্ষার অধিকার: দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ ও বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

৬. স্বাস্থ্যসেবা: ওয়ার্ডভিত্তিক সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন, মা ও শিশু এবং প্রবীণদের জন্য বিশেষ সেবা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা, অ্যাম্বুলেন্স সেবা এবং ২৪ ঘণ্টার জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

৭. শিশু, তরুণ ও যুব উন্নয়ন: খেলার মাঠ, পার্ক ও পাঠাগার পুনরুদ্ধার, ইতিহাস ও সংস্কৃতি চর্চার প্রসার, আইটি ও কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং মাদকমুক্ত এলাকা গঠনে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

৮. পরিবেশ ও বাসযোগ্য নগর: ড্রেনেজ ও জলাবদ্ধতা নিরসন, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সবুজায়ন বৃদ্ধি, বায়ু ও শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং খাল ও জলাধার সংরক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

৯. ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা: সকল ধর্মের উপাসনালয়ের নিরাপত্তা ও সংস্কার নিশ্চিতকরণ, ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা এবং সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

১০. প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার: প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ, শিক্ষা সংস্কারে কোটা ও সহায়তা প্রদান, হিজড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মর্যাদা ও জীবিকা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

১১. নাগরিক কাউন্সিল ও জবাবদিহিতা: ঢাকা-১২ নাগরিক কাউন্সিল গঠন, সংসদ সদস্যদের গণশুনানি আয়োজন এবং জনপ্রতিনিধিদের প্রশাসনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

১২. স্থানীয় সরকার থেকে সংসদ প্রতিনিধির সমন্বয়: সংসদ সদস্য, সিটি কর্পোরেশন, প্রশাসন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং সরকারি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সুসমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীর ছয় থানা এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬০ জন গ্রেপ্তার

ঢাকা-১২ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থীর ১২ দফা ইশতেহার ঘোষণা: “কথা কম কাজ বেশি” স্লোগান

আপডেট সময় : ০৬:১৬:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

“কথা কম কাজ বেশি, বাংলাদেশকে ভালোবাসি” – এই স্লোগানকে সামনে রেখে ঢাকা-১২ আসনের আসন্ন নির্বাচনে গণসংহতি আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী তাসলিমা আখতার তাঁর ১২ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা সংলগ্ন এলাকায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি এই ইশতেহার জনসমক্ষে তুলে ধরেন।

তাসলিমা আখতারের প্রস্তাবিত ইশতেহারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মাদক ও দখলদারিত্ব প্রতিরোধ, নারী অধিকার ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি, দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ বন্ধ এবং নীতি-নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ঢাকা-১২ সিটিজেন কাউন্সিল গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রার্থীর ১২ দফা ইশতেহারের মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

১. নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও নাগরিক সেবা: গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি টিসিবি’র মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্তভাবে দিন-রাতে রেশনিং ব্যবস্থা চালু এবং ব্যাংক ও ফ্যামিলি কার্ডের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। নারী ও প্রতিবন্ধীবান্ধব পাবলিক টয়লেট ও বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ এবং ভর্তুকি মূল্যে লন্ড্রি ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের দোকান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

২. দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও মাদক দখলদারমুক্ত এলাকা: ওয়ার্ডভিত্তিক নজরদারি কমিটি গঠনের মাধ্যমে বাজার, পরিবহন, নির্মাণ খাত এবং প্রশাসনিক সকল স্তরে চাঁদাবাজি বন্ধ করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নিবন্ধনের আওতায় এনে তাঁদের সহায়তা প্রদান এবং তরুণ সমাজকে মাদক থেকে রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

৩. নারী অধিকার ও নিরাপত্তা: কর্মক্ষেত্রসহ সকল ক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধে বিদ্যমান কমিটিগুলোকে আরও কার্যকর করা, সমকাজে সমবেতন, ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন, নিরাপদ আবাসন, আইনি সহায়তা এবং ২৪ ঘণ্টা হেল্পডেস্ক চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

৪. শ্রমিক অধিকার, কর্মসংস্থান, জান-জীবিকা ও বাকস্বাধীনতা: জাতীয় মজুরি কমিশন গঠন এবং মর্যাদাপূর্ণ মজুরির নিশ্চয়তা প্রদানের পাশাপাশি শ্রম আইন ও ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। বেকার তরুণ-তরুণীদের জন্য ভাতা, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং দক্ষতা উন্নয়নের নিশ্চয়তা প্রদানের কথাও ইশতেহারে স্থান পেয়েছে।

৫. শিক্ষার অধিকার: দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ ও বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

৬. স্বাস্থ্যসেবা: ওয়ার্ডভিত্তিক সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন, মা ও শিশু এবং প্রবীণদের জন্য বিশেষ সেবা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা, অ্যাম্বুলেন্স সেবা এবং ২৪ ঘণ্টার জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

৭. শিশু, তরুণ ও যুব উন্নয়ন: খেলার মাঠ, পার্ক ও পাঠাগার পুনরুদ্ধার, ইতিহাস ও সংস্কৃতি চর্চার প্রসার, আইটি ও কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং মাদকমুক্ত এলাকা গঠনে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

৮. পরিবেশ ও বাসযোগ্য নগর: ড্রেনেজ ও জলাবদ্ধতা নিরসন, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সবুজায়ন বৃদ্ধি, বায়ু ও শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং খাল ও জলাধার সংরক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

৯. ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা: সকল ধর্মের উপাসনালয়ের নিরাপত্তা ও সংস্কার নিশ্চিতকরণ, ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা এবং সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

১০. প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার: প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ, শিক্ষা সংস্কারে কোটা ও সহায়তা প্রদান, হিজড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মর্যাদা ও জীবিকা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

১১. নাগরিক কাউন্সিল ও জবাবদিহিতা: ঢাকা-১২ নাগরিক কাউন্সিল গঠন, সংসদ সদস্যদের গণশুনানি আয়োজন এবং জনপ্রতিনিধিদের প্রশাসনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

১২. স্থানীয় সরকার থেকে সংসদ প্রতিনিধির সমন্বয়: সংসদ সদস্য, সিটি কর্পোরেশন, প্রশাসন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং সরকারি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সুসমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।