ঢাকা ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হলো ঘূর্ণিঝড় ‘মোনথা’ বন্দরগুলোতে ২ নম্বর সংকেত

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি আরও শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রোববার রাত ৩টার দিকে নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেয়।

সাইক্লোন বিষয়ে আঞ্চলিক সংস্থা এসকাপের তালিকা অনুযায়ী, এই ঘূর্ণিঝড়টির নাম দেওয়া হয়েছে ‘মোনথা’। নামটি থাইল্যান্ডের দেওয়া, যার অর্থ হলো সুন্দর বা সুবাসিত ফুল।

আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়টি মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাতের কোনো এক সময়ের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল পার হতে পারে।

তিনি আরও জানান, ‘মোনথা’ সরাসরি বাংলাদেশে আঘাত হানবে না, তবে এর প্রভাবে কয়েকদিন বৃষ্টির ভাব থাকবে। তাঁর কথায়, “বাংলাদেশে এর (সরাসরি) প্রভাব পড়বে না। তবে এটি স্থলভাগ পার হওয়ার পর বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকাসহ বেশ কিছু অঞ্চলে বৃষ্টি হতে পারে।”

ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের কাছাকাছি সাগর খুবই উত্তাল অবস্থায় আছে। তাই চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘মোনথা’ এখন দক্ষিণ-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় আছে। রোববার রাত ৩টার দিকে এটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৩৬০ কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে ১৩০০ কিলোমিটার, মোংলা থেকে ১২৮০ কিলোমিটার এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১২৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

এই ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া হিসেবে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে।

আবহাওয়ার নিয়মিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের দু-একটি জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। দেশের অন্য জায়গাগুলোতে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া মূলত শুকনোই থাকবে।

এদিকে, ভারতের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী সোমবার রাত ১২টার দিকে ‘মোনথা’ একটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এটি মঙ্গলবার সন্ধ্যা বা রাতের দিকে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তখন এর বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার থাকতে পারে, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া হিসেবে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্তও বাড়তে পারে।

নিয়ম অনুযায়ী, সাগরে কোনো ঘূর্ণিবায়ুর চক্র তৈরি হলে এবং তার কেন্দ্রের কাছে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেলেই তাকে ঘূর্ণিঝড় বলা হয়।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর শক্তি বিচারে ঘূর্ণিঝড়কে মোট চারটি ভাগে ভাগ করে।

যেমন, বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার হলে তাকে ‘ঘূর্ণিঝড়’ বলে।

গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ থেকে ১১৭ কিলোমিটার হলে সেটিকে ‘প্রবল ঘূর্ণিঝড়’ বলা হয়।

বাতাসের গতিবেগ যখন ঘণ্টায় ১১৮ থেকে ২১৯ কিলোমিটার হয়, তখন তাকে ‘হারিকেনের গতিসম্পন্ন ঘূর্ণিঝড়’ বলা হয়।

আর গতিবেগ ঘণ্টায় ২২০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেলে তাকে ‘সুপার সাইক্লোন’ বা ‘অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়’ হিসেবে ধরা হয়।

এর আগে, চলতি মাসের শুরুতেই বঙ্গোপসাগরে ‘শক্তি’ নামে আরেকটি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়েছিল। অবশ্য সেই ঝড়ের কোনো প্রভাব বাংলাদেশে পড়েনি।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথের বেদখল হল উদ্ধারে সব ধরনের আইনি সহায়তার আশ্বাস এমপি হামিদের

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হলো ঘূর্ণিঝড় ‘মোনথা’ বন্দরগুলোতে ২ নম্বর সংকেত

আপডেট সময় : ০১:৩৮:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি আরও শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রোববার রাত ৩টার দিকে নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেয়।

সাইক্লোন বিষয়ে আঞ্চলিক সংস্থা এসকাপের তালিকা অনুযায়ী, এই ঘূর্ণিঝড়টির নাম দেওয়া হয়েছে ‘মোনথা’। নামটি থাইল্যান্ডের দেওয়া, যার অর্থ হলো সুন্দর বা সুবাসিত ফুল।

আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়টি মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাতের কোনো এক সময়ের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল পার হতে পারে।

তিনি আরও জানান, ‘মোনথা’ সরাসরি বাংলাদেশে আঘাত হানবে না, তবে এর প্রভাবে কয়েকদিন বৃষ্টির ভাব থাকবে। তাঁর কথায়, “বাংলাদেশে এর (সরাসরি) প্রভাব পড়বে না। তবে এটি স্থলভাগ পার হওয়ার পর বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকাসহ বেশ কিছু অঞ্চলে বৃষ্টি হতে পারে।”

ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের কাছাকাছি সাগর খুবই উত্তাল অবস্থায় আছে। তাই চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘মোনথা’ এখন দক্ষিণ-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় আছে। রোববার রাত ৩টার দিকে এটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৩৬০ কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে ১৩০০ কিলোমিটার, মোংলা থেকে ১২৮০ কিলোমিটার এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১২৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

এই ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া হিসেবে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে।

আবহাওয়ার নিয়মিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের দু-একটি জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। দেশের অন্য জায়গাগুলোতে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া মূলত শুকনোই থাকবে।

এদিকে, ভারতের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী সোমবার রাত ১২টার দিকে ‘মোনথা’ একটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এটি মঙ্গলবার সন্ধ্যা বা রাতের দিকে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তখন এর বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার থাকতে পারে, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া হিসেবে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্তও বাড়তে পারে।

নিয়ম অনুযায়ী, সাগরে কোনো ঘূর্ণিবায়ুর চক্র তৈরি হলে এবং তার কেন্দ্রের কাছে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেলেই তাকে ঘূর্ণিঝড় বলা হয়।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর শক্তি বিচারে ঘূর্ণিঝড়কে মোট চারটি ভাগে ভাগ করে।

যেমন, বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার হলে তাকে ‘ঘূর্ণিঝড়’ বলে।

গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ থেকে ১১৭ কিলোমিটার হলে সেটিকে ‘প্রবল ঘূর্ণিঝড়’ বলা হয়।

বাতাসের গতিবেগ যখন ঘণ্টায় ১১৮ থেকে ২১৯ কিলোমিটার হয়, তখন তাকে ‘হারিকেনের গতিসম্পন্ন ঘূর্ণিঝড়’ বলা হয়।

আর গতিবেগ ঘণ্টায় ২২০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেলে তাকে ‘সুপার সাইক্লোন’ বা ‘অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়’ হিসেবে ধরা হয়।

এর আগে, চলতি মাসের শুরুতেই বঙ্গোপসাগরে ‘শক্তি’ নামে আরেকটি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়েছিল। অবশ্য সেই ঝড়ের কোনো প্রভাব বাংলাদেশে পড়েনি।