কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর নজিরবিহীন পুনরুত্থানের চিত্র। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত এখন ক্ষমতার অন্যতম দাবিদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ফরিদপুরের ৪৫ বছর বয়সী ব্যাংকার আবদুর রাজ্জাকের মতো তৃণমূল কর্মীদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দীর্ঘ ১৫ বছরের দমন-পীড়ন কাটিয়ে জামায়াত কর্মীরা এখন বিশ্বাস করেন যে, তাদের দলটি একটি শক্তিশালী শাসক জোটে প্রধান হিসেবে ক্ষমতায় আসার প্রকৃত সুযোগ পেয়েছে।
আল জাজিরা বলছে, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ থাকায় আসন্ন নির্বাচনটি মূলত প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি এবং জামায়াত-নেতৃত্বাধীন একটি নির্বাচনী জোটের মধ্যে দ্বিমুখী লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। জামায়াতের এই জোটে যুক্ত হয়েছে ২০২৪ সালের আন্দোলনের ছাত্র নেতাদের গঠিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) ও অন্যান্য ইসলামপন্থি দল। আন্তর্জাতিক সংস্থা আইআরআই এবং স্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাম্প্রতিক জনমত জরিপের তথ্য তুলে ধরে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জামায়াত এখন সমর্থনের দিক থেকে বিএনপির ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে। একটি জরিপে দেখা গেছে, বিএনপির সমর্থন যেখানে ৩৪.৭ শতাংশ, সেখানে জামায়াতের সমর্থন ৩৩.৬ শতাংশে পৌঁছেছে।
প্রতিবেদনে জামায়াতের ইতিহাসের চড়াই-উতরাই ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জানানো হয়, ১৯৭১ সালের যুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষে ভূমিকার কারণে দলটি দীর্ঘকাল বিতর্কিত থাকলেও, হাসিনা সরকারের আমলে তাদের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি ও অমানবিক দমন-পীড়ন এখন জনমনে সহানুভূতির জন্ম দিয়েছে। জামায়াতের নায়েবে আমির ড. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের আল জাজিরাকে বলেন, গত ৫৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শাসনে মানুষ হতাশ হয়ে এখন একটি নতুন রাজনৈতিক শক্তি খুঁজছে। তবে জামায়াতের এই উত্থান প্রতিবেশী ভারতের জন্য একটি বড় পরীক্ষার কারণ হতে পারে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে। বিশেষ করে ভারতের বিজেপি সরকারের সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুগুলো নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।
জামায়াত এবার নিজের মুসলিম ভিত্তির বাইরেও আবেদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। প্রথমবারের মতো একজন হিন্দু প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দলটির ‘মধ্যপন্থি ইসলামি শক্তি’ হিসেবে নিজেদের তুলে ধরার একটি প্রয়াস। আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারির এই ভোট কেবল একটি সাধারণ নির্বাচন নয়, বরং এটি বাংলাদেশের জন্য ‘সংস্কার বনাম স্থিতাবস্থা’র একটি ঐতিহাসিক পরীক্ষা।
রিপোর্টারের নাম 

























