আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না দুটি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এবং দুটি আসনেই তার প্রার্থিতা বৈধতা পেয়েছে। অথচ, যুগপৎ আন্দোলনের শরিক হিসেবে বিএনপি তাকে বগুড়া-২ আসন ছেড়ে দেওয়ার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত সেখানে বিএনপির নিজস্ব প্রার্থী রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে বিএনপি ও নাগরিক ঐক্যের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে এক ধরনের ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।
গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, বগুড়া-২ আসনটি নাগরিক ঐক্যকে ছেড়ে দেওয়া হবে এবং আসনটি মাহমুদুর রহমান মান্নার জন্য ফাঁকা রাখা হবে। তবে, গত ২ জানুয়ারি বগুড়া-২ আসনে মান্নার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে বাতিল হয়ে যায়। পরে নির্বাচন কমিশনে আপিল করে তিনি প্রার্থিতা ফিরে পান। একই সময়ে তিনি ঢাকা-১৮ আসনেও মনোনয়নপত্র জমা দেন এবং সেখানেও তার প্রার্থিতা বৈধতা পায়।
অন্যদিকে, বগুড়া-২ আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মীর শাহে আলম। ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন। ফলে, বর্তমানে দুটি আসনেই মাহমুদুর রহমান মান্না এবং বিএনপির প্রার্থীরা স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
যুগপৎ আন্দোলনের অংশীদার হিসেবে নাগরিক ঐক্যকে আসন ছেড়ে দেওয়ার পরও বিএনপি নিজ দলের প্রার্থী দেওয়ায় দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এই প্রেক্ষাপটে নাগরিক ঐক্য মোট ১১টি আসনে তাদের প্রার্থী দেয়, যার মধ্যে বগুড়া-২ এবং ঢাকা-১৮ আসনে মাহমুদুর রহমান মান্না প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এ বিষয়ে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, মান্না দুটি আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং তাদেরও দুটি আসনে প্রার্থী রয়েছে। বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে তিনি কোন আসনে থাকবেন অথবা থাকবেন না। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, শীঘ্রই এই বিষয়ে একটি নিষ্পত্তি হবে। তবে, তিনি নিজে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান।
মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে সর্বশেষ আলোচনা প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, তার সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে, দলের চেয়ারপারসন এবং মহাসচিবের সঙ্গে আলোচনা হয়ে থাকতে পারে।
অন্যদিকে, নাগরিক ঐক্যের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাকিব আনোয়ার জানিয়েছেন, বিএনপির সঙ্গে এ বিষয়ে সাম্প্রতিক কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। যদি বিএনপি কোনো কথা বলে থাকে, তবে তা তাদের অভ্যন্তরীণ আলোচনা হতে পারে। তিনি আরও জানান যে, গত ১৮ জানুয়ারি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হাসপাতালে মাহমুদুর রহমান মান্নাকে দেখতে গেলেও সেখানে আসন সমঝোতা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। সেদিন কেবল মান্নার শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা হয়েছিল।
সাকিব আনোয়ার বলেন, যুগপৎ আন্দোলনে তারা একসঙ্গে লড়াই করেছেন এবং ভবিষ্যতে জাতীয় সরকার গঠনের বিষয়েও তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাচনী জোট বা সমঝোতা আলোচনার সময় বিএনপি তাদের বগুড়া-২ আসন ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছিল এবং আসনটি মান্নার জন্য ফাঁকা রাখা হবে বলে জানিয়েছিল।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, পরে ওই আসনে বিএনপি প্রার্থী দেয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর শোক জানাতে গেলে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে কথা হয়। তিনি তখন জানান যে, মনোনয়ন সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আসনটি হাতছাড়া না করতে অতিরিক্ত একজনকে দেওয়া হয়েছে। এখন যেহেতু মান্নার দুটি আসনের প্রার্থিতাই বৈধ হয়েছে, তাই আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান হবে বলে আশ্বাস পেলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি।
রিপোর্টারের নাম 

























