একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি আয়োজিত প্রথম নির্বাচনি জনসভাকে ঘিরে উৎসবের নগরী সিলেট যেন পরিণত হয়েছে এক মিলনমেলায়। বুধবার গভীর রাত থেকেই সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে জড়ো হতে শুরু করেছেন দলের হাজারো নেতাকর্মী। তাদের মূল লক্ষ্য বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমানকে কাছ থেকে দেখা এবং তার বার্তা শোনা।
রাত যত গভীর হয়েছে, ততই বেড়েছে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি। সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে তারা এসে মাঠে অবস্থান নিচ্ছেন। কেউ মাদুর পেতে বসে রাত কাটাচ্ছেন, কেউবা শীতের চাদর গায়ে জড়িয়ে অপেক্ষা করছেন।
বালাগঞ্জ থানা বিএনপির সদস্য আব্দুল হক বলেন, “এর আগে খালেদা জিয়ার জনসভায় দুইবার এসেছি এই মাঠে। কিন্তু তারেক রহমানকে কখনো সামনে থেকে দেখার সুযোগ হয়নি। সকালে জনসভা শুরু হলে হয়তো সামনে জায়গা পাব না, তাই রাতেই চলে এসেছি।”
সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলা থেকে আসা ছাত্রদলের নেতা মোরসালিন বলেন, “তারেক রহমানকে কখনো সামনে থেকে দেখিনি। কাল সকালে দেখার সুযোগ পাব—এই আশায় রাতেই চলে এসেছি, যাতে মঞ্চের সামনের সারিতে থাকতে পারি।”
গোয়াইনঘাট উপজেলা থেকে আসা ইমাম উদ্দিন জানান, “২০০৮ সালে খালেদা জিয়ার জনসভায় এসেছিলাম। এবার তারেক রহমানের ভাষণ শুনতে এসেছি। এখান থেকেই আমরা নতুন বাংলাদেশের পরিকল্পনার কথা শুনতে চাই।”
সুনামগঞ্জ থেকে চারটি বাসে আসা নেতাকর্মীদের একজন ইমাম হোসেন জানান, “শীতের জামাকাপড় নিয়ে এসেছি। রাত এখানেই কাটাব, যাতে সকালে মঞ্চের সামনে থাকতে পারি। হয়তো তারেক রহমানের সঙ্গে হাত মেলানোর সুযোগ পাব।”
তারেক রহমানের আগমনে পুরো সিলেট শহর যেন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। জনসভার মাঠ স্লোগানে মুখর হয়ে উঠছে। ‘ধানের শীষ’, ‘বিএনপি’, ‘তারেক রহমান’—এমন স্লোগানে প্রকম্পিত হচ্ছে পুরো এলাকা। আলিয়া মাদ্রাসার আশেপাশে বিভিন্ন ভবনে ও গাছে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ব্যানার-ফেস্টুন লাগানো হয়েছে।
দলীয় সূত্রমতে, এই জনসভা থেকে বিএনপি নির্বাচনি মাঠে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিতে চায়। তাই জনসভা সফল করতে রাতভর মাঠে অবস্থান করছেন নেতাকর্মীরা।
নির্বাচনি সফরের সূচনা:
রীতি অনুযায়ী, হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে বিএনপি তাদের নির্বাচনি প্রচার শুরু করে। সিলেটে পৌঁছে তারেক রহমান ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি মাজার জিয়ারতে যান। মাজার জিয়ারত শেষে তিনি দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বিরাইমপুরে শ্বশুরবাড়িতে যান। দীর্ঘ ২১ বছর পর শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তিনি সেখানে রাতের খাবার শেষে বাইরে অপেক্ষারত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন এবং ধানের শীষে ভোট চান। ২০০৪ সালের পর এটি তার প্রথম শ্বশুরবাড়ি সফর ছিল, যা ঘিরে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।
বৃহস্পতিবারের কর্মসূচি:
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তিনি সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠের জনসভায় ভাষণ দেবেন। এরপর দুপুরে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ; বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জ; সন্ধ্যায় নরসিংদী এবং রাতে নারায়ণগঞ্জে একাধিক নির্বাচনি সমাবেশে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে রাত ১০টার দিকে গুলশানের বাসভবনে ফেরার কথা রয়েছে তার।
আলিয়া মাদরাসা মাঠে এখন শুধুই অপেক্ষা—একটি বড় রাজনৈতিক জমায়েতের, একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনি বার্তার। রাত জেগে সেই অপেক্ষায় আছেন হাজারো নেতাকর্মী, যাদের চোখে-মুখে একটাই আকাঙ্ক্ষা—তাদের নেতাকে সামনে থেকে দেখা, তার কণ্ঠে শোনা আগামী দিনের স্বপ্ন।
রিপোর্টারের নাম 
























