জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান একটি প্রচলিত ধারণার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, “বলা হয়, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারীরা আর বাড়ি থেকে বের হতে পারবে না। কিন্তু আজ দেখেন, এই সমাবেশেই এক পাশে পুরুষ, আরেক পাশে হাজার হাজার নারী উপস্থিত।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা বলি, জামায়াত ক্ষমতায় এলে নারীরা আরও দুটি বাড়তি জিনিস নিয়ে চলাফেরা ও কাজ করতে পারবে। সেই দুটি জিনিস হলো সম্মান ও নিরাপত্তা, যা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছিল না।” শনিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে দিনাজপুরের গোরে শহীদ ময়দানে আয়োজিত এক কর্মী সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান এই কথাগুলো বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “দেশে ঘটা প্রতিটি খুন, চাঁদাবাজি, লুটপাট ও ঘুষের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার করতে হবে। তা না হলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব না। যারা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান দিয়ে এই দেশকে মুক্ত করেছেন, আমরা তাদের সাথেই আছি। আমরা এই দেশ তরুণদের হাতে তুলে দিতে চাই।”
নেতাদের ফাঁসির প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “তারা আমাদের ১১ জন শীর্ষ নেতাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে। এই দিনাজপুরেরই একজন বিচারক ছিলেন যিনি বলতেন, তিনি নাকি ‘শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ’। কিন্তু আমরা তাকে বলি ‘শপথ ভঙ্গের বিচারপতি’। এই কারণেই তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হওয়া সম্ভব।”
শাপলা চত্বরের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বলা হয়, শাপলা চত্বরে নাকি কোনো আলেমকে হত্যা করা হয়নি। সেখানে আলেমরা নিজেরাই নাকি রং ছিটিয়েছিলেন। একজন প্রধানমন্ত্রী কতটা নির্লজ্জ হলে এমন কথা বলতে পারেন! তারা ভেবেছিল জামায়াতের কর্মীদের গুম-খুন করে মাটির নিচে পুঁতে ফেলবে। কিন্তু আজ তারা কোথায়? তারা দেশের বন্যাদুর্গত মানুষদের পাশে দাঁড়াতেও আমাদের বাধা দিয়েছে। তারা নিজেরাও কিছু করেনি, আমাদেরও কিছু করতে দেয়নি।”
হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আজ এখানে অন্য সম্প্রদায়ের দুজন বক্তব্য রেখেছেন। তারা বলেছেন, তারা এমন একটি বাংলাদেশ চান যেখানে কোনো আতঙ্ক থাকবে না। নির্বাচনের পরে কোনো হামলা-মামলা হবে না এবং সনাতন ধর্মের মানুষেরা আতঙ্ক ছাড়াই থাকতে পারবেন। আমি তাদের বলতে চাই, আপনারা এমন একটি দল খুঁজে বের করুন, যারা আপনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে। একটু বিবেক খাটিয়ে খুঁজলেই সেই দলকে আপনারা পেয়ে যাবেন।”
তিনি আরও যোগ করেন, “রংপুরের পীরগঞ্জে গরু চুরি, জমি দখল এবং হিন্দুদের বাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনায় কোনো তদন্ত হওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলে দিলেন যে জামায়াত এই আগুন লাগিয়েছে। কিন্তু ঘটনার দুদিন পরেই, যারা এই জুলুমের শিকার হয়েছিলেন, সেই হিন্দুরাই বললেন যে জামায়াতের কেউ সেখানে আসেনি।”
জামায়াতে ইসলামী দিনাজপুর জেলা শাখার আমির অধ্যক্ষ আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে এই কর্মী সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিমসহ অন্যান্য নেতারা।
রিপোর্টারের নাম 























