ঢাকা ১০:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

আমরা ভয়ভীতিমুক্ত সুষ্ঠু নির্বাচন চাই: জামায়াত আমির

ভোটভীতিমুক্ত নির্বাচন চায় জামায়াত, চায় জনমতের প্রতিফলন

ঢাকা: আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ভয়ভীতিমুক্ত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ দেখতে চায় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই নির্বাচনে জনমতের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটবে এবং ভোটাররা কোনো প্রকার আশঙ্কা ছাড়াই নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর কল্যাণপুরে অবস্থিত ইবনেসিনা হাসপাতালে দলের আহত কর্মীদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার মিরপুরের পীরেরবাগ এলাকায় একটি হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াত-শিবিরের ১৬ জন কর্মী আহত হয়েছেন বলে দলটি দাবি করেছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জামায়াত আমির বলেন, “মঙ্গলবার কাফরুলের পীরেরবাগ এলাকায় সকাল ও বিকেলে দুটি পৃথক ঘটনা ঘটেছে। উভয় incidents-এই জামায়াতের নারী কর্মী ও দায়িত্বশীলদের ওপর বিএনপি পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। তাদেরকে অবরুদ্ধও করে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে এবং আমাদের কর্মীদের সহায়তায় তারা মুক্তি পান। কিন্তু এরপরও তারা ক্ষান্ত হয়নি, দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের কর্মীদের ওপর আক্রমণ করে। এতে অন্তত ১৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসা চলছে।”

ডা. শফিকুর রহমান প্রশ্ন তোলেন, “নির্বাচনি প্রচার শুরু হওয়ার প্রাক্কালে কেন এমন ঘটনা ঘটল? যদি আমাদের কোনো প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেন, তবে কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারে। তারা আমাদের সতর্ক করতে পারে, আমাদের কাছে ব্যাখ্যা চাইতে পারে, অথবা অন্য কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে। কিন্তু এ ধরনের জনসমাগম সৃষ্টি করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার অধিকার কোনো ব্যক্তি বা দলের নেই। আমরা এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমান বিশ্ব অত্যন্ত সচেতন। জনসমাগম সৃষ্টি করে জনমতকে প্রভাবিত করার দিন শেষ। প্রত্যেক ব্যক্তি ও দলকেই তাদের বক্তব্য, দলের কার্যক্রম এবং নিজেদের চরিত্র নিয়ে জনগণের সামনে যেতে হবে। জনগণ অতীত ও বর্তমান বিবেচনা করে কাকে আস্থা দেওয়া যায়, সেই সিদ্ধান্ত নেবে।”

জামায়াত আমিরের স্পষ্ট বক্তব্য, “আমরা দুর্নীতি ও দুঃশাসনমুক্ত, ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়তে চাই, যেখানে ফ্যাসিবাদ আর ফিরে আসবে না। আমি ৩০০ আসনের সকল প্রার্থীকে আহ্বান জানাই, দয়া করে জনগণের প্রতি আস্থা রাখুন। জনগণকে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিন। এতে যিনিই নির্বাচিত হন না কেন, সকল দলের উচিত তাকে সহযোগিতা করা এবং অভিনন্দন জানানো। কিন্তু যদি সাড়ে পনেরো বছর আগের মতো সবকিছু ওলটপালট করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তাহলে এই সচেতন যুব সমাজ কাউকে ক্ষমা করবে না। তারা তাদের বুকের রক্ত দিয়ে এই পরিবর্তন এনেছে।”

তিনি বলেন, “বিগত সময়ে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। যদি আবারও কেউ এমনটি করার চেষ্টা করে, তবে জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে তার উপযুক্ত জবাব দেবে। আসুন, আমরা একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনে সহযোগিতা করি। জামায়াতে ইসলামী এই বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ।”

যারা নারী ও পুরুষদের ওপর হাত তুলেছে, তাদের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, “তাদের কি মা-বোন নেই? যদি তারা সম্মান জানানোর শিক্ষা না পেয়ে থাকে, তবে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমরা এমন নোংরা ঘটনা আর শুনতে চাই না। আমরা নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে বলব, যদি সুষ্ঠু নির্বাচনের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে চান, তবে আপনাদের দায়িত্ব অবশ্যই পালন করতে হবে। সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। যারা সন্ত্রাস ও দুর্বৃত্তপনা করবে, তাদের পরিচয় নির্বিশেষে আইনের আওতায় আনতে হবে।”

তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে আমরা মামলা-মোকদ্দমায় যাচ্ছি না, কারণ মামলা-মোকদ্দমা কোনো সমাধান নয়। কিন্তু আমাদেরকে যদি বাধ্য করা হয়, তবে আমরা তা করতেও পিছপা হব না। তবে আমরা সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমেই এর মোকাবিলা করব।”

“মায়েদের গায়ে হাত দেওয়া হলো, মসজিদ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হলো আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখল – এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে? আমরা এর পুনরাবৃত্তি আর দেখতে চাই না। সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করুক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আমরা প্রশাসনকে সব ধরনের সহযোগিতা দেব,” যোগ করেন তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, “চোখে অন্ধকার দেখলে মাথা গরম হওয়া স্বাভাবিক। আমরা আমাদের জনগণের প্রতি আস্থাশীল। এই বাংলাদেশ মানবিক, যুব সমাজের আকাঙ্ক্ষার এবং মা-বোনদের নিরাপত্তার বাংলাদেশ। যুব সমাজের জন্য কর্মসংস্থানের যে অঙ্গীকার জামায়াত করেছে, তা যদি কারো মাথা গরমের কারণ হয়ে থাকে, তবে আমরা বলব – আপনারা আরও ভালো কিছু নিয়ে আসুন। জনগণ যদি তা গ্রহণ করে, তবে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু আমাদের কর্মসূচিতে বাধা দেবেন না, আমাদের কাজ করতে দিন।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদরাসা শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়া: সফটওয়্যার উন্নয়ন কাজের জন্য আবেদন স্থগিত

আমরা ভয়ভীতিমুক্ত সুষ্ঠু নির্বাচন চাই: জামায়াত আমির

আপডেট সময় : ১০:৪৫:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

ভোটভীতিমুক্ত নির্বাচন চায় জামায়াত, চায় জনমতের প্রতিফলন

ঢাকা: আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ভয়ভীতিমুক্ত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ দেখতে চায় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই নির্বাচনে জনমতের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটবে এবং ভোটাররা কোনো প্রকার আশঙ্কা ছাড়াই নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর কল্যাণপুরে অবস্থিত ইবনেসিনা হাসপাতালে দলের আহত কর্মীদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার মিরপুরের পীরেরবাগ এলাকায় একটি হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াত-শিবিরের ১৬ জন কর্মী আহত হয়েছেন বলে দলটি দাবি করেছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জামায়াত আমির বলেন, “মঙ্গলবার কাফরুলের পীরেরবাগ এলাকায় সকাল ও বিকেলে দুটি পৃথক ঘটনা ঘটেছে। উভয় incidents-এই জামায়াতের নারী কর্মী ও দায়িত্বশীলদের ওপর বিএনপি পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। তাদেরকে অবরুদ্ধও করে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে এবং আমাদের কর্মীদের সহায়তায় তারা মুক্তি পান। কিন্তু এরপরও তারা ক্ষান্ত হয়নি, দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের কর্মীদের ওপর আক্রমণ করে। এতে অন্তত ১৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসা চলছে।”

ডা. শফিকুর রহমান প্রশ্ন তোলেন, “নির্বাচনি প্রচার শুরু হওয়ার প্রাক্কালে কেন এমন ঘটনা ঘটল? যদি আমাদের কোনো প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেন, তবে কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারে। তারা আমাদের সতর্ক করতে পারে, আমাদের কাছে ব্যাখ্যা চাইতে পারে, অথবা অন্য কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে। কিন্তু এ ধরনের জনসমাগম সৃষ্টি করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার অধিকার কোনো ব্যক্তি বা দলের নেই। আমরা এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমান বিশ্ব অত্যন্ত সচেতন। জনসমাগম সৃষ্টি করে জনমতকে প্রভাবিত করার দিন শেষ। প্রত্যেক ব্যক্তি ও দলকেই তাদের বক্তব্য, দলের কার্যক্রম এবং নিজেদের চরিত্র নিয়ে জনগণের সামনে যেতে হবে। জনগণ অতীত ও বর্তমান বিবেচনা করে কাকে আস্থা দেওয়া যায়, সেই সিদ্ধান্ত নেবে।”

জামায়াত আমিরের স্পষ্ট বক্তব্য, “আমরা দুর্নীতি ও দুঃশাসনমুক্ত, ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়তে চাই, যেখানে ফ্যাসিবাদ আর ফিরে আসবে না। আমি ৩০০ আসনের সকল প্রার্থীকে আহ্বান জানাই, দয়া করে জনগণের প্রতি আস্থা রাখুন। জনগণকে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিন। এতে যিনিই নির্বাচিত হন না কেন, সকল দলের উচিত তাকে সহযোগিতা করা এবং অভিনন্দন জানানো। কিন্তু যদি সাড়ে পনেরো বছর আগের মতো সবকিছু ওলটপালট করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তাহলে এই সচেতন যুব সমাজ কাউকে ক্ষমা করবে না। তারা তাদের বুকের রক্ত দিয়ে এই পরিবর্তন এনেছে।”

তিনি বলেন, “বিগত সময়ে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। যদি আবারও কেউ এমনটি করার চেষ্টা করে, তবে জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে তার উপযুক্ত জবাব দেবে। আসুন, আমরা একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনে সহযোগিতা করি। জামায়াতে ইসলামী এই বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ।”

যারা নারী ও পুরুষদের ওপর হাত তুলেছে, তাদের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, “তাদের কি মা-বোন নেই? যদি তারা সম্মান জানানোর শিক্ষা না পেয়ে থাকে, তবে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমরা এমন নোংরা ঘটনা আর শুনতে চাই না। আমরা নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে বলব, যদি সুষ্ঠু নির্বাচনের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে চান, তবে আপনাদের দায়িত্ব অবশ্যই পালন করতে হবে। সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। যারা সন্ত্রাস ও দুর্বৃত্তপনা করবে, তাদের পরিচয় নির্বিশেষে আইনের আওতায় আনতে হবে।”

তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে আমরা মামলা-মোকদ্দমায় যাচ্ছি না, কারণ মামলা-মোকদ্দমা কোনো সমাধান নয়। কিন্তু আমাদেরকে যদি বাধ্য করা হয়, তবে আমরা তা করতেও পিছপা হব না। তবে আমরা সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমেই এর মোকাবিলা করব।”

“মায়েদের গায়ে হাত দেওয়া হলো, মসজিদ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হলো আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখল – এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে? আমরা এর পুনরাবৃত্তি আর দেখতে চাই না। সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করুক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আমরা প্রশাসনকে সব ধরনের সহযোগিতা দেব,” যোগ করেন তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, “চোখে অন্ধকার দেখলে মাথা গরম হওয়া স্বাভাবিক। আমরা আমাদের জনগণের প্রতি আস্থাশীল। এই বাংলাদেশ মানবিক, যুব সমাজের আকাঙ্ক্ষার এবং মা-বোনদের নিরাপত্তার বাংলাদেশ। যুব সমাজের জন্য কর্মসংস্থানের যে অঙ্গীকার জামায়াত করেছে, তা যদি কারো মাথা গরমের কারণ হয়ে থাকে, তবে আমরা বলব – আপনারা আরও ভালো কিছু নিয়ে আসুন। জনগণ যদি তা গ্রহণ করে, তবে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু আমাদের কর্মসূচিতে বাধা দেবেন না, আমাদের কাজ করতে দিন।”