লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে বড় ষড়যন্ত্র চলছে। রবিবার (২৬ অক্টোবর) এলডিপির ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম নিয়ে অনেকেই ষড়যন্ত্র করছে। আমি সেনাপ্রধানকে বলবো, আপনারা কারও কথা শুনবেন না। এটা বাংলাদেশেরই অংশ। সন্তু লারমার কথায় দেশ চলবে না। যেখানে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই ক্যাম্প স্থাপন করুন, এটাই আপনার দায়িত্ব। প্রতিটি ইঞ্চি জায়গা আমাদের ভূখণ্ড, এটা আমাদের রক্ষা করতেই হবে।”
অলি আহমদ আরও দাবি করেন, ” বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য বিদেশ থেকে টাকা আসছে। সরকারের অদক্ষতার সুযোগ নিয়ে একটি গোষ্ঠী কিছুদিন পরপর রাস্তাঘাট আটকে আন্দোলন করছে।” তিনি অভিযোগ করেন, “আওয়ামী লীগের বড় বড় ব্যবসায়ী ও নেতারা দেশ থেকে টাকা লুণ্ঠন করেছেন। তারা এখন বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন এবং সেই টাকা তারা শেখ হাসিনার কাছে পাঠাচ্ছেন। এটা আমার কাছে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে বলছি, কোনো আন্দাজে বলছি না।”
তিনি বলেন, “দেশের রাজনীতিবিদদের দুর্নীতি আর অদূরদর্শিতার কারণেই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পেরেছে। শেখ হাসিনা ‘র’ এবং ভারত সরকারের সহায়তায় সরকার গঠন করেছেন। একজন রাজনীতিবিদের অবশ্যই বুঝতে হবে আগামী মাসে, ছয় মাস পর বা দুই বছর পর কী ঘটতে পারে। যারা এটা বুঝতে পারে না, তাদের দিয়ে রাজনীতি হয় না, চাঁদাবাজি হয়।”
শেখ হাসিনার সমালোচনা করে এলডিপির প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, “জনগণের ওপর তার (শেখ হাসিনা) কোনো আস্থা ছিল না… আজ তাকে ভারত আশ্রয় দিয়েছে। তাহলে ভারত কীভাবে আমাদের বন্ধু হতে পারে? তারাই তো বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষকে লুণ্ঠন করেছে, দেশের মানুষকে ভিখারিতে পরিণত করেছে। দেশটাকে একটা আইনের শাসনহীন, ন্যায়বিচারহীন লুটপাটের রাজ্যে পরিণত করা হয়েছে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ বলেন, “১৯৭১ সালে এদেশের দামাল ছেলেরা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। বাংলাদেশ একবারই স্বাধীন হয়েছে। জুলাই বা আগস্ট মাসকে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা উচিত নয়।”
আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে এলডিপির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. জেনারেল (অব.) চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী, যুগ্ম মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজি এবং ফারজানা রশীদ ব্রাউনিয়াও বক্তব্য রাখেন।
রিপোর্টারের নাম 























